
নিজস্ব সংবাদদাতা
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক পাখি ও মাছ শিকারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ক২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খোদ্দ বিলাইচণ্ডী এলাকার ডালিয়া সেচ খালের পাশে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম জাবেদ আলী (৬০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগতভাবে মাছ ও পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পীরপাড়া গ্রামে।
নিহতের চাচাত ভাই রমজান আলী জানান, জাবেদ আলী নিয়মিত রাতের বেলা পাখি ও মাছ শিকারে বের হতেন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে একটি মোবাইল ফোনকল পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো আগের মতোই পাখি শিকারে গেছেন এবং ভোর বা সকালে ফিরে আসবেন। কিন্তু বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মাধ্যমে খবর আসে, বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে খোদ্দ বিলাইচণ্ডী এলাকায় ডালিয়া সেচ ক্যানেলের পাশে একটি মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিবারের লোকজন জাবেদ আলীর গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহত জাবেদের স্ত্রী উম্মে কুলসুম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। এলাকার কারো সঙ্গে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদও ছিল না। তিনি প্রায়ই রাতে পাখি ও মাছ শিকারে বের হতেন। ভোর বা সকালে বাড়ি ফিরতেন।”
তিনি আরও বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বের হওয়ার সময় বলেছিলেন, ডালিয়া সেচ খালে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। কে তাকে মোবাইলে ফোন করেছিল, সেটা তিনি আমাকে বলেননি। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার গলাকাটা লাশ দেখি।”
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে প্রথমে সৈয়দপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তারাগঞ্জ থানা-পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “পাখি ও মাছ শিকারী জাবেদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, কললিস্ট বিশ্লেষণ করে রহস্যজনক ফোনকলসহ অন্যান্য কলের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মো: রশিদুল ইসলাম 














