পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে ধাপ্পরের পর ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব (প্রতিবেদক)
লালমনিরহাটে পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে ধাপ্পর মারার পর এবার ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান এ ঘটনা ঘটান। এদিকে তাঁর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফুয়েল কার্ডের গরমিলের অজুহাতে এক মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাম্পে লাঠি হাতে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত পরশুদিনের (২১ এপ্রিল) বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত ‘মোজাহার ফিলিং স্টেশনে’ ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানকে হাতে লাঠি নিয়ে তদারকি করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার মারমুখী অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণের দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামের এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসে ইউএনও’র হাতে লাঞ্ছিত হন ওই যুবক।

অভিযোগকারী নদী বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিকেলে লাঠি নিয়ে আসার বিষয় ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভি না করে কেটে দেন।

এদিকে “অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু বর্তমান কর্মস্থলেই নয়, বরং তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতেও রয়েছে। কালাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভূয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৪)। অভিযোগ রয়েছে, কালাইয়ে থাকাকালীন কোনো যাচাই ছাড়াই ভূয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি এই বিশাল অংকের টাকা লোপাটে সহায়তা করেছিলেন।

এবার সাধারণ মানুষের সাথে ‘লাঠি হাতে’ তার এই আচরণ জেলাজুড়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইউএনও’র আচরণ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর বিষয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে ধাপ্পরের পর ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও ভাইরাল

আপডেট টাইম : ০৩:১৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব (প্রতিবেদক)
লালমনিরহাটে পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে ধাপ্পর মারার পর এবার ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান এ ঘটনা ঘটান। এদিকে তাঁর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফুয়েল কার্ডের গরমিলের অজুহাতে এক মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাম্পে লাঠি হাতে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত পরশুদিনের (২১ এপ্রিল) বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত ‘মোজাহার ফিলিং স্টেশনে’ ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানকে হাতে লাঠি নিয়ে তদারকি করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার মারমুখী অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণের দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামের এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসে ইউএনও’র হাতে লাঞ্ছিত হন ওই যুবক।

অভিযোগকারী নদী বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিকেলে লাঠি নিয়ে আসার বিষয় ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভি না করে কেটে দেন।

এদিকে “অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু বর্তমান কর্মস্থলেই নয়, বরং তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতেও রয়েছে। কালাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভূয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৪)। অভিযোগ রয়েছে, কালাইয়ে থাকাকালীন কোনো যাচাই ছাড়াই ভূয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি এই বিশাল অংকের টাকা লোপাটে সহায়তা করেছিলেন।

এবার সাধারণ মানুষের সাথে ‘লাঠি হাতে’ তার এই আচরণ জেলাজুড়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইউএনও’র আচরণ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর বিষয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।