অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১ Logo আরিফুল হত্যার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিটের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর Logo বিআরটিএ’র পাবলিক সার্ভিস ডেস্কে বেনামী চিঠির পাহাড়, ব্ল্যাকমেইলের শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা Logo লালমনিরহাট শুন্যরেখায় বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেরত দিল বিজিবি Logo হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের সদস্যের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি, অস্ত্র-ওয়াকিটকি উদ্ধার Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৭ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক Logo গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি আবদুস শহিদ: স্মরণসভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ Logo জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময় দিলো বিআরটিএ Logo লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালক গ্রেপ্তার Logo রেজিস্ট্রেশন সেক্টরের ‘ডন’ মাইকেল ও স্ত্রী জান্নাত নীলার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১

ডেস্ক : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৪০০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যার পানির স্রোতে বেশ কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো।

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৩ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস হয়। পরে গলে যাওয়া তুষার ও বিপুল পরিমাণ পানি ভুটে কোশি নদীতে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। বিবিসির খবর।

নেপাল ও তিব্বত, দুই দিকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার সময় ওই এলাকায় থাকা ২৯১ জন পর্যটক ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিকের অবস্থান এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।

বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোতে গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, সব নিরাপত্তা সংস্থা একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

ভুটে কোশি নদীর নিচের দিকে থাকা বেশ কয়েকটি এলাকাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

কাঠমান্ডুতে থাকা এক চীনা ব্যবসায়ী বিবিসিকে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানের সাতটি পণ্যবাহী ট্রাক ছিল। ট্রাকগুলোর সব কর্মীই নেপালি। তাদের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ওই এলাকায় বন্যার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। বর্ষাকালে সেখানে মাঝেমধ্যে ভূমিধস হলেও এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে।

তিব্বতের অংশে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো জানা যায়নি। সেখানে সড়ক ও সেতু নির্মাণের কাজে থাকা এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠকের পর জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সদস্যদের সমন্বয় করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ এবং ৪৪ জন সেনাসদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

রাসুয়া এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ভেঙে সৃষ্ট সেই বন্যায় ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা গত বছরের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও তিব্বত, দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

সূত্র : বিবিসি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১

আপডেট টাইম : ০৫:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ডেস্ক : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৪০০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যার পানির স্রোতে বেশ কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো।

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৩ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস হয়। পরে গলে যাওয়া তুষার ও বিপুল পরিমাণ পানি ভুটে কোশি নদীতে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। বিবিসির খবর।

নেপাল ও তিব্বত, দুই দিকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার সময় ওই এলাকায় থাকা ২৯১ জন পর্যটক ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিকের অবস্থান এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।

বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোতে গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, সব নিরাপত্তা সংস্থা একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

ভুটে কোশি নদীর নিচের দিকে থাকা বেশ কয়েকটি এলাকাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

কাঠমান্ডুতে থাকা এক চীনা ব্যবসায়ী বিবিসিকে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানের সাতটি পণ্যবাহী ট্রাক ছিল। ট্রাকগুলোর সব কর্মীই নেপালি। তাদের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ওই এলাকায় বন্যার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। বর্ষাকালে সেখানে মাঝেমধ্যে ভূমিধস হলেও এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে।

তিব্বতের অংশে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো জানা যায়নি। সেখানে সড়ক ও সেতু নির্মাণের কাজে থাকা এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠকের পর জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সদস্যদের সমন্বয় করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ এবং ৪৪ জন সেনাসদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

রাসুয়া এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ভেঙে সৃষ্ট সেই বন্যায় ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা গত বছরের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও তিব্বত, দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

সূত্র : বিবিসি