
ফারুক আহমেদ সুজন: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়গুলোতে ভুয়া ও নামসর্বস্ব পত্রিকার ও নিবন্ধনহীন অনলাইন- ফেসবুক পেইজ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। তথাকথিত এসব সাংবাদিকদের অনৈতিক দাবি পূরণ না করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে বেনামী অভিযোগ ও উড়ো চিঠি পাঠানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। প্রতিদিনের এমন হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিআরটিএ-র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 
সরেজমিনে বিআরটিএ-র বিভিন্ন সার্কেল অফিস ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন একাধিক ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তারা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে গোপন চুক্তির প্রস্তাব দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা তাদের কথামতো কাজ না করলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে কাল্পনিক দুর্নীতির গল্প বানিয়ে বেনামী চিঠি পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। সরেজমিনে বিআরটিএ মিরপুরে গিয়ে দেখা যায় গত সোমবার মালিকানা বদলী শাখা, রেজিস্ট্রেশন শাখা ও লাইসেন্স শাখায় বিকেল ৩ ঘটিকায় গ্রাহকের চেয়ে বেশি নামধারী সাংবাদিক,ভূয়া সাংবাদিক ফেসবুক পেজ সাংবাদিকগন বিআরটিএতে অবস্থান করছে বিভিন্ন রুমে দল বেধে চাঁদা দাবী করছে এবং এই চাঁদাবাজদের জ্বালায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তারা চরম অসহায়ত্ব বোধ করছে এবং অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বিআরটিএ-র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা নিয়মিত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু ভুয়া আইডি কার্ড ঝুলিয়ে একশ্রেণীর চক্র এসে টেবিল চাপড়ে টাকা দাবি করে। টাকা না পেলেই শুরু হয় চিঠির খেলা। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেনামী চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা তদন্ত করতে গিয়ে আমাদের মূল দাপ্তরিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্রের পেছনে কিছু সুযোগসন্ধানী দালালও জড়িত রয়েছে। তারা বিআরটিএ-র শৃঙ্খলা নষ্ট করে নিজেদের সুবিধা হাসিল করতে এসব ভুয়া সাংবাদিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে একদিকে যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের ভাবমূর্তিও চরম সংকটে পড়ছে।
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকৃত সাংবাদিকদের দায়িত্বপালনে তারা সবসময় সহযোগিতা করে থাকেন। তবে কোনো ভুয়া সাংবাদিক বা ব্ল্যাকমেইলার যাতে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে এসব ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনা হোক।
ফারুক আহমেদ সুজন 



















