পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ত্রাণ নয়, বেড়িবাঁধ চায় বরগুনার মানুষ

বরগুনা: ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়ি-ঘর লন্ড ভন্ড করে নিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।

এদিকে সিডরের ৭ বছর অতিবাহিত হলেও বরগুনার ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো এখনও সংষ্কার হয়নি। যার কারণে প্রতিনিয়ত আতংকে রয়েছে বরগুনা জেলার ১০ লাখ মানুষ।

বর্তমানে যেসব বাঁধ আছে সেগুলোও খুব নাজুক হওয়ায় তা বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে উপযোগী নয়। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তলিয়ে যায় উপকূলের সব ঘর-বাড়ি। এসব ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দ্রুত সংষ্কার বা পুন:নির্মান না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আবারো অসংখ্য জীবন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে এই জেলার মানুষ।

১৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে প্রচণ্ড বেগে উপকূলে আঘাত হানে স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর। মাত্র আধা ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড হয় যায় উপকূল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহুর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

এছাড়া সরকারি হিসাবে অনুযায়ী উপকূলীয় জেলা বরগুনার ১ হাজার ৩৪৫ জন মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ১শ’ ৫৬ জন।

তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০। এছাড়া ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ পরিবারে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৫৪ টি। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর, গবাদি পশু মারা গেছে ৩০ হাজার ৪৯৯ টি, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৩৫ টি, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ৪২০ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজ/কালভার্ট ১ হাজার ৭৯৭ মিটার।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের সিডরের সময় জেলার ২২ টি পোল্ডারের সাড়ে ৯০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার স¤পূর্ণ এবং ৩৯৬ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্তমানেও জেলার ২২ টি পোল্ডারে ১৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে। আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ২১২ কিলোমিটার। এসব ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে প্রত্যেক অমাবস্যা এবং পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। এখনও ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ বসবাস করছে।

একদিকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অন্যদিকে কৃষি ও মৎস্য নির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় লবন পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে রবি শষ্য ও ধান। তাই ৭ বছর আগে সিডর গেলেও আতঙ্ক কাটেনি বরগুনা উপকূলের মানুষের। তাদের দাবি ত্রাণ চাইনা দ্রুত বাঁধ নির্মাণ চাই।

১৯ কবরে ৩৩ লাশ : সিডর স্মৃতি

বরগুনা সদর উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার নাম নলটোনা। যেখানে সিডরের এক বছর আগে থেকেই বেড়িবাঁধ ছিলনা। সিডরের সময় সেখানে ২০ ফুটের মতো পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরের দিনই সেখানে অর্ধ শতাধিক মানুষের লাশ পাওয়া যায়। তখনও এলাকাটি পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছিল। লাশ দাফনের জন্য কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। লাশগুলো নিয়ে আসা হয় বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের পাশে পশ্চিম গর্জনবুনিয়া গ্রামে।

এছাড়া দাফনের কাপড় ছাড়াই ৩৩ জনকে ১৯ টি কবরে মাটি চাঁপা দেয়া হয়। জায়গার অভাবে ৫ টি কবরে ৩ জন করে ১৫ জন, ৪ টি কবরে ২ জন করে ৮ জন ও ১০ টি কবরে ১ জন করে ১০ জনের লাশ দাফন করা হয়। তবে কবরগুলোকে একটু উঁচু করে রাখা হয়েছে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম সম্প্রতি ইট দিয়ে কবর স্থানটি ঘিরে দিয়েছে। সারিবদ্ধ কবর দেখে মানুষ এসে থমকে দাঁড়ায়। কেউ কেউ কান্না চেঁপে রাখতে পারেনা। সিডরের সেই ভয়াল স্মৃতি বহন করছে এই কবরগুলো।

কবরগুলোতে শুয়ে আছেন- নলটোনা গ্রামের তাসলিমার বাবা আবদুর রশিদ (৫৫), মা আম্বিয়া খাতুন (৫০), ছেলে আল আমিন (৭), ফোরকানের বাবা দিন আলী (৬৫), হাসি বেগমের মেয়ে শাহিনুর (৪), শাহজাহানের মা তারাভানু (৬০), মেয়ে খাদিজা আক্তার (৩), আনিসের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩০), ছেলে আবু বকর (৩), রফেজ উদ্দিনের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৫), মাসুমের মা হেলেনা আক্তার (৩০), বাদলের মা লালবরু (৬৭), বাবুলের মেয়ে জাকিয়া আক্তার (৮), আবদুস সত্তারের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন (৩০), ছেলে রেজাউল (১২), রেজবুল (৭), মেয়ে সাবিনা (৯), সগির হোসেনের মেয়ে সোনিয়া আক্তার (৩), আবদুর রবের ছেলে হোসেন আলী (১২), মেয়ে ময়না (৭), হোসনেয়ারা (৫), শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫০), সরোয়ারের স্ত্রী জাকিয়া আক্তার (৩০), মেয়ে রোজিনা (৪), ছত্তারের স্ত্রী বেগম (৫০), পুত্রবধূ নাজমা আক্তার (৩০), নাতি পারভেজ (৪), নাসির উদ্দিনের স্ত্রী হোসনেয়ারা (২৬) ও গর্জনবুনিয়া গ্রামের গনি বিশ্বাসের ছেলে জাহিদ হোসেন (৫) ও খাদিজা আক্তার (৩০)। বাকি ৩ জনের নাম আজো জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বরগুনা প্রেসক্লাব সিডর দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় নিহতদের উদ্দেশ্যে করা হবে শোক র‌্যালী। সাড়ে ৯ টায় পশ্চিম গর্জনবুনিয়া গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণ সভা।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ত্রাণ নয়, বেড়িবাঁধ চায় বরগুনার মানুষ

আপডেট টাইম : ০২:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

বরগুনা: ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়ি-ঘর লন্ড ভন্ড করে নিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।

এদিকে সিডরের ৭ বছর অতিবাহিত হলেও বরগুনার ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো এখনও সংষ্কার হয়নি। যার কারণে প্রতিনিয়ত আতংকে রয়েছে বরগুনা জেলার ১০ লাখ মানুষ।

বর্তমানে যেসব বাঁধ আছে সেগুলোও খুব নাজুক হওয়ায় তা বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে উপযোগী নয়। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তলিয়ে যায় উপকূলের সব ঘর-বাড়ি। এসব ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দ্রুত সংষ্কার বা পুন:নির্মান না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আবারো অসংখ্য জীবন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে এই জেলার মানুষ।

১৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে প্রচণ্ড বেগে উপকূলে আঘাত হানে স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর। মাত্র আধা ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড হয় যায় উপকূল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহুর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

এছাড়া সরকারি হিসাবে অনুযায়ী উপকূলীয় জেলা বরগুনার ১ হাজার ৩৪৫ জন মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ১শ’ ৫৬ জন।

তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০। এছাড়া ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ পরিবারে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৫৪ টি। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর, গবাদি পশু মারা গেছে ৩০ হাজার ৪৯৯ টি, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৩৫ টি, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ৪২০ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজ/কালভার্ট ১ হাজার ৭৯৭ মিটার।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের সিডরের সময় জেলার ২২ টি পোল্ডারের সাড়ে ৯০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার স¤পূর্ণ এবং ৩৯৬ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্তমানেও জেলার ২২ টি পোল্ডারে ১৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে। আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ২১২ কিলোমিটার। এসব ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে প্রত্যেক অমাবস্যা এবং পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। এখনও ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ বসবাস করছে।

একদিকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অন্যদিকে কৃষি ও মৎস্য নির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় লবন পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে রবি শষ্য ও ধান। তাই ৭ বছর আগে সিডর গেলেও আতঙ্ক কাটেনি বরগুনা উপকূলের মানুষের। তাদের দাবি ত্রাণ চাইনা দ্রুত বাঁধ নির্মাণ চাই।

১৯ কবরে ৩৩ লাশ : সিডর স্মৃতি

বরগুনা সদর উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার নাম নলটোনা। যেখানে সিডরের এক বছর আগে থেকেই বেড়িবাঁধ ছিলনা। সিডরের সময় সেখানে ২০ ফুটের মতো পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরের দিনই সেখানে অর্ধ শতাধিক মানুষের লাশ পাওয়া যায়। তখনও এলাকাটি পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছিল। লাশ দাফনের জন্য কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। লাশগুলো নিয়ে আসা হয় বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের পাশে পশ্চিম গর্জনবুনিয়া গ্রামে।

এছাড়া দাফনের কাপড় ছাড়াই ৩৩ জনকে ১৯ টি কবরে মাটি চাঁপা দেয়া হয়। জায়গার অভাবে ৫ টি কবরে ৩ জন করে ১৫ জন, ৪ টি কবরে ২ জন করে ৮ জন ও ১০ টি কবরে ১ জন করে ১০ জনের লাশ দাফন করা হয়। তবে কবরগুলোকে একটু উঁচু করে রাখা হয়েছে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম সম্প্রতি ইট দিয়ে কবর স্থানটি ঘিরে দিয়েছে। সারিবদ্ধ কবর দেখে মানুষ এসে থমকে দাঁড়ায়। কেউ কেউ কান্না চেঁপে রাখতে পারেনা। সিডরের সেই ভয়াল স্মৃতি বহন করছে এই কবরগুলো।

কবরগুলোতে শুয়ে আছেন- নলটোনা গ্রামের তাসলিমার বাবা আবদুর রশিদ (৫৫), মা আম্বিয়া খাতুন (৫০), ছেলে আল আমিন (৭), ফোরকানের বাবা দিন আলী (৬৫), হাসি বেগমের মেয়ে শাহিনুর (৪), শাহজাহানের মা তারাভানু (৬০), মেয়ে খাদিজা আক্তার (৩), আনিসের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩০), ছেলে আবু বকর (৩), রফেজ উদ্দিনের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৫), মাসুমের মা হেলেনা আক্তার (৩০), বাদলের মা লালবরু (৬৭), বাবুলের মেয়ে জাকিয়া আক্তার (৮), আবদুস সত্তারের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন (৩০), ছেলে রেজাউল (১২), রেজবুল (৭), মেয়ে সাবিনা (৯), সগির হোসেনের মেয়ে সোনিয়া আক্তার (৩), আবদুর রবের ছেলে হোসেন আলী (১২), মেয়ে ময়না (৭), হোসনেয়ারা (৫), শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫০), সরোয়ারের স্ত্রী জাকিয়া আক্তার (৩০), মেয়ে রোজিনা (৪), ছত্তারের স্ত্রী বেগম (৫০), পুত্রবধূ নাজমা আক্তার (৩০), নাতি পারভেজ (৪), নাসির উদ্দিনের স্ত্রী হোসনেয়ারা (২৬) ও গর্জনবুনিয়া গ্রামের গনি বিশ্বাসের ছেলে জাহিদ হোসেন (৫) ও খাদিজা আক্তার (৩০)। বাকি ৩ জনের নাম আজো জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বরগুনা প্রেসক্লাব সিডর দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় নিহতদের উদ্দেশ্যে করা হবে শোক র‌্যালী। সাড়ে ৯ টায় পশ্চিম গর্জনবুনিয়া গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণ সভা।