পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’: দিপু ভূইয়া

বরিশালে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ, যা করল প্রশাসন

ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ব্রিজটির একটি অংশ ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের উপর ব্রিজটি ভাঙার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্রিজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাচঁ ফুট প্রস্থ করা হয়। সরকারি নকশা অনুযায়ী ব্রিজের ঢালাই ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয় সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এ ছাড়া আয়রন ব্রিজের প্রতি ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৬ ইঞ্চি প্রস্থ পরপর রড ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করেন।

এতে স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার আরও ৫টি রড আনেন। একই সঙ্গে ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ৫ বস্তা সিমেন্ট কেনা হয়। এরপর গত ১৩ এপ্রিল ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। বাঁশ দিয়ে ব্রিজ ঢালাইয়ের ঘটনা ১৬ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে একাধিকবার ওই ব্রিজটি ভাঙার কথা জানানো হয়েছিল।

অবশেষে সোমবার বিকেলে ইউএনও লিখন বনিক ও প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে ব্রিজটির উত্তর পাশের অংশ ভাঙা হলে রডের পরিবর্তে বাঁশ পাওয়া যায়। তবে প্রথমে উপজেলা প্রশাসন থেকে পুরো ব্রিজ ভেঙে ফেলার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত ব্রিজটির এক অংশই ভাঙা হয়। ব্রিজ ভাঙার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজটি ভাঙার পর উত্তর পাশে রডের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যারা এভাবে ব্রিজের ঢালাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

বরিশালে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ, যা করল প্রশাসন

আপডেট টাইম : ০৫:০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ব্রিজটির একটি অংশ ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের উপর ব্রিজটি ভাঙার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্রিজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাচঁ ফুট প্রস্থ করা হয়। সরকারি নকশা অনুযায়ী ব্রিজের ঢালাই ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয় সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এ ছাড়া আয়রন ব্রিজের প্রতি ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৬ ইঞ্চি প্রস্থ পরপর রড ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করেন।

এতে স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার আরও ৫টি রড আনেন। একই সঙ্গে ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ৫ বস্তা সিমেন্ট কেনা হয়। এরপর গত ১৩ এপ্রিল ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। বাঁশ দিয়ে ব্রিজ ঢালাইয়ের ঘটনা ১৬ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে একাধিকবার ওই ব্রিজটি ভাঙার কথা জানানো হয়েছিল।

অবশেষে সোমবার বিকেলে ইউএনও লিখন বনিক ও প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে ব্রিজটির উত্তর পাশের অংশ ভাঙা হলে রডের পরিবর্তে বাঁশ পাওয়া যায়। তবে প্রথমে উপজেলা প্রশাসন থেকে পুরো ব্রিজ ভেঙে ফেলার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত ব্রিজটির এক অংশই ভাঙা হয়। ব্রিজ ভাঙার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজটি ভাঙার পর উত্তর পাশে রডের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যারা এভাবে ব্রিজের ঢালাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।