পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

চিরনিদ্রায় কাইয়ুম চৌধুরী

ঢাকা : চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিকেল পৌনে চারটার দিকে তার লাশ আজিমপুরের বাসভবন থেকে ছাপড়া মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সোমবার সকালে কাইয়ুম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর, প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান।

এরপর একে একে বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩২ সালের ৯ মার্চ ফেনীতে। বাবা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন দেশের বহু জায়গা।

সব সময় শিল্পী বলতেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মনের মধ্যে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমৃত্যু ইচ্ছেটাকে লালন করে গেছেন, দারুণভাবে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯৬০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৯ বার তিনি শিল্পকলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বইয়ের প্রচ্ছদের পালাবদলের অন্যতম রূপকার তিনি। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল বুক সেন্টার আয়োজিত প্রচ্ছদ প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম চিত্রকর্মের প্রদর্শনী করেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ছেলেবেলায় নিজের লাইব্রেরির যেসব বইয়ের প্রচ্ছদ নষ্ট হয়ে যেত, সেগুলো নতুন করে করতেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রচ্ছদ করেছেন ১৯৫৩-তে। ১৯৫৪ সালে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ তাকে বারবার আন্দোলিত করেছে।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, সুফিয়া কামাল পদক, শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চিরনিদ্রায় কাইয়ুম চৌধুরী

আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪

ঢাকা : চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিকেল পৌনে চারটার দিকে তার লাশ আজিমপুরের বাসভবন থেকে ছাপড়া মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সোমবার সকালে কাইয়ুম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর, প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান।

এরপর একে একে বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩২ সালের ৯ মার্চ ফেনীতে। বাবা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন দেশের বহু জায়গা।

সব সময় শিল্পী বলতেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মনের মধ্যে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমৃত্যু ইচ্ছেটাকে লালন করে গেছেন, দারুণভাবে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯৬০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৯ বার তিনি শিল্পকলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বইয়ের প্রচ্ছদের পালাবদলের অন্যতম রূপকার তিনি। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল বুক সেন্টার আয়োজিত প্রচ্ছদ প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম চিত্রকর্মের প্রদর্শনী করেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ছেলেবেলায় নিজের লাইব্রেরির যেসব বইয়ের প্রচ্ছদ নষ্ট হয়ে যেত, সেগুলো নতুন করে করতেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রচ্ছদ করেছেন ১৯৫৩-তে। ১৯৫৪ সালে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ তাকে বারবার আন্দোলিত করেছে।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, সুফিয়া কামাল পদক, শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন।