পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

রূপগঞ্জের অপরাধীদের অভয়ারণ্য

ফারুক আহাম্মেদ সুজন : বালু নদীর মোহনায় অবস্থিত চানপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র (বস্তি) রাজধানীর ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসা ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে এ বস্তি। যেকোনো সরকারের আমলেই এ বস্তি নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকে প্রশাসন। এ বস্তি থেকেই ডেমরা ও পাশের এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙ্গা, নিরীহ, ছিন্নমূল মানুষকে ডেমরা বালু নদীর পূর্বপারে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ওয়াসার অধিগ্রহণকৃত জায়গায় পুনর্বাসন করা হয়। প্রথমে এখানে ৪২৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও বর্তমানে এখানে ৩০ হাজারের বেশি লোক বাস করছে। দিন দিন এখানে মানুষ বেড়ে যাওয়ায় অপরাধও বাড়ছে। ঢাকার আশপাশের বস্তির লোকেরা এখানে এসে বসবাস করায় ধীরে ধীরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ডেমরা ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য হয়ে ওঠে একটি বিষফোঁড়া। ডেমরা ও রূপগঞ্জ এলাকার যেকোনো ধরনের অপরাধÑ মাদক ব্যবসায়, নারী ব্যবসায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি থেকে শুরু করে খুন ও গুমের সাথে কোনো-না-কোনোভাবে চনপাড়া বস্তির লোকেরা জড়িত থাকে বলে জানা যায়। কারণ তারা অপরাধ করে সহজেই পার পেয়ে যায়। তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। তারা ছিন্নমূল যাযাবর। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে এ এলাকার মাদক বিক্রেতারা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ফলে মাদক বিক্রেতাদের টার্গেট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এখানে মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার এবং মাদক উদ্ধারে এলেই মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়।। মাদক ব্যবসা ও এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটছে সংঘর্ষ। এসব সংঘর্ষে কয়েক হাজার আহত হওয়া ছাড়াও নিহত হয়েছেন পাঁচজন। বস্তির প্রভাব বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেদ্র করে বিএনপি নেতা চান মিয়া, পারভেজ ও অজ্ঞাত দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে।
জানা যায়, সরকার বদল হলে ও চানপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে শুধু গডফাদারই বদল হয়। বদল হয় না মাদক ব্যবসায়ীরা। মতাসীনদলের পরিচয়ধারী গডফাদাদের সাথে আঁতাত করে চালিয়ে যায় অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসায়। থানা, পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজন একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও বন্ধ করতে পারছে না মাদক ব্যবসায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সুভ্রত কুমার হাওলাদারের নেতৃত্বে চানপাড়া বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশের সাথে এখানকার মাদকব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ার শেল গোলাগুলির সময় দুই পুলিশসহ প্রায় ১৫ জন আহত হন। ভৌগলিক দিক থেকে ডেমরা ও রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী স্থানে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি অবস্থিত হওয়ায় অপরাধীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহামুদুল ইসলাম বলেন, চানপাড়া বস্তিটি রাজধানীর ডেমরা কোলঘেঁষা হওয়ায় অপরাধীরা খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারে।
ডেমরা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, ডেমরার ওপর দিয়ে তাদের ঢাকায় যাতায়াতের কারণে তারা ডেমরা এলাকায়ও বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে; কিন্তু যে কোন অপরাধই করুক না কেনো কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

রূপগঞ্জের অপরাধীদের অভয়ারণ্য

আপডেট টাইম : ০৪:২২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

ফারুক আহাম্মেদ সুজন : বালু নদীর মোহনায় অবস্থিত চানপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র (বস্তি) রাজধানীর ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসা ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে এ বস্তি। যেকোনো সরকারের আমলেই এ বস্তি নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকে প্রশাসন। এ বস্তি থেকেই ডেমরা ও পাশের এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙ্গা, নিরীহ, ছিন্নমূল মানুষকে ডেমরা বালু নদীর পূর্বপারে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ওয়াসার অধিগ্রহণকৃত জায়গায় পুনর্বাসন করা হয়। প্রথমে এখানে ৪২৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও বর্তমানে এখানে ৩০ হাজারের বেশি লোক বাস করছে। দিন দিন এখানে মানুষ বেড়ে যাওয়ায় অপরাধও বাড়ছে। ঢাকার আশপাশের বস্তির লোকেরা এখানে এসে বসবাস করায় ধীরে ধীরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ডেমরা ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য হয়ে ওঠে একটি বিষফোঁড়া। ডেমরা ও রূপগঞ্জ এলাকার যেকোনো ধরনের অপরাধÑ মাদক ব্যবসায়, নারী ব্যবসায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি থেকে শুরু করে খুন ও গুমের সাথে কোনো-না-কোনোভাবে চনপাড়া বস্তির লোকেরা জড়িত থাকে বলে জানা যায়। কারণ তারা অপরাধ করে সহজেই পার পেয়ে যায়। তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। তারা ছিন্নমূল যাযাবর। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে এ এলাকার মাদক বিক্রেতারা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ফলে মাদক বিক্রেতাদের টার্গেট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এখানে মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার এবং মাদক উদ্ধারে এলেই মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়।। মাদক ব্যবসা ও এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটছে সংঘর্ষ। এসব সংঘর্ষে কয়েক হাজার আহত হওয়া ছাড়াও নিহত হয়েছেন পাঁচজন। বস্তির প্রভাব বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেদ্র করে বিএনপি নেতা চান মিয়া, পারভেজ ও অজ্ঞাত দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে।
জানা যায়, সরকার বদল হলে ও চানপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে শুধু গডফাদারই বদল হয়। বদল হয় না মাদক ব্যবসায়ীরা। মতাসীনদলের পরিচয়ধারী গডফাদাদের সাথে আঁতাত করে চালিয়ে যায় অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসায়। থানা, পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজন একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও বন্ধ করতে পারছে না মাদক ব্যবসায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সুভ্রত কুমার হাওলাদারের নেতৃত্বে চানপাড়া বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশের সাথে এখানকার মাদকব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ার শেল গোলাগুলির সময় দুই পুলিশসহ প্রায় ১৫ জন আহত হন। ভৌগলিক দিক থেকে ডেমরা ও রূপগঞ্জের সীমান্তবর্তী স্থানে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি অবস্থিত হওয়ায় অপরাধীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহামুদুল ইসলাম বলেন, চানপাড়া বস্তিটি রাজধানীর ডেমরা কোলঘেঁষা হওয়ায় অপরাধীরা খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারে।
ডেমরা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, ডেমরার ওপর দিয়ে তাদের ঢাকায় যাতায়াতের কারণে তারা ডেমরা এলাকায়ও বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে; কিন্তু যে কোন অপরাধই করুক না কেনো কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।