অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

বিজয়ের মাসে বীরশ্রেষ্ঠদের অসম্মান!

বগুড়া : বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বকভাবে দখল করা বিলবোর্ডগুলো এখনো দখলমুক্ত হয়নি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের স্কোয়ারও দখলমুক্ত হয়নি। বিজয়ের মাসে বীরশ্রেষ্ঠদের অসম্মানের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কাউন্সিলের পরদিন সব ব্যানার, ফেস্টুন খুলে নিয়ে বিলবোর্ডগুলো দখলমুক্ত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

বুধবার ছিল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় শহর। দীর্ঘ দশ বছর পর কাউন্সিল হওয়ায় উৎসবের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন আ’লীগ নেতারা। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার পুরোটাই ঢেকে ফেলা হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুনে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবির কারণে হারিয়ে গেছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, ‘বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগের হাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসম্মান মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এরা এভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের অপমাণ করতে পারে ভাবতেও অবাক লাগছে।’

সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র রাসেল মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বগুড়া শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথায় স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ারটি বছরের পুরোটা জুড়েই অবহেলিত থাকে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা যে যখন সুযোগ পায় নিজেদের ব্যানার, ফেস্টুনে ঢেকে ফেলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

তবে এবার আওয়ামী লীগ নেতারা বিজেয়র মাসে যেভাবে বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার দখল করেছেন অতীতে কখনোই এমনটি দেখা যায়নি। এটা জাতির জন্য লজ্জাস্কর।’

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি জানিয়েছিলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর কাউন্সিল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজটা একটু বেশি। সেই উৎসবের জোয়ারে হয়ত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার ঢেকে গেছে। এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। কাউন্সিল শেষ হলেই সব ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলা হবে।’ কিন্তু তা হয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার থেকে আ’লীগ নেতাদের একটি ছবিও সরেনি। কাউন্সিলের পরেও দখলমুক্ত হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার।

সেই সাথে অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনি সংস্থার বিলবোর্ডগুলোর দখলও ছড়েনি আ’লীগ। দিনের পর দিন জোর করেই এসব বিলবোর্ড দখল করে আছেন তারা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় বিলবোর্ডটি দখল করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাউন্সিলের পরদিনই তিনি বিলবোর্ডের দখল ছেড়ে দিবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আদৌ এসব বিলবোর্ড দখলমুক্ত হবে কি-না নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা কেউ।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

বিজয়ের মাসে বীরশ্রেষ্ঠদের অসম্মান!

আপডেট টাইম : ০৫:১৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৪

বগুড়া : বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বকভাবে দখল করা বিলবোর্ডগুলো এখনো দখলমুক্ত হয়নি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের স্কোয়ারও দখলমুক্ত হয়নি। বিজয়ের মাসে বীরশ্রেষ্ঠদের অসম্মানের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কাউন্সিলের পরদিন সব ব্যানার, ফেস্টুন খুলে নিয়ে বিলবোর্ডগুলো দখলমুক্ত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

বুধবার ছিল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় শহর। দীর্ঘ দশ বছর পর কাউন্সিল হওয়ায় উৎসবের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন আ’লীগ নেতারা। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার পুরোটাই ঢেকে ফেলা হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুনে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবির কারণে হারিয়ে গেছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, ‘বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগের হাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসম্মান মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এরা এভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের অপমাণ করতে পারে ভাবতেও অবাক লাগছে।’

সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র রাসেল মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বগুড়া শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথায় স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ারটি বছরের পুরোটা জুড়েই অবহেলিত থাকে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা যে যখন সুযোগ পায় নিজেদের ব্যানার, ফেস্টুনে ঢেকে ফেলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

তবে এবার আওয়ামী লীগ নেতারা বিজেয়র মাসে যেভাবে বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার দখল করেছেন অতীতে কখনোই এমনটি দেখা যায়নি। এটা জাতির জন্য লজ্জাস্কর।’

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি জানিয়েছিলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর কাউন্সিল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজটা একটু বেশি। সেই উৎসবের জোয়ারে হয়ত বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার ঢেকে গেছে। এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। কাউন্সিল শেষ হলেই সব ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলা হবে।’ কিন্তু তা হয়নি। বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার থেকে আ’লীগ নেতাদের একটি ছবিও সরেনি। কাউন্সিলের পরেও দখলমুক্ত হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার।

সেই সাথে অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনি সংস্থার বিলবোর্ডগুলোর দখলও ছড়েনি আ’লীগ। দিনের পর দিন জোর করেই এসব বিলবোর্ড দখল করে আছেন তারা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় বিলবোর্ডটি দখল করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাউন্সিলের পরদিনই তিনি বিলবোর্ডের দখল ছেড়ে দিবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আদৌ এসব বিলবোর্ড দখলমুক্ত হবে কি-না নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা কেউ।