পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে আছে ২৫০ মুক্তিযোদ্ধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গোটা এলাকা ছিল রণক্ষেত্র। এসময় পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রণাঙ্গন আখাউড়ায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এই যুদ্ধে যেসব বীর সেনানী আহত হতেন তাদের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হতো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার জিবি হাসপাতালে। হাসপাতালে যারা মারা যেতেন তাদের গাড়িতে করে সীমান্তে আনা হতো। আর সেখান থেকে আমরা ১০-১২ জন মিলে লাশ এনে কবরস্থানে সমাহিত করতাম। এক একটি কবরে ৪-৫টি লাশ দাফন করা হতো।

এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সেইসব দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছিলেন আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সেনারবাদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মিয়া (৬৩)।

উদাস ভঙ্গিতে দুলাল মিয়া বলে যান, তখন আমি তরুণ। খবর পেলেই আমি এবং রাজ্জাক মেম্বারসহ আরো ১০-১২ জন মিলে ওপারে চলে যেতাম লাশ আনার জন্য। বেশির ভাগ লাশের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যেতো না।

তবে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দেওয়ার সময় মাথায় লাল কাপড় বাঁধা দেখে সোনরবাদী গ্রামের এক কিশোর তাকে ফুটবলার আজিজ বলে শনাক্ত করেছিল।

দুলাল মিয়ার বাড়ির পেছনেই একাত্তরের বীর শহীদদের এই গণকবরটি। নিজেই দেখিয়ে দিলেন শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে থাকা ২৫০ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর।

এসময় তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া এই গণকবরটি যেন বেষ্টনী দিয়ে পাকা করা হয়।

সরকার শহীদদের এই গণকবরটি রক্ষা করেছে দেখে যেতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।

আখাউড়ার সেনারবাদী সীমান্তের ২০২১/এস পিলার বরাবর ১০ গজ ভারতের ভেতরে গণকবরটির অবস্থান। ঘন জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের গাছ আর লতাপাতায় ঢাকা পড়েছে গণকবরটি। কেউ দেখিয়ে না দিলে গণকবরটি শনাক্ত করা খুবই কঠিন। কে বলবে এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে ২৫০ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা?

বাউতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক মেম্বার বলেন, নিজ হাতেই এই গণকবরে প্রায় আড়াইশ’ শহীদের লাশ মাটি দিয়েছি।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও শহীদদের এই স্মৃতি ধরে রাখতে না পারাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। তিনি গণকবরটি রক্ষার জোর দাবি জানান।

সেনারবাদী গ্রামের ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গণকবরটি দেখতে প্রায় সময়ই শহীদদের স্বজনরা এখানে আসেন। কিন্তু স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। আমি মনে করি শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে হলেও গণকবরটি পাকা করা প্রয়োজন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবীব বলেন, আমি আখাউড়া আসার পরই গণকবরটি দেখতে সেনারবাদী গিয়েছিলাম। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে খুব শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে আছে ২৫০ মুক্তিযোদ্ধা

আপডেট টাইম : ১২:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গোটা এলাকা ছিল রণক্ষেত্র। এসময় পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রণাঙ্গন আখাউড়ায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এই যুদ্ধে যেসব বীর সেনানী আহত হতেন তাদের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হতো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার জিবি হাসপাতালে। হাসপাতালে যারা মারা যেতেন তাদের গাড়িতে করে সীমান্তে আনা হতো। আর সেখান থেকে আমরা ১০-১২ জন মিলে লাশ এনে কবরস্থানে সমাহিত করতাম। এক একটি কবরে ৪-৫টি লাশ দাফন করা হতো।

এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সেইসব দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছিলেন আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সেনারবাদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মিয়া (৬৩)।

উদাস ভঙ্গিতে দুলাল মিয়া বলে যান, তখন আমি তরুণ। খবর পেলেই আমি এবং রাজ্জাক মেম্বারসহ আরো ১০-১২ জন মিলে ওপারে চলে যেতাম লাশ আনার জন্য। বেশির ভাগ লাশের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যেতো না।

তবে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দেওয়ার সময় মাথায় লাল কাপড় বাঁধা দেখে সোনরবাদী গ্রামের এক কিশোর তাকে ফুটবলার আজিজ বলে শনাক্ত করেছিল।

দুলাল মিয়ার বাড়ির পেছনেই একাত্তরের বীর শহীদদের এই গণকবরটি। নিজেই দেখিয়ে দিলেন শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে থাকা ২৫০ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর।

এসময় তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া এই গণকবরটি যেন বেষ্টনী দিয়ে পাকা করা হয়।

সরকার শহীদদের এই গণকবরটি রক্ষা করেছে দেখে যেতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।

আখাউড়ার সেনারবাদী সীমান্তের ২০২১/এস পিলার বরাবর ১০ গজ ভারতের ভেতরে গণকবরটির অবস্থান। ঘন জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের গাছ আর লতাপাতায় ঢাকা পড়েছে গণকবরটি। কেউ দেখিয়ে না দিলে গণকবরটি শনাক্ত করা খুবই কঠিন। কে বলবে এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে ২৫০ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা?

বাউতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক মেম্বার বলেন, নিজ হাতেই এই গণকবরে প্রায় আড়াইশ’ শহীদের লাশ মাটি দিয়েছি।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও শহীদদের এই স্মৃতি ধরে রাখতে না পারাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। তিনি গণকবরটি রক্ষার জোর দাবি জানান।

সেনারবাদী গ্রামের ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গণকবরটি দেখতে প্রায় সময়ই শহীদদের স্বজনরা এখানে আসেন। কিন্তু স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। আমি মনে করি শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে হলেও গণকবরটি পাকা করা প্রয়োজন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবীব বলেন, আমি আখাউড়া আসার পরই গণকবরটি দেখতে সেনারবাদী গিয়েছিলাম। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে খুব শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।