অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’: দিপু ভূইয়া

লালমনিরহাটে ঈদ বাজারে “একদর” নামের আড়ালে প্রতারণা, ভোক্তাদের ক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঈদকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের কাপড়ের বাজারে চলছে যেন হরিলুট। “একদর” অফারের নামে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে নিম্নমানের পোশাক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দোকানের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক দোকানেই পণ্যের প্রকৃত মান ও দামের কোনো স্বচ্ছতা নেই। একদর বলে নির্দিষ্ট দাম হাঁকানো হলেও বিক্রয় রশিদ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন দোকানদাররা। রশিদ চাইলে দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত ব্যাগ, আর বলা হচ্ছে—“রশিদ লাগে না, ব্যাগেই নম্বর আছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, শহরের বাটামোড় এলাকায় অবস্থিত ‘উর্মি স্টাইল জোন-২’ নামের একটি দোকান থেকে তিনি ১ হাজার ৮৫০ টাকায় একটি শার্ট কেনেন। পরে বিক্রয় রশিদ চাইলে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরবর্তীতে তার অভিভাবক গিয়ে রশিদ চাইলে প্রথমে অস্বীকৃতি জানানো হলেও পরে চাপের মুখে হাতে লেখা একটি রশিদ দেওয়া হয়। তবে সেটি ছিল ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বিল ভাউচার, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানের নামের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “রশিদ চাওয়া যেন অপরাধ হয়ে গেছে। দোকানদার ও কর্মচারীরা আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা নিজের টাকা দিয়ে পণ্য কিনবো, অথচ রশিদ পাবো না—এটা কেমন কথা?”
তিনি আরও বলেন, রশিদ না দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতারা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি সরকারের রাজস্বও ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লালমনিরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ সাদীর কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দোকান ‘উর্মি স্টাইল জোন-২’-এর স্বত্বাধিকারী উলফাত আরা উর্মির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহলের মতে, ঈদ বাজারে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় “একদর” নামের আড়ালে প্রতারণা অব্যাহত থাকবে এবং ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

লালমনিরহাটে ঈদ বাজারে “একদর” নামের আড়ালে প্রতারণা, ভোক্তাদের ক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৭:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঈদকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের কাপড়ের বাজারে চলছে যেন হরিলুট। “একদর” অফারের নামে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে নিম্নমানের পোশাক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দোকানের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক দোকানেই পণ্যের প্রকৃত মান ও দামের কোনো স্বচ্ছতা নেই। একদর বলে নির্দিষ্ট দাম হাঁকানো হলেও বিক্রয় রশিদ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন দোকানদাররা। রশিদ চাইলে দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত ব্যাগ, আর বলা হচ্ছে—“রশিদ লাগে না, ব্যাগেই নম্বর আছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, শহরের বাটামোড় এলাকায় অবস্থিত ‘উর্মি স্টাইল জোন-২’ নামের একটি দোকান থেকে তিনি ১ হাজার ৮৫০ টাকায় একটি শার্ট কেনেন। পরে বিক্রয় রশিদ চাইলে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরবর্তীতে তার অভিভাবক গিয়ে রশিদ চাইলে প্রথমে অস্বীকৃতি জানানো হলেও পরে চাপের মুখে হাতে লেখা একটি রশিদ দেওয়া হয়। তবে সেটি ছিল ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বিল ভাউচার, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানের নামের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “রশিদ চাওয়া যেন অপরাধ হয়ে গেছে। দোকানদার ও কর্মচারীরা আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা নিজের টাকা দিয়ে পণ্য কিনবো, অথচ রশিদ পাবো না—এটা কেমন কথা?”
তিনি আরও বলেন, রশিদ না দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতারা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি সরকারের রাজস্বও ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লালমনিরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ সাদীর কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দোকান ‘উর্মি স্টাইল জোন-২’-এর স্বত্বাধিকারী উলফাত আরা উর্মির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহলের মতে, ঈদ বাজারে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় “একদর” নামের আড়ালে প্রতারণা অব্যাহত থাকবে এবং ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।