অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ডিআইজি রফিককে দুদকে জিজ্ঞসাবাদ

ঢাকা : প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিটি এসবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রটেকশন) রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দুদকের উপপরিচালক হামিদুল হাসান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দুদকে সূত্রে জানা যায়, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ রফিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। তার বাবা মরহুম হাতেম আলী মেল্লা ছিলেন গ্রাম্য ডাক্তার। বহু কায়-ক্লেশে সন্তানদের বড় করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগদানের সময় গ্রামের বাড়িতে ছিল সাধারণ একটি টিনের ঘর। পরে কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া বাজারে খাস জমিতে একটি টিন শেড বাড়ি করেন রফিক। চাকরির কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। পদ-পদবী ব্যবহার করে দু’হাতে কামাতে থাকেন অর্থ। কম করেও এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক।

তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৩টি বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। উত্তরায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা দুটি দামী গাড়ি ব্যবহার করেন, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা।

সূত্র মতে, ডিআইজি রফিকুল ইসলামের মালিকানায় কালিয়াকৈরের নাবিবহর মৌজায় রয়েছে ৮০/৮৭৭, ৮৭৮, ৮৭৯, ৮৮১ ও ৮৮৩ নম্বর দাগে ৭৪ শতাংশ জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা।

দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, পুলিশের ওই কর্মকর্তার মুথাজুড়ি মৌজার ছলংগায় ১২ বিঘা জমি রয়েছে। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। একই মৌজায় ২৬৯৩ ও ৮৮৪৪ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। কড়ই চালায় ২০ বিঘা জমি, মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন ২০৯৮ নম্বর দাগে ১৪০ শতাংশ জমি। মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া উত্তরপাড়ায় রয়েছে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। মুথাজুড়ি বাজার সংলগ্ন ২১২১ নম্বর দাগে ১০০ শতাংশ জমি, যার মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। একই মৌজার ২৪৭৩ নম্বর দাগে ১৭৫ শতাংশ জমি। মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২২৪২ নম্বর দাগে রয়েছে ১৪২ শতাংশ জমি, মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রফিকুলের স্ত্রী শিরীন আক্তারের নামে মুথাজুড়ি মৌজার ৩০০৩, ৩০০৪, ৩০১১ ও ৩০১২ নম্বর দাগে ফুলবাড়িয়া দক্ষিণ পাড়ায় (কসাইর চালা) রয়েছে ৮ বিঘা জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এছাড়াও নামে-বেনামে রয়েছে বিপুল নগদ অর্থ। বিদেশে অন্তত ২০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও জানা গেছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ডিআইজি রফিককে দুদকে জিজ্ঞসাবাদ

আপডেট টাইম : ১২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

ঢাকা : প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিটি এসবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রটেকশন) রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দুদকের উপপরিচালক হামিদুল হাসান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দুদকে সূত্রে জানা যায়, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ রফিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। তার বাবা মরহুম হাতেম আলী মেল্লা ছিলেন গ্রাম্য ডাক্তার। বহু কায়-ক্লেশে সন্তানদের বড় করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগদানের সময় গ্রামের বাড়িতে ছিল সাধারণ একটি টিনের ঘর। পরে কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া বাজারে খাস জমিতে একটি টিন শেড বাড়ি করেন রফিক। চাকরির কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। পদ-পদবী ব্যবহার করে দু’হাতে কামাতে থাকেন অর্থ। কম করেও এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক।

তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৩টি বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। উত্তরায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা দুটি দামী গাড়ি ব্যবহার করেন, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা।

সূত্র মতে, ডিআইজি রফিকুল ইসলামের মালিকানায় কালিয়াকৈরের নাবিবহর মৌজায় রয়েছে ৮০/৮৭৭, ৮৭৮, ৮৭৯, ৮৮১ ও ৮৮৩ নম্বর দাগে ৭৪ শতাংশ জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা।

দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, পুলিশের ওই কর্মকর্তার মুথাজুড়ি মৌজার ছলংগায় ১২ বিঘা জমি রয়েছে। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। একই মৌজায় ২৬৯৩ ও ৮৮৪৪ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। কড়ই চালায় ২০ বিঘা জমি, মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন ২০৯৮ নম্বর দাগে ১৪০ শতাংশ জমি। মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া উত্তরপাড়ায় রয়েছে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। মুথাজুড়ি বাজার সংলগ্ন ২১২১ নম্বর দাগে ১০০ শতাংশ জমি, যার মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। একই মৌজার ২৪৭৩ নম্বর দাগে ১৭৫ শতাংশ জমি। মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২২৪২ নম্বর দাগে রয়েছে ১৪২ শতাংশ জমি, মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রফিকুলের স্ত্রী শিরীন আক্তারের নামে মুথাজুড়ি মৌজার ৩০০৩, ৩০০৪, ৩০১১ ও ৩০১২ নম্বর দাগে ফুলবাড়িয়া দক্ষিণ পাড়ায় (কসাইর চালা) রয়েছে ৮ বিঘা জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এছাড়াও নামে-বেনামে রয়েছে বিপুল নগদ অর্থ। বিদেশে অন্তত ২০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও জানা গেছে।