অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

”আমাদের ‘যৌন সেবিকা’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক”

দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস)-এর সাবেক সভাপতি শাহনাজ বেগম বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে সমাজকে নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। ডাক্তাররা যেমন সমাজের সেবা করেন, তেমনি আমরাও সমাজের সেবা করি। তাই আমাদের ‘যৌন সেবিকা’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক।

আজ রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে যৌনকর্মীদের জাতীয় সম্মেলন-২০১৪তে এসব কথা বলা হয়। দুর্জয় নারী সংঘ ও বাংলাদেশ উইমেনস হেলথ কোয়ালিশন যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

আত্মমর্যাদা, সামাজিক স্বীকৃতি ও বাঁচার অধিকারের দাবিতে জাতীয় সম্মেলনে সারা দেশ থেকে প্রায় ৭০০ যৌনকর্মী যোগ দিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

টিভি উপস্থাপক আব্দুর নূর তুষারের সঞ্চালনায় ও জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য ড. মো. শাহ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী৬ পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি হেনা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেন এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর নায়ার ইকবাল, দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস) সভাপতি রহিমা বেগম ও সাবেক সভাপতি শাহনাজ বেগম।

সম্মেলনে যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তাদের জীবনে এই পেশা বেছে নেওয়ার মর্মন্তুদ কাহিনী তুলে ধরেন ঢাকার শ্যামলী আদাবরের সালমা আক্তার, লক্ষ্মীপুরের শিরিন আক্তার, টাঙ্গাইলের আনোয়ারা বেগম, আঁখি ও মুক্তি মহিলা সমিতির মর্জিনা বেগম।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এইচআইভি এইডস প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৌসুমী আমিন।

ড. মো. শাহ আলম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধ আইনের খসড়ায় রয়েছে, মায়ের পেশার জন্য কোনো শিশুকে শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বৈষম্যবিরোধ আইনের পাশাপাশি যৌনকর্মীদের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন করা দরকার। যে আইনে তাদের সামাজিক স্বীকৃতি এবং সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে যৌনকর্মীদের অধিকারের বিষয়ে আরো সচেতনতা দরকার। যৌনকর্মীদের হাজার হাজার সমস্যা রয়েছে। আলাদা আইন তৈরি হলে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার, বাসস্থান ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘যৌনকর্মীদের এখন পুনর্বাসনের প্রয়োজন। যৌনপল্লী উচ্ছেদ করা হলেও এর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও জরুরি।’

দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস) সভাপতি রহিমা বেগম বলেন, ‘যৌনপল্লীই আমাদের ঘরবাড়ি। অথচ এ থেকে উচ্ছেদ করা হলে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয় না। এ পেশা থেকে উপার্জিত অর্থ থেকেই ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করে। বাবা-মার ভরণ পোষণ করা হয়। কিন্তু যৌনকর্মীরা তাদের পেশার স্বীকৃতি পায় না। অথচ আইনে এ পেশায় কোনো বাধা নেই। যত সমস্যা সামাজিকভাবে সৃষ্টি করা হয়।’

এ সময় রহিমা বেগম যৌনকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আলাদা আইন প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মূল প্রবন্ধে মৌসুমী আমিন বলেন, সারা দেশে ৭৪৩০০ যৌনকর্মী রয়েছে। এরমধ্যে ৪১ শতাংশ ভাসমান যৌনকর্মী, ৫৪ শতাংশ কাজ করে যৌনপল্লীতে এবং ৫ শতাংশ যৌনকর্মী হোটেলে কাজ করে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

”আমাদের ‘যৌন সেবিকা’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক”

আপডেট টাইম : ০২:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৪

দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস)-এর সাবেক সভাপতি শাহনাজ বেগম বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে সমাজকে নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। ডাক্তাররা যেমন সমাজের সেবা করেন, তেমনি আমরাও সমাজের সেবা করি। তাই আমাদের ‘যৌন সেবিকা’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক।

আজ রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে যৌনকর্মীদের জাতীয় সম্মেলন-২০১৪তে এসব কথা বলা হয়। দুর্জয় নারী সংঘ ও বাংলাদেশ উইমেনস হেলথ কোয়ালিশন যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

আত্মমর্যাদা, সামাজিক স্বীকৃতি ও বাঁচার অধিকারের দাবিতে জাতীয় সম্মেলনে সারা দেশ থেকে প্রায় ৭০০ যৌনকর্মী যোগ দিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

টিভি উপস্থাপক আব্দুর নূর তুষারের সঞ্চালনায় ও জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য ড. মো. শাহ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী৬ পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি হেনা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেন এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর নায়ার ইকবাল, দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস) সভাপতি রহিমা বেগম ও সাবেক সভাপতি শাহনাজ বেগম।

সম্মেলনে যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তাদের জীবনে এই পেশা বেছে নেওয়ার মর্মন্তুদ কাহিনী তুলে ধরেন ঢাকার শ্যামলী আদাবরের সালমা আক্তার, লক্ষ্মীপুরের শিরিন আক্তার, টাঙ্গাইলের আনোয়ারা বেগম, আঁখি ও মুক্তি মহিলা সমিতির মর্জিনা বেগম।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এইচআইভি এইডস প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৌসুমী আমিন।

ড. মো. শাহ আলম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধ আইনের খসড়ায় রয়েছে, মায়ের পেশার জন্য কোনো শিশুকে শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বৈষম্যবিরোধ আইনের পাশাপাশি যৌনকর্মীদের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন করা দরকার। যে আইনে তাদের সামাজিক স্বীকৃতি এবং সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে যৌনকর্মীদের অধিকারের বিষয়ে আরো সচেতনতা দরকার। যৌনকর্মীদের হাজার হাজার সমস্যা রয়েছে। আলাদা আইন তৈরি হলে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার, বাসস্থান ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘যৌনকর্মীদের এখন পুনর্বাসনের প্রয়োজন। যৌনপল্লী উচ্ছেদ করা হলেও এর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও জরুরি।’

দুর্জয় নারী সংঘের (ডিএনস) সভাপতি রহিমা বেগম বলেন, ‘যৌনপল্লীই আমাদের ঘরবাড়ি। অথচ এ থেকে উচ্ছেদ করা হলে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয় না। এ পেশা থেকে উপার্জিত অর্থ থেকেই ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করে। বাবা-মার ভরণ পোষণ করা হয়। কিন্তু যৌনকর্মীরা তাদের পেশার স্বীকৃতি পায় না। অথচ আইনে এ পেশায় কোনো বাধা নেই। যত সমস্যা সামাজিকভাবে সৃষ্টি করা হয়।’

এ সময় রহিমা বেগম যৌনকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আলাদা আইন প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মূল প্রবন্ধে মৌসুমী আমিন বলেন, সারা দেশে ৭৪৩০০ যৌনকর্মী রয়েছে। এরমধ্যে ৪১ শতাংশ ভাসমান যৌনকর্মী, ৫৪ শতাংশ কাজ করে যৌনপল্লীতে এবং ৫ শতাংশ যৌনকর্মী হোটেলে কাজ করে।