পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

রাবি উপাচার্যকে হুমকি দিলেন এমপি ওমর ফারুক

রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত শাহ মখদুম বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাজে অনিয়মের কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করায় রাবি উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে হুমকি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি।

বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে রাবি উপচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসাবে তার অসৌজন্যমূলক আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে ‘আমি অপমানিতবোধ করেছি।’ জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

উপাচার্য দফতর সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে ফোন দিয়ে সাক্ষাৎ করতে চান সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসারদের পদোন্নতির মনোয়ন বোর্ডে থাকায় তার সঙ্গে পরে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। এতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বলেন বোর্ড বাদ দিয়ে এখনই সাক্ষাৎ করতে হবে। অন্যথায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত সহকারীসহ চারজনকে সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য দফতরের অপেক্ষমান কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় উপাচার্য দ্রুত বোর্ডে অফিসারদের সাক্ষাৎকার শেষ করেন। অপেক্ষমান কক্ষে ৫ মিনিট থাকার পর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক তার সহযোগিদের নিয়ে উপাচার্য দফতরে প্রবেশ করেন। তিনি দফতরে ঢুকেই টেবিল চাপড়িয়ে অশালীন ভাষায় উপাচার্যকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এসময় তিনি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করায় ভিসিকে ধমক দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় সংসদ সদস্য উপাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এসময় সংসদ সদস্য ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত সহকারীরও ভিসিকে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন।

এসময় ভিসি দফতরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও বিশ্ববিদ্যারয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেজাউল করিম বাদল।

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘উনি (সংসদ সদস্য) যখন ফোন দেন তখন আমি নিয়োগ বোর্ডে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তাই ওই মুহুর্তে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সাক্ষাতের কথা বলেছিলাম। উনি তখনই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা বলেন এবং আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি দফতরে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী দীপায়ন সরকার দ্বীপ বলেন, ‘শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজকে একটি কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এমপি স্যার কথা বলতে গেলে, সেখানে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।’

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

রাবি উপাচার্যকে হুমকি দিলেন এমপি ওমর ফারুক

আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৫

রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত শাহ মখদুম বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাজে অনিয়মের কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করায় রাবি উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে হুমকি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি।

বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে রাবি উপচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসাবে তার অসৌজন্যমূলক আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে ‘আমি অপমানিতবোধ করেছি।’ জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

উপাচার্য দফতর সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে ফোন দিয়ে সাক্ষাৎ করতে চান সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসারদের পদোন্নতির মনোয়ন বোর্ডে থাকায় তার সঙ্গে পরে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। এতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বলেন বোর্ড বাদ দিয়ে এখনই সাক্ষাৎ করতে হবে। অন্যথায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত সহকারীসহ চারজনকে সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য দফতরের অপেক্ষমান কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় উপাচার্য দ্রুত বোর্ডে অফিসারদের সাক্ষাৎকার শেষ করেন। অপেক্ষমান কক্ষে ৫ মিনিট থাকার পর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক তার সহযোগিদের নিয়ে উপাচার্য দফতরে প্রবেশ করেন। তিনি দফতরে ঢুকেই টেবিল চাপড়িয়ে অশালীন ভাষায় উপাচার্যকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এসময় তিনি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করায় ভিসিকে ধমক দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় সংসদ সদস্য উপাচার্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এসময় সংসদ সদস্য ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত সহকারীরও ভিসিকে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন।

এসময় ভিসি দফতরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও বিশ্ববিদ্যারয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেজাউল করিম বাদল।

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘উনি (সংসদ সদস্য) যখন ফোন দেন তখন আমি নিয়োগ বোর্ডে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম তাই ওই মুহুর্তে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সাক্ষাতের কথা বলেছিলাম। উনি তখনই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা বলেন এবং আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি দফতরে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী দীপায়ন সরকার দ্বীপ বলেন, ‘শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজকে একটি কারণে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এমপি স্যার কথা বলতে গেলে, সেখানে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।’