পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও যুবলীগ নেতার যোগসাজশে প্রাথমিক শিক্ষার বই বিক্রির চেষ্টা

ফেনী : ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রাতের আঁধারে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির অবশিষ্ট থাকা বই বিক্রির চেষ্টা করেছেন ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ ও যুবলীগ নেতা মো. হুমায়ুন কবীর ভূঞা।

গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকলেও রাতের আঁধারে ট্রাংক রোডের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রাত ৯ টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে ট্রাক প্রবেশ করা মাত্রই দুই পাশের গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর কার্যালয়ের গোডাউনে থাকা ২০১৫ ও ২০১৪ সালের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির অবশিষ্ট থাকা বই ট্রাক ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি তৎসংলগ্ন পিটিআই মাঠে বৈশাখী মেলায় আগত কিছু দর্শকের নজরে আসে এরপর তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের খবর দেন। এরপর সেখানে স্থানীয় লোকজনও জড়ো হন। এ সময় সাংবাদিকরা গেইট খুলে ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই ট্রাক চালক ও অফিস সহকারীরা পালিয়ে যায়। একে একে লোকজনের ভিড় জমলে শ্রমিকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ২০১৪ সালের পুরাতন বইগুলো স্পট নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে বই বুঝিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করছেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ জানান, পুরাতন বইগুলো নিলামে দেয়া হয়েছে। তাই বইগুলো নেয়ার জন্য রাতে ট্রাক আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বই ক্রেতা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির ভূঞার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি নিলামে ক্রয় করা বইগুলি বুঝে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন।

প্রসঙ্গত এর আগে চলতি বছর সরকারি বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণে জনপ্রতি ৩শ’ টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে নতুন বই চাহিদার চেয়ে কম দেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বদলি বাণিজ্য নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন আবদুল আজিজ। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের আঁধারে বই বিক্রির ঘটনা সংশ্লি¬ষ্ট মহলে আলোচনার তুঙ্গে। ইতিপূর্বেও ২০১২ ও ২০১৩ সালের বইগুলো একই কায়দায় গোপনে বিক্রি করে দেন আব্দুল আজিজ।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও যুবলীগ নেতার যোগসাজশে প্রাথমিক শিক্ষার বই বিক্রির চেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৩:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০১৫

ফেনী : ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রাতের আঁধারে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির অবশিষ্ট থাকা বই বিক্রির চেষ্টা করেছেন ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ ও যুবলীগ নেতা মো. হুমায়ুন কবীর ভূঞা।

গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকলেও রাতের আঁধারে ট্রাংক রোডের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রাত ৯ টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে ট্রাক প্রবেশ করা মাত্রই দুই পাশের গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর কার্যালয়ের গোডাউনে থাকা ২০১৫ ও ২০১৪ সালের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির অবশিষ্ট থাকা বই ট্রাক ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি তৎসংলগ্ন পিটিআই মাঠে বৈশাখী মেলায় আগত কিছু দর্শকের নজরে আসে এরপর তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের খবর দেন। এরপর সেখানে স্থানীয় লোকজনও জড়ো হন। এ সময় সাংবাদিকরা গেইট খুলে ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই ট্রাক চালক ও অফিস সহকারীরা পালিয়ে যায়। একে একে লোকজনের ভিড় জমলে শ্রমিকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ২০১৪ সালের পুরাতন বইগুলো স্পট নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে বই বুঝিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করছেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ জানান, পুরাতন বইগুলো নিলামে দেয়া হয়েছে। তাই বইগুলো নেয়ার জন্য রাতে ট্রাক আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বই ক্রেতা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির ভূঞার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি নিলামে ক্রয় করা বইগুলি বুঝে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন।

প্রসঙ্গত এর আগে চলতি বছর সরকারি বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণে জনপ্রতি ৩শ’ টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে নতুন বই চাহিদার চেয়ে কম দেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বদলি বাণিজ্য নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন আবদুল আজিজ। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের আঁধারে বই বিক্রির ঘটনা সংশ্লি¬ষ্ট মহলে আলোচনার তুঙ্গে। ইতিপূর্বেও ২০১২ ও ২০১৩ সালের বইগুলো একই কায়দায় গোপনে বিক্রি করে দেন আব্দুল আজিজ।