পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

কক্সবাজারে ৬ ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি

কক্সবাজার : বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজারের উপকূলবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে জলদস্যুতার শিকার হয়েছে মাছ ধরার ৬টি ট্রলার।

শনিবার বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা ট্রলারসহ ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণের কথা জানালেও দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন তাদের ট্রলারগুলো লুটপাট হয়েছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অক্ষত রয়েছে।

বোট মালিক সমিতির নেতা ও দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানান, শনিবার অন্তত ৬টি ট্রলার দস্যুতার শিকার হয়েছে। ট্রলারগুলো হলো- কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন সড়কের মোহাম্মদ কাইয়ুমের মালিকানাধীন এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলাম, রুমালিয়ারছড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন খাজার মালিকানাধীন এফবি জুবাইদা, পেশকার পাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি হাসান ও নুরুল আলমের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া, চকরিয়ার সুকুমার জলদাসের মালিকানাধীন এফবি জগদীশ।

কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, দস্যুতার এ ঘটনায় এফবি জগদীশের মাঝি ও মালিক সুকুমার জলদাসকে (৪৫) অপহরণ করে জলদস্যুরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে।

মোস্তাক আহমদ আরো জানান, আজ বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬টি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুতার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ৫টি ট্রলারসহ অন্তত ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। এখনো ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লারা নিখোঁজ রয়েছে। তবে এফবি জগদীশের মালিক ও মাঝি সুকুমার জলদাসকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও ট্রলারটিসহ অন্য মাঝি-মাল্লাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি কোস্টগার্ডের কক্সবাজার স্টেশনে অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দস্যুতার শিকার এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলামের মালিক মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, জলদস্যুরা তার ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী তেল ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ, ট্রলারের রক্ষিত মাছসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। ট্রলার ২টি বিকল অবস্থায় এখনো ভাসছে বলে সাগর থেকে ফিরে আসা বিভিন্ন ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। এখন ভাসমান বোট দু’টি কূলে নিয়ে আসতে তিনি অপর একটি ট্রলার নিয়ে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানান।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এমএ নেওয়াজ জানান, দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা বিষয়টি অবহিত করার পর পরই কোস্টগার্ড সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালাচ্ছে। মূলত ট্রলারগুলো লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং বিকল অবস্থায় সাগরে ভাসছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অপহৃত হওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ট্রলার মালিকেরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিকাশ জানাান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনিও ট্রলার ডাকাতির বিষয়টি শুনেছেন। তবে কোন ট্রলার মালিক বিষয়টি থানাকে অবহিত করেনি।

এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তারেক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানান, ট্রলার ডাকাতির বিষয়ে থানায় কেউ এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

কক্সবাজারে ৬ ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি

আপডেট টাইম : ০৩:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০১৫

কক্সবাজার : বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজারের উপকূলবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে জলদস্যুতার শিকার হয়েছে মাছ ধরার ৬টি ট্রলার।

শনিবার বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা ট্রলারসহ ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণের কথা জানালেও দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন তাদের ট্রলারগুলো লুটপাট হয়েছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অক্ষত রয়েছে।

বোট মালিক সমিতির নেতা ও দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা জানান, শনিবার অন্তত ৬টি ট্রলার দস্যুতার শিকার হয়েছে। ট্রলারগুলো হলো- কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন সড়কের মোহাম্মদ কাইয়ুমের মালিকানাধীন এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলাম, রুমালিয়ারছড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন খাজার মালিকানাধীন এফবি জুবাইদা, পেশকার পাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি হাসান ও নুরুল আলমের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া, চকরিয়ার সুকুমার জলদাসের মালিকানাধীন এফবি জগদীশ।

কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, দস্যুতার এ ঘটনায় এফবি জগদীশের মাঝি ও মালিক সুকুমার জলদাসকে (৪৫) অপহরণ করে জলদস্যুরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে।

মোস্তাক আহমদ আরো জানান, আজ বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬টি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুতার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ৫টি ট্রলারসহ অন্তত ৬০ জন মাঝি-মাল্লাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। এখনো ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লারা নিখোঁজ রয়েছে। তবে এফবি জগদীশের মালিক ও মাঝি সুকুমার জলদাসকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও ট্রলারটিসহ অন্য মাঝি-মাল্লাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি কোস্টগার্ডের কক্সবাজার স্টেশনে অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দস্যুতার শিকার এফবি রিসাত ও এফবি রফিকুল ইসলামের মালিক মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, জলদস্যুরা তার ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী তেল ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ, ট্রলারের রক্ষিত মাছসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। ট্রলার ২টি বিকল অবস্থায় এখনো ভাসছে বলে সাগর থেকে ফিরে আসা বিভিন্ন ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। এখন ভাসমান বোট দু’টি কূলে নিয়ে আসতে তিনি অপর একটি ট্রলার নিয়ে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানান।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এমএ নেওয়াজ জানান, দস্যুতার শিকার ট্রলার মালিকরা বিষয়টি অবহিত করার পর পরই কোস্টগার্ড সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালাচ্ছে। মূলত ট্রলারগুলো লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং বিকল অবস্থায় সাগরে ভাসছে। তবে মাঝি-মাল্লারা অপহৃত হওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ট্রলার মালিকেরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিকাশ জানাান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনিও ট্রলার ডাকাতির বিষয়টি শুনেছেন। তবে কোন ট্রলার মালিক বিষয়টি থানাকে অবহিত করেনি।

এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তারেক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানান, ট্রলার ডাকাতির বিষয়ে থানায় কেউ এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি।