পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জলপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখা যায় না

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেছেন, প্রতিযোগিতার বাজারে দুই দেশের বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জলপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখা যায় না।
‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস’ শীর্ষক সেমিনারে বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মেট্রপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা এবং ইন্ডিয়ান হাই কমিশন ইন ঢাকা যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
মশিউর রহমান বলেন, দু্ই দেশের ব্যবসা প্রসারে জলপথে পণ্য পরিবহন সুফল বয়ে আনবে। তাই ব্যবসা ও যোগাযোগের প্রসারের জন্য নৌ রুটগুলোকে কার্যকর করতে দুই দেশের সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।
মশিউর রহমান আরও বলেন, জলপথের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার নদীর নব্যতা বাড়াতে বড় ধরণের স্কাভেশন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
রাজধানী ঢাকার ১২২-১২৪ মতিঝিলের চেম্বার ভবনের এমসিসিআই কনফারেন্স হলে এ সেমিনারে সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য দেন ভারতীয় হাই কমিশনার পংকজ সরণ।
সেমিনারের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন এমসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, কারার মাহমুদুল হাসান, সোহেল আহমেদ চৌধুরী, কমোডর মোজাম্মেল, হাবিবুল্লাহ করিম প্রমুখ।
সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্টে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর দুটি পেপার উপস্থাপন করেন শীপ রাইটস রিসোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আহমেদ, এফসিআইএলটি ও বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক সচিব সৈয়দ মনোয়ার হোসেন। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য দেন, এমসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিস এ খান।
সেমিনারের ভূমিকা তুলে ধরে এমসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম পিআইডব্লিউটিটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের রাজধানীতে দুই দেশের সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের গুরুত্ব তুলে ধরে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, এই সেমিনার সচেতনতা বাড়িয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে উভয়ের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, বাংলাদেশে ২৪০০০ কিলোমিটার নদী পথের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে ৫৯৬৮ কিলোমিটার নৌচলাচলের উপযোগী থাকে। বিশ্ব ব্যাংকের সাজেশন মোতাবেক নৌপথে সড়ক ও রেলপথের চেয়ে অনেক কম খরচে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। সড়ক ও রেলপথে প্রতিকিলোমিটারে ১ টন পণ্য পরিবহনে ৪ দশমিক ৫ টাকা খরচ পড়ে। অথচ নৌপথে খরচ হয় মাত্র দশমিক ৯৮ টাকা।
নেভিগেবিলিটি ইস্যু, স্টেকহোল্ডারদের উৎসাহের ঘাটতি, উপযুক্ত ভ্যাসেল এর অভাবসহ বিভিন্ন কারণে নদী পথের সুযোগকে কাজে লাগানো যাচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেন মাহবুব আহমেদ।
সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রোটোকলে ৮টি রুট রয়েছে। কোলকাতা-নারায়নগঞ্জ, কোলকাতা-করিমগঞ্জ, কোলকাতা-পন্ডু ও করিমগঞ্জ-পন্ডু এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
নদীপথের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমানের নানা দিক তুলে ধরে পংকজ সরেন বলেন, ব্যবসার উন্নয়নের টেকসই ভিত্তির জন্য জলপথে পণ্য পরিবহন করতে হবে। আর এ জন্য উভয় দেশের সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

জলপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখা যায় না

আপডেট টাইম : ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০১৫

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেছেন, প্রতিযোগিতার বাজারে দুই দেশের বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জলপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখা যায় না।
‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস’ শীর্ষক সেমিনারে বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মেট্রপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা এবং ইন্ডিয়ান হাই কমিশন ইন ঢাকা যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
মশিউর রহমান বলেন, দু্ই দেশের ব্যবসা প্রসারে জলপথে পণ্য পরিবহন সুফল বয়ে আনবে। তাই ব্যবসা ও যোগাযোগের প্রসারের জন্য নৌ রুটগুলোকে কার্যকর করতে দুই দেশের সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।
মশিউর রহমান আরও বলেন, জলপথের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার নদীর নব্যতা বাড়াতে বড় ধরণের স্কাভেশন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
রাজধানী ঢাকার ১২২-১২৪ মতিঝিলের চেম্বার ভবনের এমসিসিআই কনফারেন্স হলে এ সেমিনারে সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য দেন ভারতীয় হাই কমিশনার পংকজ সরণ।
সেমিনারের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন এমসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, কারার মাহমুদুল হাসান, সোহেল আহমেদ চৌধুরী, কমোডর মোজাম্মেল, হাবিবুল্লাহ করিম প্রমুখ।
সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্টে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর দুটি পেপার উপস্থাপন করেন শীপ রাইটস রিসোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আহমেদ, এফসিআইএলটি ও বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক সচিব সৈয়দ মনোয়ার হোসেন। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য দেন, এমসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিস এ খান।
সেমিনারের ভূমিকা তুলে ধরে এমসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম পিআইডব্লিউটিটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের রাজধানীতে দুই দেশের সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের গুরুত্ব তুলে ধরে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, এই সেমিনার সচেতনতা বাড়িয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে উভয়ের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, বাংলাদেশে ২৪০০০ কিলোমিটার নদী পথের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে ৫৯৬৮ কিলোমিটার নৌচলাচলের উপযোগী থাকে। বিশ্ব ব্যাংকের সাজেশন মোতাবেক নৌপথে সড়ক ও রেলপথের চেয়ে অনেক কম খরচে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। সড়ক ও রেলপথে প্রতিকিলোমিটারে ১ টন পণ্য পরিবহনে ৪ দশমিক ৫ টাকা খরচ পড়ে। অথচ নৌপথে খরচ হয় মাত্র দশমিক ৯৮ টাকা।
নেভিগেবিলিটি ইস্যু, স্টেকহোল্ডারদের উৎসাহের ঘাটতি, উপযুক্ত ভ্যাসেল এর অভাবসহ বিভিন্ন কারণে নদী পথের সুযোগকে কাজে লাগানো যাচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেন মাহবুব আহমেদ।
সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রোটোকলে ৮টি রুট রয়েছে। কোলকাতা-নারায়নগঞ্জ, কোলকাতা-করিমগঞ্জ, কোলকাতা-পন্ডু ও করিমগঞ্জ-পন্ডু এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
নদীপথের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমানের নানা দিক তুলে ধরে পংকজ সরেন বলেন, ব্যবসার উন্নয়নের টেকসই ভিত্তির জন্য জলপথে পণ্য পরিবহন করতে হবে। আর এ জন্য উভয় দেশের সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।