পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথা

1431925783জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাজাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন ও কমিটি গঠন প্রসঙ্গে ফেসবুকে সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বলছেন নানা কথা। মানবকণ্ঠের পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো-
জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য পদত্যাগ করলেন। তাদেরকে বলা হয়েছিলো আওয়ামী লীগ,জামায়াত ও বিএনপি’র সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বিনা ভোটে প্রেসক্লাব দখল চান। ঐক্য হয়েছে আওয়ামী লীগ জামায়াতের।আওয়ামী লীগ সভাপতি,জামায়াতে ইসলামি সাধারন সম্পাদক এক প্যানেল। নির্বাচন কমিশনা অন্যায় আব্দার মানতে নারাজ। তারা ভোট করাতে চেয়েছিলেন। তাই তাদেরকে বাধ্য করা হলো পদত্যাগে। বেশ বেশ! জাতির বিবেক সেজে টক শোতে অথবা সংবাদপত্রে আমরা গণতন্ত্রের ছবক দেবো, বড় বড় কথা বলবো,আর নিজেরা ভোটাধিকার ধ্বংশ করবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ষক সেজে ঐক্য করবো জামায়াতের সঙ্গে। অসাধারন!’
সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাব নিয়ে কেনো বার বার বিতর্ক হয়? যুদ্ধাপরাধীরা কিভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হয়? সমগ্র জাতি যখন দেখলো যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রেসক্লাবের ২ সদস্যের ফাসি হলো তখন প্রেসক্লাবের মর্যাদা কোথায় থাকে? যে ভোটের অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার এদেশের সাংবাদিক সমাজ সেই সাংবাদিকরা কেনো জাতীয় প্রেসক্লাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? ধারাবাহিক লজ্বার হাত থেকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা মুক্তি চায়। যে মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সেই মুহূর্তে জামায়াতের সাথে ঐক্যের রহস্য 1431925814কী ? ঐক্যের নামে কেনো এই নির্বাচনী তামাশা? জাতি জানতে চায়।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাডেইলি অবজারভারের সিনিয়র রিপোর্টার পুলক ঘটক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রেসক্লাবে আওয়ামীলীগ-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে প্যানেল দিয়েছে। এবং সেই প্যানেলকে বিনা নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চাপ দেয়া হয়েছিল। সেকারনে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেছে। এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে প্রেসক্লাব নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ সমর্থিত কোনও প্যানেল হয়নি। জামাতের সাথে জোট বদ্ধ হওয়া দূরের কথা। জামাত সমর্থিত কোনও প্যানেলও হয়নি। এই নির্বাচনে আদৌ কোনও প্রতিদ্বন্দীতা হওয়ার কথা ছিলনা। প্রেসক্লাবে সকল সাংবাদিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সদস্যপদ উন্মুক্ত করার দাবিতে আমোদের যে আন্দোলন তার প্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের অখন্ডতা রক্ষায় বিবদমান আওয়ামীলীগ ও বিএনপি ফোরামের নেতৃবৃন্দ একটি সমঝোতায় পৌছেছিল। সমঝোতা অনুযায়ী আওয়ামীলীগ সমর্থিত (সভাপতি সহ) ৭জন এবং বিএনপি-জামাত সমর্থিত (সাধারণ সম্পাদক সহ) ১০ জন নিয়ে সমঝোতার কমিটি গঠন করার কথা ছিল। সেই সমঝোতা মোতাবেক এক মাস আগে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ৭ জনের নাম দেয়া হয়েছিল । এই ৭ জনের মধ্যে সমকাল সম্পাদক গোলাম সরোয়ার হবেন সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নইম নিজামের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন হবেন যুগ্ম সম্পাদাক। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেল তাদের নাম চুড়ান্ত করে জমা দিলেও বিএনপি-জামাত সমর্থিত ১০ জনের নাম জমা দিতে তারা অনেক দিন থেকে তালবাহানা করছিল। অবশেষে তারা রুহুল আমীন গজীকে সাধাররণ সম্পাদক ঘোষণা করে তাদের ১০ জনের একটি তালিকা দেয়। কেবলমাত্র এই (৭+১০) ১৭ জন ছাড়া আর কেউ নির্বাচনে দাড়াবেনা বলে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ সভাপতি প্রার্থি হিসেবে দাড়িয়ে যান এবং রহস্যজনক কারনে নইম নিজামের স্ত্রী ফরিদাও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। অন্যান্য পদেও প্রার্থী দেয়া হয়। ফলে সমঝোতা ভেঙ্গে যায়। প্রেসক্লাবের কমিটির মেয়াদ দেড় মাস আগেই পার হয়ে গেছে। বর্তমান কমিটির আর কোনও বৈধতা নেই। নির্বাচন কমিশনও সময়মত নির্বাচন করতে পারেননি। ফলে সাংবিধানিক সংকট ও চুড়ান্ত বিরোধের মধ্যে নিজেদের মান বাঁচাতে নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য রবিবার পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব এই মহুর্তে কোনও বৈধ কমিটি ছাড়াই শুন্যে ভাসমান রয়েছে। এরপর কি হয় তা অনিশ্চিত।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথা

আপডেট টাইম : ০৩:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০১৫

1431925783জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাজাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন ও কমিটি গঠন প্রসঙ্গে ফেসবুকে সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বলছেন নানা কথা। মানবকণ্ঠের পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো-
জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য পদত্যাগ করলেন। তাদেরকে বলা হয়েছিলো আওয়ামী লীগ,জামায়াত ও বিএনপি’র সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বিনা ভোটে প্রেসক্লাব দখল চান। ঐক্য হয়েছে আওয়ামী লীগ জামায়াতের।আওয়ামী লীগ সভাপতি,জামায়াতে ইসলামি সাধারন সম্পাদক এক প্যানেল। নির্বাচন কমিশনা অন্যায় আব্দার মানতে নারাজ। তারা ভোট করাতে চেয়েছিলেন। তাই তাদেরকে বাধ্য করা হলো পদত্যাগে। বেশ বেশ! জাতির বিবেক সেজে টক শোতে অথবা সংবাদপত্রে আমরা গণতন্ত্রের ছবক দেবো, বড় বড় কথা বলবো,আর নিজেরা ভোটাধিকার ধ্বংশ করবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ষক সেজে ঐক্য করবো জামায়াতের সঙ্গে। অসাধারন!’
সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাব নিয়ে কেনো বার বার বিতর্ক হয়? যুদ্ধাপরাধীরা কিভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হয়? সমগ্র জাতি যখন দেখলো যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রেসক্লাবের ২ সদস্যের ফাসি হলো তখন প্রেসক্লাবের মর্যাদা কোথায় থাকে? যে ভোটের অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার এদেশের সাংবাদিক সমাজ সেই সাংবাদিকরা কেনো জাতীয় প্রেসক্লাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? ধারাবাহিক লজ্বার হাত থেকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা মুক্তি চায়। যে মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সেই মুহূর্তে জামায়াতের সাথে ঐক্যের রহস্য 1431925814কী ? ঐক্যের নামে কেনো এই নির্বাচনী তামাশা? জাতি জানতে চায়।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে যত কথাডেইলি অবজারভারের সিনিয়র রিপোর্টার পুলক ঘটক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রেসক্লাবে আওয়ামীলীগ-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে প্যানেল দিয়েছে। এবং সেই প্যানেলকে বিনা নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চাপ দেয়া হয়েছিল। সেকারনে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেছে। এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে প্রেসক্লাব নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ সমর্থিত কোনও প্যানেল হয়নি। জামাতের সাথে জোট বদ্ধ হওয়া দূরের কথা। জামাত সমর্থিত কোনও প্যানেলও হয়নি। এই নির্বাচনে আদৌ কোনও প্রতিদ্বন্দীতা হওয়ার কথা ছিলনা। প্রেসক্লাবে সকল সাংবাদিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সদস্যপদ উন্মুক্ত করার দাবিতে আমোদের যে আন্দোলন তার প্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের অখন্ডতা রক্ষায় বিবদমান আওয়ামীলীগ ও বিএনপি ফোরামের নেতৃবৃন্দ একটি সমঝোতায় পৌছেছিল। সমঝোতা অনুযায়ী আওয়ামীলীগ সমর্থিত (সভাপতি সহ) ৭জন এবং বিএনপি-জামাত সমর্থিত (সাধারণ সম্পাদক সহ) ১০ জন নিয়ে সমঝোতার কমিটি গঠন করার কথা ছিল। সেই সমঝোতা মোতাবেক এক মাস আগে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ৭ জনের নাম দেয়া হয়েছিল । এই ৭ জনের মধ্যে সমকাল সম্পাদক গোলাম সরোয়ার হবেন সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নইম নিজামের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন হবেন যুগ্ম সম্পাদাক। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেল তাদের নাম চুড়ান্ত করে জমা দিলেও বিএনপি-জামাত সমর্থিত ১০ জনের নাম জমা দিতে তারা অনেক দিন থেকে তালবাহানা করছিল। অবশেষে তারা রুহুল আমীন গজীকে সাধাররণ সম্পাদক ঘোষণা করে তাদের ১০ জনের একটি তালিকা দেয়। কেবলমাত্র এই (৭+১০) ১৭ জন ছাড়া আর কেউ নির্বাচনে দাড়াবেনা বলে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ সভাপতি প্রার্থি হিসেবে দাড়িয়ে যান এবং রহস্যজনক কারনে নইম নিজামের স্ত্রী ফরিদাও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। অন্যান্য পদেও প্রার্থী দেয়া হয়। ফলে সমঝোতা ভেঙ্গে যায়। প্রেসক্লাবের কমিটির মেয়াদ দেড় মাস আগেই পার হয়ে গেছে। বর্তমান কমিটির আর কোনও বৈধতা নেই। নির্বাচন কমিশনও সময়মত নির্বাচন করতে পারেননি। ফলে সাংবিধানিক সংকট ও চুড়ান্ত বিরোধের মধ্যে নিজেদের মান বাঁচাতে নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য রবিবার পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব এই মহুর্তে কোনও বৈধ কমিটি ছাড়াই শুন্যে ভাসমান রয়েছে। এরপর কি হয় তা অনিশ্চিত।