পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ভুয়া সনদে ১৫৭ শিক্ষকের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

500x350_52314120fc6984f7e4963cae69d283ea_1408616169বাংলার খবর২৪.কম: ভুয়া সনদে শিক্ষকতা করছেন ১৫৭ জন শিক্ষক। বেতনসহ অন্যান্য ভাতা নিয়েছেন ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বেশি। ৫টি বিভাগে শতাধিক কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা পরিদর্শন করে এ ভুয়া ও জাল সনদধারী শিক্ষক চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৪শে আগস্ট পর্যন্ত ১৫৭ জন ভুয়া শিক্ষককের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ডিআইএ। বেতনভাত হিসেবে নেয়া এই টাকা আদায়কৃত বলে সুপারিশ করেছেন অধিদপ্তর। ডিআইএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে, এই ১৫৭ জন শিক্ষক ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ও অন্যান্য ভাতা হিসেবে নিয়েছেন। তাদের এসব টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। মাউশির তথ্যমতে, সারা দেশে ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিভিন্ন সময় তদন্ত করে যে প্রমাণ পেয়েছে তাতে প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষকই জাল কিংবা ভুয়া সনদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। এই হিসাবে ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক অবৈধভাবে চাকরি করছেন। এসব শিক্ষককে চিহ্নিত করতে তদন্ত প্রত্রিুয়া চলমান আছে বলে ডিআইএ কর্মকর্তা বলছেন। প্রতি মাসেই এ সংখ্যা বাড়ছে। সারা দেশে তদন্ত করে এ ভুয়া শিক্ষকদের খোঁজে বের করতে অনেক সময় লাগবে। তবে এ প্রত্রিুয়া চলমান থাকবে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ফেল করার পর এসব শিক্ষক ভুয়া নিবন্ধন সনদ জোগাড় করে সরকারি এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছে মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারী। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা প্রতি বছর গচ্চা যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই মহৎ পেশায় ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি করা বা পাঠদান করা-এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নীতি-নৈতিকতা শেখান। তারা নিজেরাই যদি অনৈতিক পন্থায় পেশায় কর্মরত হন, তাহলে শিক্ষার্থীদের কি নৈতিকতা শেখাবেন? তিনি বলেন, এই অবৈধ প্রত্রিুয়ার সঙ্গে শিক্ষক যেমন দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা আছেন। ম্যানেজমেন্টের প্রশ্রয় ছাড়া তো তাদের চাকরি হয়নি।
ডিআইএ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভুয়া সনদে প্রথম দিকে আছে রাজশাহী বিভাগ। দেড় বছরের এই বিভাগের ভুয়া শিক্ষকের সংখ্যা ৭১। এরা বেতন ভাতা হিসেবে নিয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ টাকা। এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায় করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এরপরই আছে খুলনা বিভাগ। ৪০ জন ভুয়া সনদধারী বেতনভাতা নিয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। তৃতীয় স্থানে ঢাকা বিভাগ ৩৯ জন শিক্ষক বেতনভাতা হিসেবে উত্তোলন করেছে ৯১ লাখ, ১২ হাজার, ৬৪৮ টাকা। তুলনামূলকভাবে কম চট্টগ্রাম ও সিলেট। এই দুই বিভাগে ৭ জন শিক্ষক অবৈধভাবে বেতনভাতা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫৪৩ টাকা।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান আশীষ কুমার সরকার বলেন, জাল সনদ ঠেকাতে এবার বেশ কিছু বার কোড সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। তারপরও সনদ জালিয়াতি হচ্ছে। কারণ এর পেছনে অনেক বড় সিন্ডিকেট জড়িত। গেল সপ্তাহে দশম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই দশটি পরীক্ষার বাইরে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারাই কেবল মূল সনদধারী।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ভুয়া সনদে ১৫৭ শিক্ষকের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট টাইম : ০৬:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৪

500x350_52314120fc6984f7e4963cae69d283ea_1408616169বাংলার খবর২৪.কম: ভুয়া সনদে শিক্ষকতা করছেন ১৫৭ জন শিক্ষক। বেতনসহ অন্যান্য ভাতা নিয়েছেন ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বেশি। ৫টি বিভাগে শতাধিক কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা পরিদর্শন করে এ ভুয়া ও জাল সনদধারী শিক্ষক চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৪শে আগস্ট পর্যন্ত ১৫৭ জন ভুয়া শিক্ষককের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ডিআইএ। বেতনভাত হিসেবে নেয়া এই টাকা আদায়কৃত বলে সুপারিশ করেছেন অধিদপ্তর। ডিআইএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে, এই ১৫৭ জন শিক্ষক ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ও অন্যান্য ভাতা হিসেবে নিয়েছেন। তাদের এসব টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। মাউশির তথ্যমতে, সারা দেশে ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিভিন্ন সময় তদন্ত করে যে প্রমাণ পেয়েছে তাতে প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষকই জাল কিংবা ভুয়া সনদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। এই হিসাবে ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক অবৈধভাবে চাকরি করছেন। এসব শিক্ষককে চিহ্নিত করতে তদন্ত প্রত্রিুয়া চলমান আছে বলে ডিআইএ কর্মকর্তা বলছেন। প্রতি মাসেই এ সংখ্যা বাড়ছে। সারা দেশে তদন্ত করে এ ভুয়া শিক্ষকদের খোঁজে বের করতে অনেক সময় লাগবে। তবে এ প্রত্রিুয়া চলমান থাকবে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ফেল করার পর এসব শিক্ষক ভুয়া নিবন্ধন সনদ জোগাড় করে সরকারি এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছে মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারী। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা প্রতি বছর গচ্চা যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই মহৎ পেশায় ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি করা বা পাঠদান করা-এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নীতি-নৈতিকতা শেখান। তারা নিজেরাই যদি অনৈতিক পন্থায় পেশায় কর্মরত হন, তাহলে শিক্ষার্থীদের কি নৈতিকতা শেখাবেন? তিনি বলেন, এই অবৈধ প্রত্রিুয়ার সঙ্গে শিক্ষক যেমন দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা আছেন। ম্যানেজমেন্টের প্রশ্রয় ছাড়া তো তাদের চাকরি হয়নি।
ডিআইএ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভুয়া সনদে প্রথম দিকে আছে রাজশাহী বিভাগ। দেড় বছরের এই বিভাগের ভুয়া শিক্ষকের সংখ্যা ৭১। এরা বেতন ভাতা হিসেবে নিয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ টাকা। এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায় করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এরপরই আছে খুলনা বিভাগ। ৪০ জন ভুয়া সনদধারী বেতনভাতা নিয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। তৃতীয় স্থানে ঢাকা বিভাগ ৩৯ জন শিক্ষক বেতনভাতা হিসেবে উত্তোলন করেছে ৯১ লাখ, ১২ হাজার, ৬৪৮ টাকা। তুলনামূলকভাবে কম চট্টগ্রাম ও সিলেট। এই দুই বিভাগে ৭ জন শিক্ষক অবৈধভাবে বেতনভাতা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫৪৩ টাকা।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান আশীষ কুমার সরকার বলেন, জাল সনদ ঠেকাতে এবার বেশ কিছু বার কোড সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। তারপরও সনদ জালিয়াতি হচ্ছে। কারণ এর পেছনে অনেক বড় সিন্ডিকেট জড়িত। গেল সপ্তাহে দশম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই দশটি পরীক্ষার বাইরে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারাই কেবল মূল সনদধারী।