পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

তিন মাসেও পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ধর্ষিত কিশোরী না ফেরার দেশে

যশোর : শার্শায় ধর্ষণের শিকার কিশোরী দীর্ঘ তিন মাস মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনার তিন মাস পার হলেও পুলিশ ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। তাই ধর্ষকের বিচার দেখে যেতে পারেনি ধর্ষিত মেয়েটি।

শনিবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাকে সমাহিত করা হয় যশোরের শার্শার রামপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মিলন সরদারের মেয়ে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, এপ্রিল মাসে ধর্ষণের শিকার হয় সোনিয়া। সে সময় তার মা বাদী হয়ে থানায় ‘ধর্ষক’ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সে সময় পুলিশ ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করে। তবে যথাসময় ও ঘটনাকালীন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করতে না পারায় ধর্ষণের আলামত মেলেনি।

এদিকে, ঘটনার পর মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে স্থানীয় চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু আর সুস্থ হয়ে উঠেনি।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য কবির হোসেন জানান, অভিযুক্ত মিলন এবং ওই কিশোরীরর বাড়ি পাশাপাশি। মিলনের ভাবি কিশোরীকে ঘরের মধ্যে তার (মিলন) জন্য খাবার পানি নিয়ে যেতে বলেন। এসময় কিশোরী পানি নিয়ে ঘরে গেলে মিলন তাকে জাপটে ধরে। এরপর ধর্ষণ করলে কিশোরী অজ্ঞান হয়। এরপর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত তিন চার ঘণ্টা ধরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে কোনো রকম জ্ঞান ফিরলে তাকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে চোখে চোখে রাখেন মিলনের পরিবার। যাতে বাইরের কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারেন।

কিন্তু গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হলে তারা গ্রাম পর্যায়ে শালিস বৈঠক করার জন্য উদ্যোগ নেন। আর বৈঠকের দিন দুপুরে অভিযুক্তরা গোপনে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে গ্রামবাসী থানায় মামলা করেন। এসময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে এখবর প্রকাশিত হয়।

ইউপি সদস্য কবির হোসেন আরও বলেন, ধর্ষণের পর থেকে বালিকাটি গুরুতর অসুস্থ হয়। তাকে স্থানীয় বাগআঁচড়া ক্লিনিক, শার্শা উপজেলার নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে যশোর কুইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। কিš ‘কিশোরীর জরায়ুতে ক্ষত হওয়ায় আর সেরে উঠেনি। ফলে বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা করানো হতো।

এবিষয়ে উলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইনাল হক জানান, মেয়েটি একই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা তৎপর হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় থানায় মামলা হয়। ওই ঘটনার পর মেয়েটি আর সুস্থ হয়নি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

তিন মাসেও পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ধর্ষিত কিশোরী না ফেরার দেশে

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০১৫

যশোর : শার্শায় ধর্ষণের শিকার কিশোরী দীর্ঘ তিন মাস মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনার তিন মাস পার হলেও পুলিশ ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। তাই ধর্ষকের বিচার দেখে যেতে পারেনি ধর্ষিত মেয়েটি।

শনিবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাকে সমাহিত করা হয় যশোরের শার্শার রামপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মিলন সরদারের মেয়ে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, এপ্রিল মাসে ধর্ষণের শিকার হয় সোনিয়া। সে সময় তার মা বাদী হয়ে থানায় ‘ধর্ষক’ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সে সময় পুলিশ ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করে। তবে যথাসময় ও ঘটনাকালীন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করতে না পারায় ধর্ষণের আলামত মেলেনি।

এদিকে, ঘটনার পর মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে স্থানীয় চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু আর সুস্থ হয়ে উঠেনি।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য কবির হোসেন জানান, অভিযুক্ত মিলন এবং ওই কিশোরীরর বাড়ি পাশাপাশি। মিলনের ভাবি কিশোরীকে ঘরের মধ্যে তার (মিলন) জন্য খাবার পানি নিয়ে যেতে বলেন। এসময় কিশোরী পানি নিয়ে ঘরে গেলে মিলন তাকে জাপটে ধরে। এরপর ধর্ষণ করলে কিশোরী অজ্ঞান হয়। এরপর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত তিন চার ঘণ্টা ধরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে কোনো রকম জ্ঞান ফিরলে তাকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে চোখে চোখে রাখেন মিলনের পরিবার। যাতে বাইরের কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারেন।

কিন্তু গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হলে তারা গ্রাম পর্যায়ে শালিস বৈঠক করার জন্য উদ্যোগ নেন। আর বৈঠকের দিন দুপুরে অভিযুক্তরা গোপনে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে গ্রামবাসী থানায় মামলা করেন। এসময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে এখবর প্রকাশিত হয়।

ইউপি সদস্য কবির হোসেন আরও বলেন, ধর্ষণের পর থেকে বালিকাটি গুরুতর অসুস্থ হয়। তাকে স্থানীয় বাগআঁচড়া ক্লিনিক, শার্শা উপজেলার নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে যশোর কুইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। কিš ‘কিশোরীর জরায়ুতে ক্ষত হওয়ায় আর সেরে উঠেনি। ফলে বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা করানো হতো।

এবিষয়ে উলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইনাল হক জানান, মেয়েটি একই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা তৎপর হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় থানায় মামলা হয়। ওই ঘটনার পর মেয়েটি আর সুস্থ হয়নি।