অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

ফুলছড়িতে জীবিতকে মৃত দেখিয়ে পাঁচ বয়স্ক ও বিধবার ভাতা বন্ধ

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে এক নারীসহ পাঁচ ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তাদের বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতার জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনসহ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্র জানায়, উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের আলগারচর গ্রামের আফসার আলী (৭৩)। তিনি ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বয়স্ক ভাতা (হিসাব নম্বর ১৬৮৭) পাওয়া শুরু করেন। কিন্তু ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তাঁকে ভাতা দেওয়া বন্ধ করা হয় । এছাড়া ২০০৯ সালের জুলাই মাসে একই গ্রামের জামেলা বেওয়ার (৮৫) বয়স্কভাতা (হিসাব নম্বর ১৬০৫) পাওয়া শুরু হয়। তাঁর ভাতা পাওয়া বন্ধ হয় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। একই ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামের লাইলি বেওয়া (৭৪) ২০০৮ সালের জুলাই মাস থেকে বিধবাভাতা (হিসাব নম্বর ১৫৮১) পাচ্ছিলেন। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়। এ ছাড়াও একইভাবে ডাকাতিয়ারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৭০) ও অপর এক ব্যক্তির ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বয়স্ক ভাতা প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী পুরুষের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর ও নারীর ক্ষেত্রে ৬২ বছরের উপরে বয়স হতে হবে। কোন ব্যক্তির নামে ভাতা চালুর পর থেকে তিনি আজীবন বয়স্ক ভাতা পাবেন। বিধবা ভাতা পাবার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে ভাতাপ্রাপ্ত নারীর দ্বিতীয় বিয়ে হলে তার ভাতা বাতিল হবে। প্রতিজন মাসিক ৩০০ টাকা করে ভাতা পাবার কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে একজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল মহিলাসহ ওই পাঁচজনকে মৃত দেখিয়ে বয়স্ক ও বিধবাভাতা বাতিল করেন। তিনি ঘুষ নিয়ে অন্য পাঁচজনকে ভাতা দেয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে পত্র দেন। এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড (আলগারচর গ্রাম) সদস্য নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী আজীবন বয়স্কভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যোগসাজস করে আমার গ্রামের আফসার আলী ও জমেলা বেওয়াকে মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ করে দেন। তারা এই দুইজনের পরিবর্তে অপর দুইজনের কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের নামে ভাতা বরাদ্দ করেন। একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড (হরিচন্ডি গ্রাম) সদস্য বদি উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যোগসাজস করে আমার গ্রামের লাইলি বেওয়াকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ করে ঘুষ নিয়ে অন্যজনকে ভাতা দিচ্ছেন। ডাকাতিয়ারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৭০) ও অপর এক ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফুলছড়ি উপজেলার এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নের মোট ৫ জনের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের স্থানান্তর (জায়গা পরিবর্তন) জনিত কারণে ভাতা বন্ধ করা হয়। মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ কিংবা ঘুষ নিয়ে অন্যদের ভাতা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

এসব বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম আকরাম হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের তথ্য ও আবেদনের উপর ভিত্তি করে ওই পাঁচজনের ভাতা বন্ধ করা হয়। কিন্তু তাদের পরিবর্তে ঘুষ নিয়ে অন্য কাউকে ভাতা দেওয়া হয়নি। ভুলবশত ওই পাঁচজনের ভাতা বন্ধ হয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে তাদের ভাতা চালু করা হবে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

ফুলছড়িতে জীবিতকে মৃত দেখিয়ে পাঁচ বয়স্ক ও বিধবার ভাতা বন্ধ

আপডেট টাইম : ১০:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০১৫

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে এক নারীসহ পাঁচ ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তাদের বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতার জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনসহ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্র জানায়, উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের আলগারচর গ্রামের আফসার আলী (৭৩)। তিনি ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বয়স্ক ভাতা (হিসাব নম্বর ১৬৮৭) পাওয়া শুরু করেন। কিন্তু ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তাঁকে ভাতা দেওয়া বন্ধ করা হয় । এছাড়া ২০০৯ সালের জুলাই মাসে একই গ্রামের জামেলা বেওয়ার (৮৫) বয়স্কভাতা (হিসাব নম্বর ১৬০৫) পাওয়া শুরু হয়। তাঁর ভাতা পাওয়া বন্ধ হয় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। একই ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামের লাইলি বেওয়া (৭৪) ২০০৮ সালের জুলাই মাস থেকে বিধবাভাতা (হিসাব নম্বর ১৫৮১) পাচ্ছিলেন। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়। এ ছাড়াও একইভাবে ডাকাতিয়ারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৭০) ও অপর এক ব্যক্তির ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বয়স্ক ভাতা প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী পুরুষের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর ও নারীর ক্ষেত্রে ৬২ বছরের উপরে বয়স হতে হবে। কোন ব্যক্তির নামে ভাতা চালুর পর থেকে তিনি আজীবন বয়স্ক ভাতা পাবেন। বিধবা ভাতা পাবার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে ভাতাপ্রাপ্ত নারীর দ্বিতীয় বিয়ে হলে তার ভাতা বাতিল হবে। প্রতিজন মাসিক ৩০০ টাকা করে ভাতা পাবার কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে একজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল মহিলাসহ ওই পাঁচজনকে মৃত দেখিয়ে বয়স্ক ও বিধবাভাতা বাতিল করেন। তিনি ঘুষ নিয়ে অন্য পাঁচজনকে ভাতা দেয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে পত্র দেন। এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড (আলগারচর গ্রাম) সদস্য নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী আজীবন বয়স্কভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যোগসাজস করে আমার গ্রামের আফসার আলী ও জমেলা বেওয়াকে মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ করে দেন। তারা এই দুইজনের পরিবর্তে অপর দুইজনের কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের নামে ভাতা বরাদ্দ করেন। একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড (হরিচন্ডি গ্রাম) সদস্য বদি উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যোগসাজস করে আমার গ্রামের লাইলি বেওয়াকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ করে ঘুষ নিয়ে অন্যজনকে ভাতা দিচ্ছেন। ডাকাতিয়ারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৭০) ও অপর এক ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফুলছড়ি উপজেলার এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নের মোট ৫ জনের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের স্থানান্তর (জায়গা পরিবর্তন) জনিত কারণে ভাতা বন্ধ করা হয়। মৃত দেখিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ কিংবা ঘুষ নিয়ে অন্যদের ভাতা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

এসব বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম আকরাম হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের তথ্য ও আবেদনের উপর ভিত্তি করে ওই পাঁচজনের ভাতা বন্ধ করা হয়। কিন্তু তাদের পরিবর্তে ঘুষ নিয়ে অন্য কাউকে ভাতা দেওয়া হয়নি। ভুলবশত ওই পাঁচজনের ভাতা বন্ধ হয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে তাদের ভাতা চালু করা হবে।