অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

কোটি টাকা আত্মসাৎ: স্বীকারোক্তিতে সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখার জিএম-ডিজিএমের নাম

রাজশাহী : রাজশাহীর তানোরে সোনালী ব্যাংক থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ধরা পড়ছেন রাঘববোয়ালরা। এরই মধ্যে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন টাকা আত্মসাতের হোতা তানোর সোনালী ব্যাংকের আইটি শাখা কর্মকর্তা নজির হোসেন সোহেলসহ তিনজন। এ নিয়ে স্বীকারক্তিসহ র‌্যাবের কাছে তিনি জবানবন্দীও দিয়েছেন। আর তাতেই একে একে বেরিয়ে আসছে এর সঙ্গে জড়িত অনেকেরই নাম।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব রাজশাহী-৫ এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সোহেল।

এর আগে স্ত্রী সালমা জাহান লিমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে প্রথমে সোহেলকে আটক করে র‌্যাব। এরপর রাতে আলাদা অভিযানে আটক হন তার স্ত্রী লিমা ও বন্ধু এস এম মাসুদ হাসান। সোহেলকে মাসুদ অপহরণ করে রেখেছিলেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ওই অভিযানে নামে। পরে আটককৃতদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোহেলের ভাষ্য, সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার অভ্যন্তরীণ হিসেব থেকে লভ্যাংশের মোট ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা সরিয়েছেন তিনি। তবে ওই টাকা তিনি একাই নেননি। এরমধ্যে ১৫ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর শাখার মহাব্যবস্থাপককে, ১০ লাখ টাকা উপ মহাব্যবস্থাপককে, তিনটি অডিট দলকে ৫ লাখ এবং ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ খালিদুলকেও কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন।

সোহেল আরও জানান, তানোর শাখায় হিসাব নম্বর খুলে টাকা সরিয়ে নেন সোহেল। এরপর পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী ও বাবার হিসাবনম্বরের মাধ্যমে তা উত্তোলন করেন। পরে ওই টাকা দিয়ে মাসুদের সহযোগিতায় নাচোলে প্রায় তিন শ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধানসহ ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন সোহেল। এছাড়া দুইটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসও কিনেছেন তিনি।

এ সময় র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৫ এর পরিচালক লে. কর্নেল মাহাবুব আলম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আটক সোহেল এক কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের নামই স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রয়াত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে রাজশাহীর তানোর শাখা থেকে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ওই শাখার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তা নাজির হোসেন সোহেল তা কৌশলে সরিয়ে নেন। গত ২৪ মে ব্যাংকের অভ্যান্তরীণ তদন্তে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ খালিদুল ও সোহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে গ্রেফতার এড়াতে ছুটির দরখাস্ত দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সোহেল।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

কোটি টাকা আত্মসাৎ: স্বীকারোক্তিতে সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখার জিএম-ডিজিএমের নাম

আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০১৫

রাজশাহী : রাজশাহীর তানোরে সোনালী ব্যাংক থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ধরা পড়ছেন রাঘববোয়ালরা। এরই মধ্যে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন টাকা আত্মসাতের হোতা তানোর সোনালী ব্যাংকের আইটি শাখা কর্মকর্তা নজির হোসেন সোহেলসহ তিনজন। এ নিয়ে স্বীকারক্তিসহ র‌্যাবের কাছে তিনি জবানবন্দীও দিয়েছেন। আর তাতেই একে একে বেরিয়ে আসছে এর সঙ্গে জড়িত অনেকেরই নাম।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব রাজশাহী-৫ এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সোহেল।

এর আগে স্ত্রী সালমা জাহান লিমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে প্রথমে সোহেলকে আটক করে র‌্যাব। এরপর রাতে আলাদা অভিযানে আটক হন তার স্ত্রী লিমা ও বন্ধু এস এম মাসুদ হাসান। সোহেলকে মাসুদ অপহরণ করে রেখেছিলেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ওই অভিযানে নামে। পরে আটককৃতদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোহেলের ভাষ্য, সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার অভ্যন্তরীণ হিসেব থেকে লভ্যাংশের মোট ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা সরিয়েছেন তিনি। তবে ওই টাকা তিনি একাই নেননি। এরমধ্যে ১৫ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর শাখার মহাব্যবস্থাপককে, ১০ লাখ টাকা উপ মহাব্যবস্থাপককে, তিনটি অডিট দলকে ৫ লাখ এবং ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ খালিদুলকেও কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন।

সোহেল আরও জানান, তানোর শাখায় হিসাব নম্বর খুলে টাকা সরিয়ে নেন সোহেল। এরপর পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী ও বাবার হিসাবনম্বরের মাধ্যমে তা উত্তোলন করেন। পরে ওই টাকা দিয়ে মাসুদের সহযোগিতায় নাচোলে প্রায় তিন শ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধানসহ ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন সোহেল। এছাড়া দুইটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসও কিনেছেন তিনি।

এ সময় র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৫ এর পরিচালক লে. কর্নেল মাহাবুব আলম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আটক সোহেল এক কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের নামই স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রয়াত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে রাজশাহীর তানোর শাখা থেকে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ওই শাখার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তা নাজির হোসেন সোহেল তা কৌশলে সরিয়ে নেন। গত ২৪ মে ব্যাংকের অভ্যান্তরীণ তদন্তে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ খালিদুল ও সোহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে গ্রেফতার এড়াতে ছুটির দরখাস্ত দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সোহেল।