পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ঈদের দিন বৃষ্টি হয় কেন?

ঢাকা: জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিকদল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আওয়াল। ৯০ দশকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দায়িত্বশীল হিসেবে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর জোনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সময়ের বিবর্তনে এখন তিনি পুরোপুরি একজন সূফিবাদী মতাদর্শীয় রাজনীতিক। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। পেশাগত জীবনে ব্যবসাতেও সময় দিতে হয় এই মধ্যবয়স্ক রাজনীতিককে। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া এমএ আউয়াল এবার তার জীবনের ৪৭তম ঈদ উদযাপন করেছেন। তার ঈদ স্মৃতি নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ‘রাজনীতিকের ঈদ’।

নিজের ঈদ-স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে এমএ আওয়াল বাংলামেইলকে বলেন, আমাদের বাড়িটি ছিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। তবে বেড়ে ওঠা ছিল ঢাকায়। তবে আমার জীবনের অধিকাংশ ঈদ গ্রামের বাড়িতেই কাটিয়েছি। প্রতিবছর ঈদের আগে ঢাকা থেকে আমরা গ্রামের বাড়ি যেতাম। কিন্তু গত এক দশক ধরে ঈদের দিনটা ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় নিজ বাসায় কাটাই। এ বাসাতেই মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বন্ধুদের সাথেই কাটিয়ে দেই ঈদের সারাটা দিন। ঈদের পরের দিন এলাকায় যাই।

গত দেড় দশক ধরে আমার ঈদের রেওয়াজটাই পাল্টে গেছে। বছরের অন্যান্য দিনের মতো এ দিনটিতেও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে থাকতেই ভালো লাগে। এর আগে এলাকায় গিয়ে জাকাত দেয়া, এলাকার ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করা- এ যেন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে।

ঈদের সকালে মিরপুরে নামাজ পড়ে বাবার কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরি। এরপর চেষ্টা করি সারাদিন বাসাতেই থাকতে। ওখানেই সবার সাথে গল্প-আড্ডা দিয়ে ঈদের দিনটা কাটিয়ে দেই।

awal-4আর ছোট বেলায় আমাদের ঈদের আনন্দ শুরু হতো শব-ই-কদর থেকেই। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার আগে আমরা মসজিদের ছাদে উঠতাম চাঁদ দেখার জন্য। বাড়ির ছেলেরা দল বেঁধে চাঁদ খুঁজতাম। যে আগে দেখতে পেত, তার ছিল বিশেষ গৌরব। কিন্তু আমি কখনো আগে দেখতে পাইনি। এমনকি সবাই যখন দেখছে, তখনও অনেক সময় আমার চোখে পড়তো না। কিন্তু অনেকবারই মিথ্যা বলেছি যে, আমিও দেখেছি। চাঁদরাতেই সন্ধ্যার পর আত্মীয়-স্বজনের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা মুরব্বিদের পা ধরে সালাম করতাম।

সালামি পেতে বেশ ভালোই লাগতো। সে কারণে এখন সালামি দিতে গিয়ে পুরনো কথা মনে পড়ে যায়। একবার সালামির টাকা হারিয়ে ফেলে অনেক কান্না করেছিলাম। পরে সবাই মিলে আমাকে শান্ত করেছিল।

ঈদের দিন আরেকটা কথা বেশ মনে পড়ে। কোনো এক ঈদে নামাজ পড়তে গিয়ে বৃষ্টিতে আমার পায়জামা-পাঞ্জাবি ভিজে গিয়েছিল। সেবার অনেক বৃষ্টি হয়েছিল। রাস্তা-ঘাট কর্দমাক্ত, ঈদগাহ থেকে ফেরার পথে সবাই জুতা হাতে নিয়ে হাঁটছিল আর আমাকেও তাই করতে বলছিল। কিন্তু আমি কিছুতেই তাতে রাজি হচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে জুতা পরে হাঁটতে গিয়ে কাঁদায় পড়ে গিয়েছিলাম। তখন বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম ঈদের দিন বৃষ্টি হয় কেন? তখন বাবা বলেছিলেন ঈদের দিন এমনিতেই বৃষ্টি হয়। এরপর ঈদের আগে বৃষ্টি হলেই সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাবার কথাও।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ঈদের দিন বৃষ্টি হয় কেন?

আপডেট টাইম : ১২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০১৫

ঢাকা: জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিকদল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আওয়াল। ৯০ দশকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দায়িত্বশীল হিসেবে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর জোনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সময়ের বিবর্তনে এখন তিনি পুরোপুরি একজন সূফিবাদী মতাদর্শীয় রাজনীতিক। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। পেশাগত জীবনে ব্যবসাতেও সময় দিতে হয় এই মধ্যবয়স্ক রাজনীতিককে। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া এমএ আউয়াল এবার তার জীবনের ৪৭তম ঈদ উদযাপন করেছেন। তার ঈদ স্মৃতি নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ‘রাজনীতিকের ঈদ’।

নিজের ঈদ-স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে এমএ আওয়াল বাংলামেইলকে বলেন, আমাদের বাড়িটি ছিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। তবে বেড়ে ওঠা ছিল ঢাকায়। তবে আমার জীবনের অধিকাংশ ঈদ গ্রামের বাড়িতেই কাটিয়েছি। প্রতিবছর ঈদের আগে ঢাকা থেকে আমরা গ্রামের বাড়ি যেতাম। কিন্তু গত এক দশক ধরে ঈদের দিনটা ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় নিজ বাসায় কাটাই। এ বাসাতেই মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বন্ধুদের সাথেই কাটিয়ে দেই ঈদের সারাটা দিন। ঈদের পরের দিন এলাকায় যাই।

গত দেড় দশক ধরে আমার ঈদের রেওয়াজটাই পাল্টে গেছে। বছরের অন্যান্য দিনের মতো এ দিনটিতেও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে থাকতেই ভালো লাগে। এর আগে এলাকায় গিয়ে জাকাত দেয়া, এলাকার ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করা- এ যেন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে।

ঈদের সকালে মিরপুরে নামাজ পড়ে বাবার কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরি। এরপর চেষ্টা করি সারাদিন বাসাতেই থাকতে। ওখানেই সবার সাথে গল্প-আড্ডা দিয়ে ঈদের দিনটা কাটিয়ে দেই।

awal-4আর ছোট বেলায় আমাদের ঈদের আনন্দ শুরু হতো শব-ই-কদর থেকেই। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার আগে আমরা মসজিদের ছাদে উঠতাম চাঁদ দেখার জন্য। বাড়ির ছেলেরা দল বেঁধে চাঁদ খুঁজতাম। যে আগে দেখতে পেত, তার ছিল বিশেষ গৌরব। কিন্তু আমি কখনো আগে দেখতে পাইনি। এমনকি সবাই যখন দেখছে, তখনও অনেক সময় আমার চোখে পড়তো না। কিন্তু অনেকবারই মিথ্যা বলেছি যে, আমিও দেখেছি। চাঁদরাতেই সন্ধ্যার পর আত্মীয়-স্বজনের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা মুরব্বিদের পা ধরে সালাম করতাম।

সালামি পেতে বেশ ভালোই লাগতো। সে কারণে এখন সালামি দিতে গিয়ে পুরনো কথা মনে পড়ে যায়। একবার সালামির টাকা হারিয়ে ফেলে অনেক কান্না করেছিলাম। পরে সবাই মিলে আমাকে শান্ত করেছিল।

ঈদের দিন আরেকটা কথা বেশ মনে পড়ে। কোনো এক ঈদে নামাজ পড়তে গিয়ে বৃষ্টিতে আমার পায়জামা-পাঞ্জাবি ভিজে গিয়েছিল। সেবার অনেক বৃষ্টি হয়েছিল। রাস্তা-ঘাট কর্দমাক্ত, ঈদগাহ থেকে ফেরার পথে সবাই জুতা হাতে নিয়ে হাঁটছিল আর আমাকেও তাই করতে বলছিল। কিন্তু আমি কিছুতেই তাতে রাজি হচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে জুতা পরে হাঁটতে গিয়ে কাঁদায় পড়ে গিয়েছিলাম। তখন বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম ঈদের দিন বৃষ্টি হয় কেন? তখন বাবা বলেছিলেন ঈদের দিন এমনিতেই বৃষ্টি হয়। এরপর ঈদের আগে বৃষ্টি হলেই সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাবার কথাও।