পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

নিঃস্ব হয়ে গেছে ৪শ’রও বেশি পরিবার: চলছে কান্না-আহাজারি

ঢাকা : বাবা আমার মালের দরকার নাই। আমি বিধবা, আমার বাচ্চাটা বাইরে আইতে পারছে এইডাই আল্লাহর শুকরিয়া। এমন প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করলেন রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ময়মনসিংহের আকলিমা।

অনিকা, আকলিমা আর ফেরদৌসীদের মতো চারশো’রও বেশি পরিবার এখন একেবারেই নিঃস্ব। ফুসকাওয়ালার আগুন কেড়ে নিয়ে গেছে তাদের সব। দুপুর সাড়ে ১২ টায়ও বসত ঘরে যেসব মালামাল সাজানো গোছানো ছিল সেসব এখন সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে আছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের পাশে বসে কান্না আর আহাজারি করছে তারা।

সোমবার বিকেলে এমন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে ঢাকা সিটি উত্তরের ২১ নং ওয়ার্ড কমিশনার ওসমান গণির মধ্যবাড্ডার বাসার সামনে। সোমবার দুপুরে আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশাল আকারের বস্তিটির প্রায় পুরোটা।

চারশো’রও বেশি খেটে খাওয়া পরিবার তাদের সব হারিয়ে এখন পথে বসেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু তারা নিয়ে বের হতে পারেননি বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব কেউ দিতে না পারলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন বললেন, আমাদের সবই শেষ হয়ে গেছে। শরীরের কাপড় ছাড়া আর কিছু নাই।

কিশোরগঞ্জের অনিকা। বেশ কিছু দিন ধরেই এখানে ভাড়া থাকেন। জিজ্ঞাসা করতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বললেন, আমি এখন কী করবো? আমার সবই শেষ হয়েছে। তার অভিযোগ, ফুসকাওয়ালাই এই সর্বনাশ করেছে। তিনি বলেন, ফুসকাওয়ালা আগুন লাগাই দিয়া সে ভাগছে। তবে, ফুসকাওয়ালার নাম-ঠিকানা কেউ বলতে পারছেন না।

একই কথা বললেন ফেরদৌসী বেগম।

পুড়ে যাওয়া বস্তিটির মালিক হলেন ওসমান পরিবার। ওয়ার্ড কমিশনার ওসমান গণি, তার ভাই, সামছুল হক, মেহেদী হাসান, সিরাজুল ইসলাম ও ফজলুল হক।
কমিশনার ওসমান গণির বড় ছেলে টিটু বলেন, এটা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এখানে ছোট বড় ৭ শ’রও বেশি রুম ছিল। ভাই ভাই বোর্ডিং নামে একটি আবাসিক হোটেল ছিল। সেটাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি
কমিশনারের ভাই সামছুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু বলেননি।

ফুসকাওয়ালার বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি তার ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বললেন, ফুসকাওয়ালা নতুন এসেছে। তাই তার নাম-ঠিকানা জানি না।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

নিঃস্ব হয়ে গেছে ৪শ’রও বেশি পরিবার: চলছে কান্না-আহাজারি

আপডেট টাইম : ০৭:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০১৫

ঢাকা : বাবা আমার মালের দরকার নাই। আমি বিধবা, আমার বাচ্চাটা বাইরে আইতে পারছে এইডাই আল্লাহর শুকরিয়া। এমন প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করলেন রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ময়মনসিংহের আকলিমা।

অনিকা, আকলিমা আর ফেরদৌসীদের মতো চারশো’রও বেশি পরিবার এখন একেবারেই নিঃস্ব। ফুসকাওয়ালার আগুন কেড়ে নিয়ে গেছে তাদের সব। দুপুর সাড়ে ১২ টায়ও বসত ঘরে যেসব মালামাল সাজানো গোছানো ছিল সেসব এখন সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে আছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের পাশে বসে কান্না আর আহাজারি করছে তারা।

সোমবার বিকেলে এমন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে ঢাকা সিটি উত্তরের ২১ নং ওয়ার্ড কমিশনার ওসমান গণির মধ্যবাড্ডার বাসার সামনে। সোমবার দুপুরে আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশাল আকারের বস্তিটির প্রায় পুরোটা।

চারশো’রও বেশি খেটে খাওয়া পরিবার তাদের সব হারিয়ে এখন পথে বসেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু তারা নিয়ে বের হতে পারেননি বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব কেউ দিতে না পারলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন বললেন, আমাদের সবই শেষ হয়ে গেছে। শরীরের কাপড় ছাড়া আর কিছু নাই।

কিশোরগঞ্জের অনিকা। বেশ কিছু দিন ধরেই এখানে ভাড়া থাকেন। জিজ্ঞাসা করতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বললেন, আমি এখন কী করবো? আমার সবই শেষ হয়েছে। তার অভিযোগ, ফুসকাওয়ালাই এই সর্বনাশ করেছে। তিনি বলেন, ফুসকাওয়ালা আগুন লাগাই দিয়া সে ভাগছে। তবে, ফুসকাওয়ালার নাম-ঠিকানা কেউ বলতে পারছেন না।

একই কথা বললেন ফেরদৌসী বেগম।

পুড়ে যাওয়া বস্তিটির মালিক হলেন ওসমান পরিবার। ওয়ার্ড কমিশনার ওসমান গণি, তার ভাই, সামছুল হক, মেহেদী হাসান, সিরাজুল ইসলাম ও ফজলুল হক।
কমিশনার ওসমান গণির বড় ছেলে টিটু বলেন, এটা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এখানে ছোট বড় ৭ শ’রও বেশি রুম ছিল। ভাই ভাই বোর্ডিং নামে একটি আবাসিক হোটেল ছিল। সেটাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি
কমিশনারের ভাই সামছুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু বলেননি।

ফুসকাওয়ালার বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি তার ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বললেন, ফুসকাওয়ালা নতুন এসেছে। তাই তার নাম-ঠিকানা জানি না।