অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ৩ উপজেলার দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দি

ফেনী প্রতিনিধি, : টানা বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নতুন করে , ফুলগাজী ও দাগনভ’ইয়া উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের প্রায় ৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দূর্গত এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, বসত ঘরে পানি ডুকে যাওয়ায় অনেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে স্কুলের বারেন্দায় আশ্রয় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে। গো-খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় চরম দূর্বিষ ও মানবেতর জীবন জাপন করছে দেড় লাখ মানুষ ।

ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম জানান, ভারতীয় পাহাড় ঢলে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ৬টি স্থান ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। দেখা দিয়ে দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও পানীয় জলের অভাব। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা জোনের প্রধান প্রকৌশলী মোসাদ্দেক হোসেন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলার শাহাপাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বৈরাগপুর, পশ্চিম ও উত্তর ঘনিয়ামোড়া, বরইয়া এবং পাশের ছাগলনাইয়া, পরশুরাম উপজেলা ও ট্যাটেশ্বর প্লাবিত হয়েছে।
সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, শর্শদি,আবুপুর, কইখালি গ্রামসহ অন্তত ১২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পাঁছগাছিয়া ইউপির আনোয়ার হোসেন মানিক জানান, এ ইউপি ২১টি গ্রামের ১৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রাম গুলো হচ্ছে উত্তর কাশিমপুর, বিরলী, উজালিয়া, লক্ষীয়ারা, ডমুরিয়া, এলাহিগঞ্জ ও বাস্কর। বন্যা দূর্গত এলাকার কিছু লোকজন বিরলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
রাজাপুর ইউপির চেয়ারম্যা আনোয়ার হোসেন জানান, তার এলাকার সবকটি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। অনেকে শহরের অত্মীয় স্বজন ও উচু স্থানে আশ্রায় নিচ্ছেন বলে জানা যায়। এতে কয়েকশ বসতবাড়িতে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ৭৮০টি পুকুর থেকে প্রায় ৫৬ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে ৯০ হেক্টর আমন বীজ তলা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এদিকে, আজ সোমবার বন্যায় দুর্গতদের বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়া অবিরাম বর্ষণে পানি অপসারন হতে না পারায় ফেনী শহরের এসএসকে সড়ক, ডাক্তারপাড়া, রামপুর, পাঠানবাড়ী রোড, শান্তি কোম্পানী রোড ও একাডেমী সড়ক সহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা প্লাবিত হয়েছে।
এতে করে ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগের শিকার। শহরের প্রধান খাল দখল করে পৌরসভা মার্কেট নির্মাণ করায় অপসারন ব্যাহত হয়ে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়ায় পানি অপসারন দাঠঝন ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
পূর্ব জয়নারায়নপুর গ্রামে আবাস ভ’ইয়া বাড়ির নুর হোসেন জানান, বাড়িতে পানি, আর ঘরে বিদ্যুৎ নেই ২ দিন ধরে।
এসব এলাকার মৎস্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, রাজাপুর ঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,শরিফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গৌতমখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সেকান্তরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাপুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,হাছানগনি পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গনিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোফিগন্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয়ে পানি ওঠায় ১২টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে । তবে এভাবে চলতে থাকে রাতের মধ্য হয়তো আরো ৩০/৪০টি বিদ্যায়লে পানি প্রবেশ করে পাঠদান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চাষীয় পুকুর ভেসে গেছে। খড়ের গাদ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে সাধারণ জানগন। অনেকের আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। রান্না ঘরের চুলো ডুবে যাওয়ায় বাহির থেকে শুকনো খাবার কিনে খুদা নিবারণ করতে দেখা গেছে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ৩ উপজেলার দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দি

আপডেট টাইম : ০৭:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০১৫

ফেনী প্রতিনিধি, : টানা বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নতুন করে , ফুলগাজী ও দাগনভ’ইয়া উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের প্রায় ৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দূর্গত এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, বসত ঘরে পানি ডুকে যাওয়ায় অনেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে স্কুলের বারেন্দায় আশ্রয় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে। গো-খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় চরম দূর্বিষ ও মানবেতর জীবন জাপন করছে দেড় লাখ মানুষ ।

ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম জানান, ভারতীয় পাহাড় ঢলে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ৬টি স্থান ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। দেখা দিয়ে দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও পানীয় জলের অভাব। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা জোনের প্রধান প্রকৌশলী মোসাদ্দেক হোসেন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলার শাহাপাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বৈরাগপুর, পশ্চিম ও উত্তর ঘনিয়ামোড়া, বরইয়া এবং পাশের ছাগলনাইয়া, পরশুরাম উপজেলা ও ট্যাটেশ্বর প্লাবিত হয়েছে।
সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, শর্শদি,আবুপুর, কইখালি গ্রামসহ অন্তত ১২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পাঁছগাছিয়া ইউপির আনোয়ার হোসেন মানিক জানান, এ ইউপি ২১টি গ্রামের ১৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রাম গুলো হচ্ছে উত্তর কাশিমপুর, বিরলী, উজালিয়া, লক্ষীয়ারা, ডমুরিয়া, এলাহিগঞ্জ ও বাস্কর। বন্যা দূর্গত এলাকার কিছু লোকজন বিরলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
রাজাপুর ইউপির চেয়ারম্যা আনোয়ার হোসেন জানান, তার এলাকার সবকটি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। অনেকে শহরের অত্মীয় স্বজন ও উচু স্থানে আশ্রায় নিচ্ছেন বলে জানা যায়। এতে কয়েকশ বসতবাড়িতে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ৭৮০টি পুকুর থেকে প্রায় ৫৬ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে ৯০ হেক্টর আমন বীজ তলা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এদিকে, আজ সোমবার বন্যায় দুর্গতদের বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়া অবিরাম বর্ষণে পানি অপসারন হতে না পারায় ফেনী শহরের এসএসকে সড়ক, ডাক্তারপাড়া, রামপুর, পাঠানবাড়ী রোড, শান্তি কোম্পানী রোড ও একাডেমী সড়ক সহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা প্লাবিত হয়েছে।
এতে করে ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগের শিকার। শহরের প্রধান খাল দখল করে পৌরসভা মার্কেট নির্মাণ করায় অপসারন ব্যাহত হয়ে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়ায় পানি অপসারন দাঠঝন ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
পূর্ব জয়নারায়নপুর গ্রামে আবাস ভ’ইয়া বাড়ির নুর হোসেন জানান, বাড়িতে পানি, আর ঘরে বিদ্যুৎ নেই ২ দিন ধরে।
এসব এলাকার মৎস্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, রাজাপুর ঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,শরিফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গৌতমখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সেকান্তরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাপুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,হাছানগনি পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গনিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোফিগন্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয়ে পানি ওঠায় ১২টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে । তবে এভাবে চলতে থাকে রাতের মধ্য হয়তো আরো ৩০/৪০টি বিদ্যায়লে পানি প্রবেশ করে পাঠদান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চাষীয় পুকুর ভেসে গেছে। খড়ের গাদ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে সাধারণ জানগন। অনেকের আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। রান্না ঘরের চুলো ডুবে যাওয়ায় বাহির থেকে শুকনো খাবার কিনে খুদা নিবারণ করতে দেখা গেছে।