অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

রাজন হত্যা: কামরুলকে ফেরাতে জটিলতার শঙ্কা

ঢাকা: শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় জটিলতা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সৌদি আরবে আটক কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সে দেশের সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার এজাহারের অনুলিপি, গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে কামরুলের বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত মোট ৩২ পৃষ্ঠার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে সামিউল হত্যার বিচার করা হবে। প্রস্তাবটি সৌদি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, ১৩ বছর বয়সী রাজনকে ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর সৌদি আরবপ্রবাসী কামরুল পালিয়ে সেখানে চলে যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাঁকে আটক করে সৌদি পুলিশ। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চুক্তি না থাকায় কামরুলকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। অন্য কোনো আইনে তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। সৌদি সরকার চাইলে কামরুলকে পুশব্যাকও করতে পারে অথবা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্ক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো কাগজপত্রে সিলেটের জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারও পাঠানো হয়েছে। ওই এজাহারে রাজনের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই ভোর ৬টায় ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় ওই ওয়ার্কশপের নিরাপত্তা প্রহরী ময়না মিয়া আশপাশের ওয়ার্কশপের লোকজনকে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে (রাজন) মারধর করে গুরুতর আহত করেন ও পরে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দায়ের করা এজাহারে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তাই পুলিশের এজাহারটি পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কামরুলের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কামরুলের ভাই ও এই মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলমসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গেফতার করেছে। তাঁদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। চুরির অভিযোগ তুলে রাজনকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে তা নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ভিডিওতে কামরুলকেও দেখা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার অর্থ এই নয় যে এক দেশের আসামি অন্য দেশে ধরা পড়লে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এমন বাধ্যবাধকতা নেই৷ এই নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশের অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷

১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেয়ালি গ্রামে রাজনের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২২ জুলাই সিলেটের বাদেয়ালি গ্রামে গিয়েও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার বলেন, রাজন হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা হবে। কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের আইনগত জটিলতা কাটিয়ে তাঁকে আনা হবে। তবে কখন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।

এই হত্যার ঘটনাটি সারা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি পৈশাচিক হত্যাকা-, নৃশংস হত্যাকা-। দেশের আপামর জনসাধারণের মনে ঘটনাটি দাগ কেটেছে।

কামরুলের দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামি কীভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

রাজন হত্যা: কামরুলকে ফেরাতে জটিলতার শঙ্কা

আপডেট টাইম : ০৫:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫

ঢাকা: শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় জটিলতা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সৌদি আরবে আটক কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সে দেশের সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার এজাহারের অনুলিপি, গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে কামরুলের বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত মোট ৩২ পৃষ্ঠার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে সামিউল হত্যার বিচার করা হবে। প্রস্তাবটি সৌদি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, ১৩ বছর বয়সী রাজনকে ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর সৌদি আরবপ্রবাসী কামরুল পালিয়ে সেখানে চলে যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাঁকে আটক করে সৌদি পুলিশ। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চুক্তি না থাকায় কামরুলকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। অন্য কোনো আইনে তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। সৌদি সরকার চাইলে কামরুলকে পুশব্যাকও করতে পারে অথবা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্ক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো কাগজপত্রে সিলেটের জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারও পাঠানো হয়েছে। ওই এজাহারে রাজনের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই ভোর ৬টায় ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় ওই ওয়ার্কশপের নিরাপত্তা প্রহরী ময়না মিয়া আশপাশের ওয়ার্কশপের লোকজনকে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে (রাজন) মারধর করে গুরুতর আহত করেন ও পরে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দায়ের করা এজাহারে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তাই পুলিশের এজাহারটি পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কামরুলের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কামরুলের ভাই ও এই মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলমসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গেফতার করেছে। তাঁদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। চুরির অভিযোগ তুলে রাজনকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে তা নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ভিডিওতে কামরুলকেও দেখা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার অর্থ এই নয় যে এক দেশের আসামি অন্য দেশে ধরা পড়লে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এমন বাধ্যবাধকতা নেই৷ এই নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশের অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷

১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেয়ালি গ্রামে রাজনের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২২ জুলাই সিলেটের বাদেয়ালি গ্রামে গিয়েও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার বলেন, রাজন হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা হবে। কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের আইনগত জটিলতা কাটিয়ে তাঁকে আনা হবে। তবে কখন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।

এই হত্যার ঘটনাটি সারা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি পৈশাচিক হত্যাকা-, নৃশংস হত্যাকা-। দেশের আপামর জনসাধারণের মনে ঘটনাটি দাগ কেটেছে।

কামরুলের দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামি কীভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।