পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

শোক শুভ্রা মুখার্জির গ্রামের বাড়িতেও

নড়াইল : ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সহধর্মিণী নড়াইলের মেয়ে শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর গ্রামের বাড়িতেও। শুভ্রা মুখার্জির বাবার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে আর মামার বাড়ি একই উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শুভ্রা মুখার্জি। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর গত শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে নয়াদিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।

২০১৩ সালের ৫ মার্চ শুভ্রা মুখার্জি বেড়াতে এসেছিলেন নড়াইলে তাঁর বাবার বাড়ি। সঙ্গে ছিলেন জামাইবাবু। দুজনকে এক সঙ্গে কাছে পেয়ে আত্মীয়স্বজন খই, ধান, দুর্বা ঘাস, মঙ্গলপ্রদীপ, শঙ্খ এবং উলুধ্বনি দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন।

শুভ্রা মুখার্জির পিসতোতো ভাই (ফুফাতো ভাই) কার্তিক ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, শুভ্রা মুখার্জি ৪ বছর বয়সে বাবার বাড়ি ভদ্রবিলা থেকে চলে যান তুলারামপুরে তাঁর মামার বাড়িতে। সেখানে চাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে চলে যান ভারতে। তারপর ১৯৯৫ সালে একবার এবং ২০১৩ সালে আরেকবার তিনি এসেছিলেন জন্মভূমিতে।

কার্তিক ঘোষ আরও বলেন, ‘দেশের মাটিতে আবারও বেড়াতে আসবেন বলে, মামা বাড়িতে বাড়ি-ঘর সংস্কার করাসহ দুটি মন্দির নির্মাণ করেন। দিদির ইচ্ছা ছিল, যে স্কুলে তিনি লেখাপড়া করেছেন, সেই স্কুলের বারান্দায় দুই পা লম্বা করে বসে ছবি তুলবেন। দিদির সে আশা আর পূরণ হলো না।’

শ্রাদ্ধ্যানুষ্ঠান শেষ হলে বাড়িতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা হবে বলে তিনি জানান।

শুভ্রা মুখার্জির ভাই কানাইলাল ঘোষ বলেন, ‘দিদি বাড়িতে প্রবেশ করেই প্রথমে রাধামাধব মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে বাড়ির উঠানে নির্মিত প্যান্ডেলের নিচে বসে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরিচিত হন। ৪৫ মিনিটের আগমন অনুষ্ঠানে দিদিকে নড়াইলের ক্ষীরের সন্দেশ, নারকেলের নাড়ু, দেশি বরই ও কুলবরইসহ নানা ধরনের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হলেও জামাইবাবু (প্রণব মুখার্জি) শুধু ডাবের জল পান করেছিলেন।’ তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে জোরদার করা হয়েছিল যে, সেখানে কোনো রকম বাইরের লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে দিদি স্কুলজীবনের সহপাঠী বনমালী বিশ্বাসকে ডেকে কুশল বিনিময় করেন।

শুভ্রা মুখার্জি ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চিত্রাপাড়ের ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম অমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, মা মীরা রানী ঘোষ। শৈশবকালে তুলারামপুর গ্রামে মামাবাড়ি থেকে চাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এবং ১৯৫৫ সালে ভারতে চলে যান। নয় ভাই-বোনের মধ্যে শুভ্রা ছিলেন দ্বিতীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক বছর পর নাড়ির টানে ১৯৯৫ সালে মেয়ে শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে শুভ্রা বেড়াতে এসেছিলেন নড়াইলে।

এলাকায় তিনি নিজ অর্থে একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রীদের জন্য ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী হোস্টেল নামে তিন তলা বিশিষ্ট একটি হোস্টেলও নির্মাণ করেছেন।

শুভ্রা ও প্রণব মুখার্জির দুই ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি ও সুরজিত মুখার্জি আর এক মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অভিজিৎ মুখার্জি বর্তমানে ভারতের সংসদ সদস্য। শর্মিষ্ঠা নৃত্যশিল্পী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

“বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির

শোক শুভ্রা মুখার্জির গ্রামের বাড়িতেও

আপডেট টাইম : ০২:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৫

নড়াইল : ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সহধর্মিণী নড়াইলের মেয়ে শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর গ্রামের বাড়িতেও। শুভ্রা মুখার্জির বাবার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে আর মামার বাড়ি একই উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শুভ্রা মুখার্জি। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর গত শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে নয়াদিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।

২০১৩ সালের ৫ মার্চ শুভ্রা মুখার্জি বেড়াতে এসেছিলেন নড়াইলে তাঁর বাবার বাড়ি। সঙ্গে ছিলেন জামাইবাবু। দুজনকে এক সঙ্গে কাছে পেয়ে আত্মীয়স্বজন খই, ধান, দুর্বা ঘাস, মঙ্গলপ্রদীপ, শঙ্খ এবং উলুধ্বনি দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন।

শুভ্রা মুখার্জির পিসতোতো ভাই (ফুফাতো ভাই) কার্তিক ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, শুভ্রা মুখার্জি ৪ বছর বয়সে বাবার বাড়ি ভদ্রবিলা থেকে চলে যান তুলারামপুরে তাঁর মামার বাড়িতে। সেখানে চাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে চলে যান ভারতে। তারপর ১৯৯৫ সালে একবার এবং ২০১৩ সালে আরেকবার তিনি এসেছিলেন জন্মভূমিতে।

কার্তিক ঘোষ আরও বলেন, ‘দেশের মাটিতে আবারও বেড়াতে আসবেন বলে, মামা বাড়িতে বাড়ি-ঘর সংস্কার করাসহ দুটি মন্দির নির্মাণ করেন। দিদির ইচ্ছা ছিল, যে স্কুলে তিনি লেখাপড়া করেছেন, সেই স্কুলের বারান্দায় দুই পা লম্বা করে বসে ছবি তুলবেন। দিদির সে আশা আর পূরণ হলো না।’

শ্রাদ্ধ্যানুষ্ঠান শেষ হলে বাড়িতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা হবে বলে তিনি জানান।

শুভ্রা মুখার্জির ভাই কানাইলাল ঘোষ বলেন, ‘দিদি বাড়িতে প্রবেশ করেই প্রথমে রাধামাধব মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে বাড়ির উঠানে নির্মিত প্যান্ডেলের নিচে বসে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরিচিত হন। ৪৫ মিনিটের আগমন অনুষ্ঠানে দিদিকে নড়াইলের ক্ষীরের সন্দেশ, নারকেলের নাড়ু, দেশি বরই ও কুলবরইসহ নানা ধরনের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হলেও জামাইবাবু (প্রণব মুখার্জি) শুধু ডাবের জল পান করেছিলেন।’ তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে জোরদার করা হয়েছিল যে, সেখানে কোনো রকম বাইরের লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে দিদি স্কুলজীবনের সহপাঠী বনমালী বিশ্বাসকে ডেকে কুশল বিনিময় করেন।

শুভ্রা মুখার্জি ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চিত্রাপাড়ের ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম অমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, মা মীরা রানী ঘোষ। শৈশবকালে তুলারামপুর গ্রামে মামাবাড়ি থেকে চাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এবং ১৯৫৫ সালে ভারতে চলে যান। নয় ভাই-বোনের মধ্যে শুভ্রা ছিলেন দ্বিতীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক বছর পর নাড়ির টানে ১৯৯৫ সালে মেয়ে শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে শুভ্রা বেড়াতে এসেছিলেন নড়াইলে।

এলাকায় তিনি নিজ অর্থে একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রীদের জন্য ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী হোস্টেল নামে তিন তলা বিশিষ্ট একটি হোস্টেলও নির্মাণ করেছেন।

শুভ্রা ও প্রণব মুখার্জির দুই ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি ও সুরজিত মুখার্জি আর এক মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অভিজিৎ মুখার্জি বর্তমানে ভারতের সংসদ সদস্য। শর্মিষ্ঠা নৃত্যশিল্পী।