অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

গ্রেনেড হামলার ১১বছর, শেষ হয়নি বিচার কার্য

ঢাকা: ২১ আগস্ট ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ১১ বছর হচ্ছে আজ। কিন্তুএখনো শেষ হয়নি ওই ঘটনার দুটি মামলার বিচার কার্য।

এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। শত শত মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। চিরদিনের জন্য পঙ্গু হন অনেকেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও হারান শ্রবণশক্তি।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটি বিচারাধীন।

মামলার ৪৯১ জন সাক্ষির মধ্যে ১৭৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়েছে ১৯ আগস্ট। রাষ্ট্রপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট করে বিচার শেষ হওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে কিছুই বলছে না। তবে তারা বলছেন, চলতি বছরেই মামলা দুটি একটি পর্যায়ে আসবে এবং আগামী বছর রায় হতেও পারে।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট মামলা দুটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেই ঘটনায় আহত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুব মহিলা লীগের কর্মী নুজাহাত আরা খান এ্যানি এদিন ১৭৬তম সাক্ষি হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দিন সাক্ষ্য গ্রহণের পর আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বিচার বিলম্বের কারণ সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী বিশেষ পিপি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, মামলা দুটিতে ৪৯১ জন সাক্ষি রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণের জন্য যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন শুধু তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে চার্জশিট হলেও তা সম্পূর্ণ ছিল না। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলা দুটি অধিকতর তদন্তে যায়। দুই দফা তদন্তেই ছয় বছর সময় ব্যয় হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ বিচার বিলম্বের জন্য কয়েকদফা উচ্চ আদালতে গিয়েছে।

তিনি আরো জানান, “রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তাই নির্দিষ্ট করে মামলার বিচার কবে শেষ হবে তা বলা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, যেভাবে মামলার বিচার এগিয়ে যাচ্ছে তাতে চলতি বছরই মামলাটি একটি পর্যায় আসবে এবং বিচার বিলম্বিত হলেও ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

ওই হামলার ঘটনায় ২০০৮ সালের ১১ জুন সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনর বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমানসহ আরো ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের বিচার শুরু হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।

আর সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বর্তমান বিএনপির এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

গ্রেনেড হামলার ১১বছর, শেষ হয়নি বিচার কার্য

আপডেট টাইম : ০২:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা: ২১ আগস্ট ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ১১ বছর হচ্ছে আজ। কিন্তুএখনো শেষ হয়নি ওই ঘটনার দুটি মামলার বিচার কার্য।

এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। শত শত মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। চিরদিনের জন্য পঙ্গু হন অনেকেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও হারান শ্রবণশক্তি।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটি বিচারাধীন।

মামলার ৪৯১ জন সাক্ষির মধ্যে ১৭৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়েছে ১৯ আগস্ট। রাষ্ট্রপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট করে বিচার শেষ হওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে কিছুই বলছে না। তবে তারা বলছেন, চলতি বছরেই মামলা দুটি একটি পর্যায়ে আসবে এবং আগামী বছর রায় হতেও পারে।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট মামলা দুটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেই ঘটনায় আহত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুব মহিলা লীগের কর্মী নুজাহাত আরা খান এ্যানি এদিন ১৭৬তম সাক্ষি হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দিন সাক্ষ্য গ্রহণের পর আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বিচার বিলম্বের কারণ সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী বিশেষ পিপি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, মামলা দুটিতে ৪৯১ জন সাক্ষি রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণের জন্য যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন শুধু তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে চার্জশিট হলেও তা সম্পূর্ণ ছিল না। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলা দুটি অধিকতর তদন্তে যায়। দুই দফা তদন্তেই ছয় বছর সময় ব্যয় হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ বিচার বিলম্বের জন্য কয়েকদফা উচ্চ আদালতে গিয়েছে।

তিনি আরো জানান, “রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তাই নির্দিষ্ট করে মামলার বিচার কবে শেষ হবে তা বলা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, যেভাবে মামলার বিচার এগিয়ে যাচ্ছে তাতে চলতি বছরই মামলাটি একটি পর্যায় আসবে এবং বিচার বিলম্বিত হলেও ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

ওই হামলার ঘটনায় ২০০৮ সালের ১১ জুন সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনর বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমানসহ আরো ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের বিচার শুরু হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।

আর সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বর্তমান বিএনপির এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।