পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

বগুড়ায় স্কুলের ১০ লক্ষাধিক টাকা গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি

বগুড়া : ঐতিহ্যবাহী করনেশন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ১০লক্ষাধিক টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। মূল্যবান গাছগুলো কেটে ফেলা হলেও কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় কেউ এ গাছ কাটার প্রতিবাদ করছে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কেটে ফেলা গাছ গুলোর বেশির ভাগই স্কুল মাঠের সামনে এবং পেছনের অংশে ছিলো। গত শুক্রবার ছুটির দিন থেকে গাছগুলো কাটা শুরু হলেও শনিবার ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা স্কুলে আসার পর সবাই বিষয়টি টের পান। কিন্তুু সবাই সবকিছু জানার আগেই শতবর্ষী গাছগুলোর গোড়া কেটে ফেলা হয়। কেটে ফেলা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১০টি মেহগনি গাছ, ১০টি রেইনট্রি (কড়ই) গাছ, ১টি আকাশমনি ও ১টি আমগাছ। স্কুল ভবনের পেছনে আরো প্রায় ৫০টি বড় বড় গাছ রয়েছে। সেগুলোও বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯১২সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় গাছগুলো লাগানো হয়। গাছগুলোর ছায়ায় পুরো স্কুলটি মনোরম পরিবেশ ছিল। একে একে কেটে ফেলা হয়েছে। নামমাত্র মূল্যে সেগুলো বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

করোনেশন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম জানান, ৩ মাস আগে স্টাফ কাউন্সিলের সভায় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বন বিভাগ থেকে লোক এসে ঝুঁকিপূর্ন গাছের তালিকা করে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এরপর পত্রিকায় ঘোষনা দিয়ে দরপত্র আহবান করি। ১৪-১৫ জন ব্যবসায়ি তাতে অংশ নেন। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিসমিল্লাহ কাঠ ঘরকে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। তবে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার এনামুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় একজন ঠিকাদার জানান, যে দরপত্র জমা পড়েছিলো সেগুলো সাজানো। গাছের প্রকৃত মূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হওয়ায় ভয়ে অনেকে সেখানে অংশ নেয়নি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক শুভাশীষ পোদ্দার লিটন জানান, আইন মেনে গাছ কাটা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

বগুড়ায় স্কুলের ১০ লক্ষাধিক টাকা গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি

আপডেট টাইম : ০৩:৩২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বগুড়া : ঐতিহ্যবাহী করনেশন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ১০লক্ষাধিক টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। মূল্যবান গাছগুলো কেটে ফেলা হলেও কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় কেউ এ গাছ কাটার প্রতিবাদ করছে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কেটে ফেলা গাছ গুলোর বেশির ভাগই স্কুল মাঠের সামনে এবং পেছনের অংশে ছিলো। গত শুক্রবার ছুটির দিন থেকে গাছগুলো কাটা শুরু হলেও শনিবার ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা স্কুলে আসার পর সবাই বিষয়টি টের পান। কিন্তুু সবাই সবকিছু জানার আগেই শতবর্ষী গাছগুলোর গোড়া কেটে ফেলা হয়। কেটে ফেলা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১০টি মেহগনি গাছ, ১০টি রেইনট্রি (কড়ই) গাছ, ১টি আকাশমনি ও ১টি আমগাছ। স্কুল ভবনের পেছনে আরো প্রায় ৫০টি বড় বড় গাছ রয়েছে। সেগুলোও বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯১২সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় গাছগুলো লাগানো হয়। গাছগুলোর ছায়ায় পুরো স্কুলটি মনোরম পরিবেশ ছিল। একে একে কেটে ফেলা হয়েছে। নামমাত্র মূল্যে সেগুলো বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

করোনেশন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম জানান, ৩ মাস আগে স্টাফ কাউন্সিলের সভায় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বন বিভাগ থেকে লোক এসে ঝুঁকিপূর্ন গাছের তালিকা করে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এরপর পত্রিকায় ঘোষনা দিয়ে দরপত্র আহবান করি। ১৪-১৫ জন ব্যবসায়ি তাতে অংশ নেন। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিসমিল্লাহ কাঠ ঘরকে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। তবে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার এনামুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় একজন ঠিকাদার জানান, যে দরপত্র জমা পড়েছিলো সেগুলো সাজানো। গাছের প্রকৃত মূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হওয়ায় ভয়ে অনেকে সেখানে অংশ নেয়নি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক শুভাশীষ পোদ্দার লিটন জানান, আইন মেনে গাছ কাটা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি।