অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিনা দোষে ২২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি!

সিলেট : বিনা দোষে ২২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলির বাসিন্দা ফজলু মিয়া।

বুধবার দুপুরে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে ফজলু মিয়ার জামিন শুনানির পর তা মঞ্জুর করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পূর্বে ফজলু মিয়া আদালতে হাজিরা দেন ১৯৮ দিন! দীর্ঘ ২২ বছর পর তাঁর এক বন্ধুর কল্যাণে তিনি বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পান।

সম্প্রতি ফজলু মিয়াকে নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন অনুসন্ধানী রিপোর্টও করে বেরিয়ে আসা ফজুল মিয়ার জীবনের নির্মম পরিহাসের কাহিনী নিয়ে। ফজলু মিয়ার ২২ বছরের কারাভোগের পিছনে লুকিয়ে আছে রহস্য।

একটি চক্র সহজ-সরল অসহায় ফজলু মিয়াকে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগ করায়। এর সঙ্গে ফজলু মিয়ার এক চাচাতো ভাই, পুলিশ, চিকিৎসক ও একজন আইনজীবী জড়িত রয়েছেন। এমনটি টেলিভিশনের ওই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেট মহানগরীর কোর্টপয়েন্ট থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ফজলু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের ১৩ ধারায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর ফজলু মিয়াকে একাধিকবার জামিন প্রদাণ করেন আদালত। কিন্তু তার কোনো নিকটাত্মীয়ের খোঁজ না পাওয়ায় মুক্ত হতে পারেননি ফজলু।

এভাবে পেরিয়ে যায় দীর্ঘ ২২ বছর। অবশেষে কয়েকদিন আগে ফজলু মিয়ার এক সহপাঠী, নগরীর দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন রাসেল জানতে পারেন ফজলু মিয়ার কারাবাসের বিষয়টি।

কামাল উদ্দিন রাসেল বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমার তেতলি এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া আমার সহপাঠি ছিলেন। তাঁকে অনেক বছর খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। তিন বছর আগে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। এরপর খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দেই। কিন্তু কয়েকদিন আগে জানতে পারি, তিনি কারাবন্ধী জীবন কাটাচ্ছেন। এরপর খোঁজখবর নিয়ে তার জামিনের ব্যবস্থা করি।’

সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে ফজলু মিয়ার জামিন শুনানি হয়। ফজলু মিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সৈয়দ শামিম আহমদ। ফজলু মিয়ার জামিনের বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট সহযোগিতা করে।

এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম বলেন, ‘আদালতে ফজলু মিয়াকে আসামি নয় বরং একজন ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছি। আদালত বিষয়টি অনুধাবন করে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিনা দোষে ২২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি!

আপডেট টাইম : ০৬:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫

সিলেট : বিনা দোষে ২২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলির বাসিন্দা ফজলু মিয়া।

বুধবার দুপুরে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে ফজলু মিয়ার জামিন শুনানির পর তা মঞ্জুর করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পূর্বে ফজলু মিয়া আদালতে হাজিরা দেন ১৯৮ দিন! দীর্ঘ ২২ বছর পর তাঁর এক বন্ধুর কল্যাণে তিনি বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পান।

সম্প্রতি ফজলু মিয়াকে নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন অনুসন্ধানী রিপোর্টও করে বেরিয়ে আসা ফজুল মিয়ার জীবনের নির্মম পরিহাসের কাহিনী নিয়ে। ফজলু মিয়ার ২২ বছরের কারাভোগের পিছনে লুকিয়ে আছে রহস্য।

একটি চক্র সহজ-সরল অসহায় ফজলু মিয়াকে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগ করায়। এর সঙ্গে ফজলু মিয়ার এক চাচাতো ভাই, পুলিশ, চিকিৎসক ও একজন আইনজীবী জড়িত রয়েছেন। এমনটি টেলিভিশনের ওই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেট মহানগরীর কোর্টপয়েন্ট থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ফজলু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের ১৩ ধারায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর ফজলু মিয়াকে একাধিকবার জামিন প্রদাণ করেন আদালত। কিন্তু তার কোনো নিকটাত্মীয়ের খোঁজ না পাওয়ায় মুক্ত হতে পারেননি ফজলু।

এভাবে পেরিয়ে যায় দীর্ঘ ২২ বছর। অবশেষে কয়েকদিন আগে ফজলু মিয়ার এক সহপাঠী, নগরীর দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন রাসেল জানতে পারেন ফজলু মিয়ার কারাবাসের বিষয়টি।

কামাল উদ্দিন রাসেল বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমার তেতলি এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া আমার সহপাঠি ছিলেন। তাঁকে অনেক বছর খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। তিন বছর আগে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। এরপর খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দেই। কিন্তু কয়েকদিন আগে জানতে পারি, তিনি কারাবন্ধী জীবন কাটাচ্ছেন। এরপর খোঁজখবর নিয়ে তার জামিনের ব্যবস্থা করি।’

সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে ফজলু মিয়ার জামিন শুনানি হয়। ফজলু মিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সৈয়দ শামিম আহমদ। ফজলু মিয়ার জামিনের বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট সহযোগিতা করে।

এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম বলেন, ‘আদালতে ফজলু মিয়াকে আসামি নয় বরং একজন ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছি। আদালত বিষয়টি অনুধাবন করে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’