পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

ঝিনাইদহে সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দিরে পূজা না করার সীদ্ধান্ত প্রত্যাহার

ঝিনাইদহ : সদর উপজেলার নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পূজা না করার সীদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।এ জন্য মন্দিরে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা প্রতিমাগুলো রোববার রাতে উন্মুক্ত করা হয়। মন্দির সংলগ্ন জলাশয় থেকে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাছ ধরার প্রতিবাদে স্থানীয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পূজা না করার সীদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবাদে তারা মন্দির চত্বরে আজ বিকালে মনববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির এহেন প্রতিবাদ কর্মসুচির কথা জানতে পেরে রোববার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়। প্রতিনিধি দলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র রায়, পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে কনক কান্তি দাস ও সুবির কুমার সমাদ্দার স্থানীয় সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটির সকল দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিনিধি দলের এ ধরনের প্রতিশ্র“তির প্রেক্ষিতে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা কালো কাপড় দেওয়া ঢেকে রাখা মুর্তিগুলো পূজা অর্চনার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মন্টু গোপাল বাবু সাংবাদিকদের জানান,মন্দিরের তত্বাবধানে দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে ২০ একর ২০ শতক। মোঘল সম্রাট আকবর নিস্কর হিসেবে এই সম্পত্তি সে সময় হিন্দুদের প্রার্থনার জন্য দেন। তখন থেকে কয়েক’শ বছর ধরে এই জলাশয় মন্দির কমিটি নিয়ন্ত্রন করে আসছে। সরকার এই সম্পত্তি খাস হিসেবে ঘোষনা করলে ২০০৯ সালে ঝিনাইদহের একটি আদালতে মন্দিরের পক্ষে অতুল অধিকারী মামলা করেন। যার মামলা নং ২৪/২০০৯।এই সম্পত্তির উপর আদালতের স্থিতি অবাস্থা জারীর পরও গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক ও তার অধীনস্ত কর্মকর্তারা জলাশয় দখলে নিয়ে মাছ বিক্রি করেন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নলডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৬০ বিঘা জমি দখলে নিয়ে সরকারিভাবে খাস আদায় করেন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এই সম্পত্তি দেবোত্বর হিসাবে দাবি করে মন্দিরের অনুকূলে নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা চালিয়ে আসছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহে সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দিরে পূজা না করার সীদ্ধান্ত প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ০২:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৫

ঝিনাইদহ : সদর উপজেলার নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পূজা না করার সীদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।এ জন্য মন্দিরে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা প্রতিমাগুলো রোববার রাতে উন্মুক্ত করা হয়। মন্দির সংলগ্ন জলাশয় থেকে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাছ ধরার প্রতিবাদে স্থানীয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পূজা না করার সীদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবাদে তারা মন্দির চত্বরে আজ বিকালে মনববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির এহেন প্রতিবাদ কর্মসুচির কথা জানতে পেরে রোববার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়। প্রতিনিধি দলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র রায়, পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে কনক কান্তি দাস ও সুবির কুমার সমাদ্দার স্থানীয় সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটির সকল দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিনিধি দলের এ ধরনের প্রতিশ্র“তির প্রেক্ষিতে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা কালো কাপড় দেওয়া ঢেকে রাখা মুর্তিগুলো পূজা অর্চনার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সিদ্ধেশ্বরী পূজা মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মন্টু গোপাল বাবু সাংবাদিকদের জানান,মন্দিরের তত্বাবধানে দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে ২০ একর ২০ শতক। মোঘল সম্রাট আকবর নিস্কর হিসেবে এই সম্পত্তি সে সময় হিন্দুদের প্রার্থনার জন্য দেন। তখন থেকে কয়েক’শ বছর ধরে এই জলাশয় মন্দির কমিটি নিয়ন্ত্রন করে আসছে। সরকার এই সম্পত্তি খাস হিসেবে ঘোষনা করলে ২০০৯ সালে ঝিনাইদহের একটি আদালতে মন্দিরের পক্ষে অতুল অধিকারী মামলা করেন। যার মামলা নং ২৪/২০০৯।এই সম্পত্তির উপর আদালতের স্থিতি অবাস্থা জারীর পরও গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক ও তার অধীনস্ত কর্মকর্তারা জলাশয় দখলে নিয়ে মাছ বিক্রি করেন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নলডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৬০ বিঘা জমি দখলে নিয়ে সরকারিভাবে খাস আদায় করেন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এই সম্পত্তি দেবোত্বর হিসাবে দাবি করে মন্দিরের অনুকূলে নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা চালিয়ে আসছেন।