পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই

মাদারীপুরে খালা-ভাগনীকে গণধর্ষণ

মাদারীপুর: মাদারীপুরের নিভৃত এক গ্রামে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট শেষেও ক্ষ্যান্ত হয়নি পাষন্ডরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মেয়ে আর শালীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা এক ডাকাতকে চিনে ফেলে। জোড়া ধর্ষণের বিচারের আশায় ধর্ণা দেয় স্থানীয় গণমান্যদের কাছে। আর এতেই যেন কাল হয়ে উঠে ওই দিন মজুরের পরিবারের। প্রভাবশালী ওই ধর্ষক প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উচ্ছেদ করে মাথা গোঁজার সর্বশেষ সম্বল থেকে।

পুলিশকে বিষয়টি জানালেও অনেক গড়িমসির পর অবশেষে আজ বুধবার দুপুরে মামলা নেয়।

তবে এখনো গ্রেফতার হয়নি মূল হোতা। এদিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিৎকিসাধীন রয়েছে ধর্ষণের শিকার হওয়া খালা ও ভাগনী।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কালকিনি উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিভৃত ঘুঙিয়াকুল গ্রামে দিন মজুরের কাজ করে খালের ধারে মাত্র ৩ শতাংশ জমিতে ছোট খুপড়ী ঘরে স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে কোনরকম চলছিল অসহায় পরিবারটির। ঘটনার কয়েকদিন আগে শালীকা বেড়াতে আসে। এই সুযোগে শুক্রবার গভীর রাতে ৭ থেকে ১০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা-পয়সা স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি অস্ত্রধারীরা। নিজের চোখের সামনে থেকে বড় মেয়ে আর শালীকাকে ধরে নিয়ে পাশের জমিতে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী আকছেদ দর্জির ছেলে আতাউর দর্জিকে চিনে ফেলে ওই দিন মজুর ও তার পরিবারের সদস্যরা। সকালে স্থানীয় গণমান্যদের বিষয়টি জানালেও কোন বিচার করেনি। পরে বাধ্য হয়ে ডাসার থানায় মৌখিকভাবে জানান ধর্ষিতার পিতা। তবে প্রভাবশালীদের চাপে তখন মামলা নেইনি পুলিশ। বরং আতাউর দর্জি জীবননাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা জানান, আমি গ্রামের মাতুব্বরদের কাছে ধর্ণা দিয়েছি। কোন সুফল পাইনি। ডাসার থানায় বলাও কোন প্রতিবার মেলেনি। উল্টো প্রভাবশালী আতাউর আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এই কারণে আমরা বাড়ি ছেড়েছি। আমি আমার মেয়ে ও শালীকার ইজ্জতের সঠিক বিচার চাই।

তবে ঘটনার দু’দিন পরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই দুই নারীকে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে ল্যাবটারিতে পাঠানো হয়েছে। প্রভাবশালী আতাউর দর্জির ভয়ে পরিবারটি আশ্রয় নিয়েছে জেলা সদরের এক আত্মীয়র বাড়ীতে। এই ঘটনায় নির্বিক এলাকাবাসী। পুলিশের ভূমিকায় হতাশও তারা। এই ঘটনায় ন্যায় বিচার দাবী করেন গ্রামবাসী। আর ধর্ষিণের শিকার দিন মজুরের শালীকা নিজের সম্ভ্রমের দৃশান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতাউর দর্জিকে পাওয়া যায়নি। তার বড় ভাবী নাজমা বেগম গ্রাম্য ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন।

এদিকে ডাসার থানার পুলিশ বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব না নিলেও পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেনের নির্দেশে বুধবার দুপুরে ডাসার থানায় মামলা নেয়া হয়। নির্মম এই জোড়া ধর্ষণের দৃশান্তমূলক শাস্তি চান মাদারীপুর সুশীল সমাজসহ স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান

মাদারীপুরে খালা-ভাগনীকে গণধর্ষণ

আপডেট টাইম : ০২:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৫

মাদারীপুর: মাদারীপুরের নিভৃত এক গ্রামে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট শেষেও ক্ষ্যান্ত হয়নি পাষন্ডরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মেয়ে আর শালীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা এক ডাকাতকে চিনে ফেলে। জোড়া ধর্ষণের বিচারের আশায় ধর্ণা দেয় স্থানীয় গণমান্যদের কাছে। আর এতেই যেন কাল হয়ে উঠে ওই দিন মজুরের পরিবারের। প্রভাবশালী ওই ধর্ষক প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উচ্ছেদ করে মাথা গোঁজার সর্বশেষ সম্বল থেকে।

পুলিশকে বিষয়টি জানালেও অনেক গড়িমসির পর অবশেষে আজ বুধবার দুপুরে মামলা নেয়।

তবে এখনো গ্রেফতার হয়নি মূল হোতা। এদিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিৎকিসাধীন রয়েছে ধর্ষণের শিকার হওয়া খালা ও ভাগনী।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার কালকিনি উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিভৃত ঘুঙিয়াকুল গ্রামে দিন মজুরের কাজ করে খালের ধারে মাত্র ৩ শতাংশ জমিতে ছোট খুপড়ী ঘরে স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে কোনরকম চলছিল অসহায় পরিবারটির। ঘটনার কয়েকদিন আগে শালীকা বেড়াতে আসে। এই সুযোগে শুক্রবার গভীর রাতে ৭ থেকে ১০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা-পয়সা স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি অস্ত্রধারীরা। নিজের চোখের সামনে থেকে বড় মেয়ে আর শালীকাকে ধরে নিয়ে পাশের জমিতে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী আকছেদ দর্জির ছেলে আতাউর দর্জিকে চিনে ফেলে ওই দিন মজুর ও তার পরিবারের সদস্যরা। সকালে স্থানীয় গণমান্যদের বিষয়টি জানালেও কোন বিচার করেনি। পরে বাধ্য হয়ে ডাসার থানায় মৌখিকভাবে জানান ধর্ষিতার পিতা। তবে প্রভাবশালীদের চাপে তখন মামলা নেইনি পুলিশ। বরং আতাউর দর্জি জীবননাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা জানান, আমি গ্রামের মাতুব্বরদের কাছে ধর্ণা দিয়েছি। কোন সুফল পাইনি। ডাসার থানায় বলাও কোন প্রতিবার মেলেনি। উল্টো প্রভাবশালী আতাউর আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এই কারণে আমরা বাড়ি ছেড়েছি। আমি আমার মেয়ে ও শালীকার ইজ্জতের সঠিক বিচার চাই।

তবে ঘটনার দু’দিন পরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই দুই নারীকে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে ল্যাবটারিতে পাঠানো হয়েছে। প্রভাবশালী আতাউর দর্জির ভয়ে পরিবারটি আশ্রয় নিয়েছে জেলা সদরের এক আত্মীয়র বাড়ীতে। এই ঘটনায় নির্বিক এলাকাবাসী। পুলিশের ভূমিকায় হতাশও তারা। এই ঘটনায় ন্যায় বিচার দাবী করেন গ্রামবাসী। আর ধর্ষিণের শিকার দিন মজুরের শালীকা নিজের সম্ভ্রমের দৃশান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতাউর দর্জিকে পাওয়া যায়নি। তার বড় ভাবী নাজমা বেগম গ্রাম্য ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন।

এদিকে ডাসার থানার পুলিশ বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব না নিলেও পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেনের নির্দেশে বুধবার দুপুরে ডাসার থানায় মামলা নেয়া হয়। নির্মম এই জোড়া ধর্ষণের দৃশান্তমূলক শাস্তি চান মাদারীপুর সুশীল সমাজসহ স্থানীয় সাধারণ জনগণ।