অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

উচ্চহার সুদে বিদেশি ঋণ: ৩ বছরে সার্ভিস চার্জসহ গচ্চা ৭ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা : উচ্চহার সুদে বিদেশি ঋণ নেয়ায় সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। সার্ভিস চার্জসহ এসব ঋণে গত তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ যে প্রকল্পগুলোর জন্য এসব ঋণ নেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই তেমন জরুরি ছিল না। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব প্রকল্পের জন্য বিকল্প কোন উৎস্য থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়ার চেষ্টাও করা হয়নি। যে কারণে সরকারকে এখন প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্বব্যাংক এবং এ ধরনের কিছু দাতা সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া হলে সুদ ও সার্ভিস চার্জের হার ০.৭৫ শতাংশ বা তারও কম পড়ে। অন্যদিকে সরকার চীন, রাশিয়া, কোরিয়া প্রভূতি দেশ থেকে ঋণ নিয়েছে ৬-৭ শতাংশ হার সুদে। সাম্প্রতিক সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলি নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, সরকারি কারখানা আধুনিকায়ন, শাহাজালাল সার কারখানা নির্মাণসহ ৫০ টিরও বেশি প্রকল্পে উচ্চহার সুদ এবং সার্ভিস চার্জে ঋণ নেয়ার কারণে এ বিপুল অর্থ গচ্চা দিতে হয়েছে সরকারকে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে কর্ণফুলি নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, সরকারি কারখানা আধুনিকায়নসহ অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো অতি জরুরি বলে বিবেচিত নয়। এসব প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সময় নিয়ে সরকার অন্য বিকল্প উৎস্য দেখতে পারত। দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কম সুদ এবং সার্ভিস চার্জের ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু এ অর্থের জন্য বিকল্প বা কম সুদের চেষ্টা না করে উচ্চ সুদে ঋণ নেয় হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে কেনা কাটায়। যেখানে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা শীর্ষ নিউজকে বলেন, কঠিন শর্তে চীন, রাশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কারণে বড় অঙ্কের অর্থ গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে। মূলত বিদেশি ঋণের নামে এ টাকার অনেকটা পকেটে ভরতেই বিভিন্ন পণ্য কিনতে ঋণ নেয়া হয়েছে। এতে কর্মকর্তারা দুর্নীতি এবং অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। কারণ যে সমস্ত খাতে ঋণ নেয়া হয়েছে তা সহজ শর্তে বিশ্বব্যাংক কিংবা জাপানের কাছ থেকে পাওয়া যেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩৪ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয়। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ২৬ কোটি ডলার বা ২ হাজার কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয় এবং ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয়।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

উচ্চহার সুদে বিদেশি ঋণ: ৩ বছরে সার্ভিস চার্জসহ গচ্চা ৭ হাজার কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৬

ঢাকা : উচ্চহার সুদে বিদেশি ঋণ নেয়ায় সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। সার্ভিস চার্জসহ এসব ঋণে গত তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ যে প্রকল্পগুলোর জন্য এসব ঋণ নেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই তেমন জরুরি ছিল না। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব প্রকল্পের জন্য বিকল্প কোন উৎস্য থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়ার চেষ্টাও করা হয়নি। যে কারণে সরকারকে এখন প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্বব্যাংক এবং এ ধরনের কিছু দাতা সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া হলে সুদ ও সার্ভিস চার্জের হার ০.৭৫ শতাংশ বা তারও কম পড়ে। অন্যদিকে সরকার চীন, রাশিয়া, কোরিয়া প্রভূতি দেশ থেকে ঋণ নিয়েছে ৬-৭ শতাংশ হার সুদে। সাম্প্রতিক সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলি নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, সরকারি কারখানা আধুনিকায়ন, শাহাজালাল সার কারখানা নির্মাণসহ ৫০ টিরও বেশি প্রকল্পে উচ্চহার সুদ এবং সার্ভিস চার্জে ঋণ নেয়ার কারণে এ বিপুল অর্থ গচ্চা দিতে হয়েছে সরকারকে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে কর্ণফুলি নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, সরকারি কারখানা আধুনিকায়নসহ অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো অতি জরুরি বলে বিবেচিত নয়। এসব প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সময় নিয়ে সরকার অন্য বিকল্প উৎস্য দেখতে পারত। দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কম সুদ এবং সার্ভিস চার্জের ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু এ অর্থের জন্য বিকল্প বা কম সুদের চেষ্টা না করে উচ্চ সুদে ঋণ নেয় হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে কেনা কাটায়। যেখানে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা শীর্ষ নিউজকে বলেন, কঠিন শর্তে চীন, রাশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কারণে বড় অঙ্কের অর্থ গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে। মূলত বিদেশি ঋণের নামে এ টাকার অনেকটা পকেটে ভরতেই বিভিন্ন পণ্য কিনতে ঋণ নেয়া হয়েছে। এতে কর্মকর্তারা দুর্নীতি এবং অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। কারণ যে সমস্ত খাতে ঋণ নেয়া হয়েছে তা সহজ শর্তে বিশ্বব্যাংক কিংবা জাপানের কাছ থেকে পাওয়া যেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩৪ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয়। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ২৬ কোটি ডলার বা ২ হাজার কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয় এবং ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা সুদ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করা হয়।