অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

ঢাকা: বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদারকে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ তাঁর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করার কথা রয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, শুরুতে আবুলের হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীটি সচল করার চেষ্টা করা হবে।

খুলনার পাইকগাছার সরল গ্রামের আবুল বাজনদারের দুই হাতের তালুর চামড়া এবং ১০টি আঙুল প্রসারিত হয়ে গাছের শিকড়ের মতো হয়ে গেছে। পায়ের আঙুল আর তালুতেও একই অবস্থা। হাত ও পায়ের নখগুলো আর দেখা যায় না। আবুলের বয়স যখন ১৫ বছর, তখন তার ডান হাঁটুর নিচে আঁচিলের মতো একধরনের গোটা উঠতে থাকে। পরে দুই হাতের কনুই পর্যন্ত এবং দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত আঁচিলে ভরে যায়।

খুলনার চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি এপিডার্মোডাইসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস নামের একটি বিরল রোগে ভুগছেন। এই রোগের জন্য দায়ী একধরনের ভাইরাস। এছাড়া জিনগত কারণেও এ রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মানুষ তার দৈনন্দিন কাজের একটা বড় অংশ বুড়ো আঙুল আর তর্জনী দিয়ে সারতে পারেন। আবুল বাজনদার তাঁর সব কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আমরা চেষ্টা করব শুরুতে অস্ত্রোপচার করে আঙুল দুটোকে উদ্ধার করতে।’

আবুল বাজনদারের চিকিৎসা বাংলাদেশেই করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সামন্ত লাল সেন। তিনি আরও বলেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আজ রোববার আবুল বাজনদারের জন্য একটি বোর্ড গঠন করতে পারে। তাঁর চিকিৎসারও পুরো ব্যয় বহন করবে এই ইউনিট।

আবুল বাজনদার শনিবার বলেন, ১০ বছর বয়সে তাঁর হাত ও পায়ে চামড়া প্রসারিত হয়ে তা শিকড়ের আকার নেয়। টাকাপয়সার অভাবে তাঁর পরিবার সেই অর্থে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখন আপনাগের দোয়ায় আল্লাহ যদি ফিরি চায়। চায়ে-চিন্তে চলি আমি। কোনো কাজ করতে পারি না। খুব কষ্ট।’

বাড়িতে রেখে আসা তিন বছরের মেয়েটির জন্যও তাঁর খুব কষ্ট হয় বলে জানান আবুল বাজনদার।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

আপডেট টাইম : ০৩:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৬

ঢাকা: বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদারকে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ তাঁর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করার কথা রয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, শুরুতে আবুলের হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীটি সচল করার চেষ্টা করা হবে।

খুলনার পাইকগাছার সরল গ্রামের আবুল বাজনদারের দুই হাতের তালুর চামড়া এবং ১০টি আঙুল প্রসারিত হয়ে গাছের শিকড়ের মতো হয়ে গেছে। পায়ের আঙুল আর তালুতেও একই অবস্থা। হাত ও পায়ের নখগুলো আর দেখা যায় না। আবুলের বয়স যখন ১৫ বছর, তখন তার ডান হাঁটুর নিচে আঁচিলের মতো একধরনের গোটা উঠতে থাকে। পরে দুই হাতের কনুই পর্যন্ত এবং দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত আঁচিলে ভরে যায়।

খুলনার চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি এপিডার্মোডাইসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস নামের একটি বিরল রোগে ভুগছেন। এই রোগের জন্য দায়ী একধরনের ভাইরাস। এছাড়া জিনগত কারণেও এ রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মানুষ তার দৈনন্দিন কাজের একটা বড় অংশ বুড়ো আঙুল আর তর্জনী দিয়ে সারতে পারেন। আবুল বাজনদার তাঁর সব কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আমরা চেষ্টা করব শুরুতে অস্ত্রোপচার করে আঙুল দুটোকে উদ্ধার করতে।’

আবুল বাজনদারের চিকিৎসা বাংলাদেশেই করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সামন্ত লাল সেন। তিনি আরও বলেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আজ রোববার আবুল বাজনদারের জন্য একটি বোর্ড গঠন করতে পারে। তাঁর চিকিৎসারও পুরো ব্যয় বহন করবে এই ইউনিট।

আবুল বাজনদার শনিবার বলেন, ১০ বছর বয়সে তাঁর হাত ও পায়ে চামড়া প্রসারিত হয়ে তা শিকড়ের আকার নেয়। টাকাপয়সার অভাবে তাঁর পরিবার সেই অর্থে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখন আপনাগের দোয়ায় আল্লাহ যদি ফিরি চায়। চায়ে-চিন্তে চলি আমি। কোনো কাজ করতে পারি না। খুব কষ্ট।’

বাড়িতে রেখে আসা তিন বছরের মেয়েটির জন্যও তাঁর খুব কষ্ট হয় বলে জানান আবুল বাজনদার।