অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই

কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে

কাশ্মীরে গেরিলা হামলায় ১৭ সেনা নিহত হওয়ার পর সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় এরইমধ্যে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী উরি শহরে রোববার এ হামলা হয়।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। গেরিলা হামলার পর ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাদের ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তানের ভেতরে প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ গেরিলা ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলা চালাতে হবে। ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং বলেছেন, তার সেনারা উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে কার বিরুদ্ধে এ জবাব দেয়া হবে তিনি তা বিস্তারিত বলেননি। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অপরাধীদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সোমবার ভারতীয় সেনারা উরি শহরের কাছে সীমান্ত বরাবর খোঁড়া তিনটি সরুপথের সন্ধান পেয়েছেন যাকে কর্মকর্তারা মনে করছেন গেরিলারা এ পথেই এসেছে। নয়াদিল্লিও রোববার বলেছে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত রয়েছে। তবে হামলায় কোনো ধরনের ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভারতের সম্ভাব্য যে কোনো পদেক্ষপের বিষয়ে দেশটি গভীর নজর রাখছে।

ভারী অস্ত্র-শস্ত্র মোতায়েন করা এ সীমান্তে সেনা টহল বাড়িয়েছে ভারত। এ এলাকায় ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা প্রতি মূহুর্ত পরস্পরকে চোখে চোখে রাখে এবং মাঝে মধ্যেই দু’পক্ষে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ তার ভাষায় বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে নির্লজ্জভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে কাশ্মীরের উরি শহরে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

সেনাঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে পাকিস্তানকে জড়িয়ে ভারত যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিহিত করে সারতাজ বলেন, বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরের অমানবিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হিসেবে ভারত এসব কথা বলেছে।

সারতাজ আজিজ তার ভাষায় বলেন, “এটি বোঝার দরকার রয়েছে যে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আজকের এ পরিস্থতি পাকিস্তান তৈরি করেনি বরং সেখানে ভারতীয় অবৈধ দখলদারিত্ব ও দমন-পীড়নের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে সরাসরি এ পরিণতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় রোববারের হামলার পর ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” তিনি এ ধরনের বিবৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকতে ভারতীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান

কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে

আপডেট টাইম : ০২:১১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

কাশ্মীরে গেরিলা হামলায় ১৭ সেনা নিহত হওয়ার পর সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় এরইমধ্যে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী উরি শহরে রোববার এ হামলা হয়।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। গেরিলা হামলার পর ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাদের ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তানের ভেতরে প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ গেরিলা ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলা চালাতে হবে। ভারতীয় সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং বলেছেন, তার সেনারা উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে কার বিরুদ্ধে এ জবাব দেয়া হবে তিনি তা বিস্তারিত বলেননি। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অপরাধীদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সোমবার ভারতীয় সেনারা উরি শহরের কাছে সীমান্ত বরাবর খোঁড়া তিনটি সরুপথের সন্ধান পেয়েছেন যাকে কর্মকর্তারা মনে করছেন গেরিলারা এ পথেই এসেছে। নয়াদিল্লিও রোববার বলেছে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত রয়েছে। তবে হামলায় কোনো ধরনের ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভারতের সম্ভাব্য যে কোনো পদেক্ষপের বিষয়ে দেশটি গভীর নজর রাখছে।

ভারী অস্ত্র-শস্ত্র মোতায়েন করা এ সীমান্তে সেনা টহল বাড়িয়েছে ভারত। এ এলাকায় ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা প্রতি মূহুর্ত পরস্পরকে চোখে চোখে রাখে এবং মাঝে মধ্যেই দু’পক্ষে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ তার ভাষায় বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে নির্লজ্জভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে কাশ্মীরের উরি শহরে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

সেনাঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে পাকিস্তানকে জড়িয়ে ভারত যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিহিত করে সারতাজ বলেন, বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরের অমানবিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হিসেবে ভারত এসব কথা বলেছে।

সারতাজ আজিজ তার ভাষায় বলেন, “এটি বোঝার দরকার রয়েছে যে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আজকের এ পরিস্থতি পাকিস্তান তৈরি করেনি বরং সেখানে ভারতীয় অবৈধ দখলদারিত্ব ও দমন-পীড়নের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে সরাসরি এ পরিণতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় রোববারের হামলার পর ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” তিনি এ ধরনের বিবৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকতে ভারতীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।