
একের পেছনে শত শত। অপেক্ষা। সময় যাচ্ছে। অপেক্ষা ফুরোয় না। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পার করে হাঁপিয়ে উঠেও কেউ একজন বলছেন, ‘কার্ড না নিয়ে ফিরছি না।’
-‘কিসের কার্ড?’ জানতে চাই।
– সম্মেলনের কার্ড। রাত পোহালেই সম্মেলন। কার্ড না নিলে ঢুকব কী করে?
শনিবার শুরু হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। রবিবার শেষ হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে জেলা কমিটির পাঠানো কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। কার্ড বিতরণ এখনো শেষ হয়নি। ডেলিগেট কার্ড বিতরণও হচ্ছে আজ।
ধানমন্ডির ৩/এ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় এখন লোকারণ্য। সন্ধ্যায় কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় পা ফেলার জায়গা নেই। ভরে গেছে নেতাকর্মীতে। কার্যালয়ের ভেতর থেকে একটা উড়ো খবর এলো, কার্ড সংকট! ‘বলে কি? কার্ড শেষ মানে? সারা দিন দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতে ফিরবো নাকি?’ দক্ষিণের একটি জেলা থেকে আশা এক নেতার অনঢ় অবস্থান।
স্থানীয় একজন দোকানি জানান, গত কয়েক ধরেই ধানমন্ডির কার্যালয়ে সকাল থেকে একজন-দুজন করে আসতে শুরু করেন। লোকসমাগম থাকে রাত ১২টা পর্যন্ত। দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশ ব্যস্ত। সম্মেলন ঘিরে সারাদেশের নেতাকর্মীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ঘিরে ঢাকা সেজেছে অপরূপ সাজে। রঙিন বাতিতে ছেয়ে গেছে পথের পরে পথ। সড়কদ্বীপগুলোতে বসেছে ডিজিটাল বোর্ড। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। সম্মেলনের প্রচার-প্রচারণাও চলছে পুরোদস্তুর।
দীর্ঘ নগরজীবনে এমন সজ্জা দেখেননি তালহা রহমান। বললেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের সম্মেলন ঘিরে এত আয়োজন, এত সাজসজ্জা আগে চোখে পড়েনি কখনো। বেশ লাগছে। উৎসব উৎসব আমেজ। দিনটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে আরও ভালো হতো।’
ধানমন্ডিতে কথা হয় শোয়াইব আহমেদের সঙ্গে। জানালেন, আওয়ামী লীগের শেকড় যে তৃণমূলের গভীরে গাঁথা, সম্মেলনের আয়োজন তার প্রমাণ। সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা যেভাবে ছুটে আসছেন ঢাকায়, দেখার মতো।’
আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গোটা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে ভিন্নতা। শুক্রবার রাত থেকেই সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ থাকবে শনিবার সকাল থেকেই। শাহবাগ, প্রেসক্লাব ও নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 














