পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

চট্টগ্রামে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কারো খোঁজ পায়নি পুলিশ

ডেস্ক : নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালের বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর (২৭) পরিবারের কাউকে খোঁজে পায়নি পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান এ তথ্য।

তবে আকায়েদ উল্লাহর পরিবার সম্পর্কে জানতে তার খালুকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি। এছাড়া আকায়েদ উল্লাহ চাচাতো ভাই সোহরাবকেও থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ থানায় রওনা দিয়েছেন।

ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালের বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মুসাপুর ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডের হায়াত উল্লাহর বাড়িতে জানার পর তার সম্পর্কে জানতে পুলিশ সেখানে যাই।

কিন্তু সেখানে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। শেষে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে সন্দ্বীপের গাছুয়া থেকে তার খালু তুষান কোপম্পানীকে থানায় ডেকে নিয়ে এসে আকায়েদ উল্লাহর পরিবার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালুর জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, আকায়েদ উল্লাহর খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। তার খালুর সাথে আমরা কথা বলছি। তার চাচাতো ভাই সহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। আকায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যসদের অতীত রেকর্ডের ব্যাপারে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

এদিকে আকায়েদ উল্লাহ চাচাতো ভাই সোহরাব হোসেন চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাত্রার পথে দুপুর দেড়টায় মুঠোফোনে বলেন, আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কেউ সন্দ্বীপে থাকে না। ওরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি। তাদের কেউ আমেরিকা থেকে ফিরলে ঢাকার হাজারীবাগের বাসায় থাকেন। মাঝে মধ্যে সন্দ্বীপেও আসেন।

সোহরাব হোসেন আরও বলেন, ‘আকায়েদ উল্লাহরা চার ভাইবোন। তার বাবা সানাউল্লাহ মৃত। এরপর ২০১১ সালে সে যুক্তরাষ্ট্র চলে যায়। সে বিবাহিত। তিন মাস আগে তার একটি সন্তান হয়েছে। সর্বশেষ ওই সময় সে বাংলাদেশে এসেছিল।

সন্দ্বীপ উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম জানান, আকায়েদ উল্লাহ ২০ বছর বয়স পর্যন্ত সন্দ্বীপে থাকলেও এলাকায় খুব পরিচিত নয়। তবে সে ধার্মিক ছিল। কোন সময় কোন অপরাধে লিপ্ত ছিল না আকায়েদ।

চেয়ারম্যান জানান, আকায়েদের পরিবারের কেউ এখন সন্দ্বীপ থাকে না। পুলিশ তাদের কাউকে খোঁজে না পেয়ে তার খালু তুসান কোম্পানীকে ধরে নিয়ে গেছে। তার খালুর বাড়ি সন্দ্বীপের গাছুয়ায়। তার নানা বাড়িও তাদের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে।

নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেমস ওনেইল এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আকায়েদ উল্লাহর শরীরে বিস্ফোরক ডিভাইস সংযুক্ত ছিল। বোমাটি আকায়েদের শরীরে বিস্ফোরণ হওয়ায় সে নিজেসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ জানায়, আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, আটক আকায়েদ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত। কিন্তু তার সঙ্গে আইএস-এর সরাসরি কোনও যোগাযোগ ছিল না।

এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ওনেইল বলেন, আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছে কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।

নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি এবং লিমোজিন কমিশন জানিয়েছে, আকায়েদ ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতো। ২০১২ মার্চ থেকে ২০১৫ মার্চ পর্যন্ত তার নামে ট্যাক্সির লাইসেন্স করা ছিল।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

চট্টগ্রামে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কারো খোঁজ পায়নি পুলিশ

আপডেট টাইম : ০৫:৩২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

ডেস্ক : নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালের বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর (২৭) পরিবারের কাউকে খোঁজে পায়নি পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান এ তথ্য।

তবে আকায়েদ উল্লাহর পরিবার সম্পর্কে জানতে তার খালুকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি। এছাড়া আকায়েদ উল্লাহ চাচাতো ভাই সোহরাবকেও থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ থানায় রওনা দিয়েছেন।

ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালের বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মুসাপুর ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডের হায়াত উল্লাহর বাড়িতে জানার পর তার সম্পর্কে জানতে পুলিশ সেখানে যাই।

কিন্তু সেখানে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। শেষে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে সন্দ্বীপের গাছুয়া থেকে তার খালু তুষান কোপম্পানীকে থানায় ডেকে নিয়ে এসে আকায়েদ উল্লাহর পরিবার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালুর জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, আকায়েদ উল্লাহর খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। তার খালুর সাথে আমরা কথা বলছি। তার চাচাতো ভাই সহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। আকায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যসদের অতীত রেকর্ডের ব্যাপারে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

এদিকে আকায়েদ উল্লাহ চাচাতো ভাই সোহরাব হোসেন চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাত্রার পথে দুপুর দেড়টায় মুঠোফোনে বলেন, আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের কেউ সন্দ্বীপে থাকে না। ওরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি। তাদের কেউ আমেরিকা থেকে ফিরলে ঢাকার হাজারীবাগের বাসায় থাকেন। মাঝে মধ্যে সন্দ্বীপেও আসেন।

সোহরাব হোসেন আরও বলেন, ‘আকায়েদ উল্লাহরা চার ভাইবোন। তার বাবা সানাউল্লাহ মৃত। এরপর ২০১১ সালে সে যুক্তরাষ্ট্র চলে যায়। সে বিবাহিত। তিন মাস আগে তার একটি সন্তান হয়েছে। সর্বশেষ ওই সময় সে বাংলাদেশে এসেছিল।

সন্দ্বীপ উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম জানান, আকায়েদ উল্লাহ ২০ বছর বয়স পর্যন্ত সন্দ্বীপে থাকলেও এলাকায় খুব পরিচিত নয়। তবে সে ধার্মিক ছিল। কোন সময় কোন অপরাধে লিপ্ত ছিল না আকায়েদ।

চেয়ারম্যান জানান, আকায়েদের পরিবারের কেউ এখন সন্দ্বীপ থাকে না। পুলিশ তাদের কাউকে খোঁজে না পেয়ে তার খালু তুসান কোম্পানীকে ধরে নিয়ে গেছে। তার খালুর বাড়ি সন্দ্বীপের গাছুয়ায়। তার নানা বাড়িও তাদের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে।

নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেমস ওনেইল এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আকায়েদ উল্লাহর শরীরে বিস্ফোরক ডিভাইস সংযুক্ত ছিল। বোমাটি আকায়েদের শরীরে বিস্ফোরণ হওয়ায় সে নিজেসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ জানায়, আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, আটক আকায়েদ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত। কিন্তু তার সঙ্গে আইএস-এর সরাসরি কোনও যোগাযোগ ছিল না।

এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ওনেইল বলেন, আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছে কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।

নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি এবং লিমোজিন কমিশন জানিয়েছে, আকায়েদ ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতো। ২০১২ মার্চ থেকে ২০১৫ মার্চ পর্যন্ত তার নামে ট্যাক্সির লাইসেন্স করা ছিল।