পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

ঝিনাইদহ, : রোড ডাকাতি ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মূলত হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হলেও বাস্তবে এর কোন সুফল পাচ্ছে না জনগন। বরং হাইওয়ে থানা পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাস-ট্রাক মালিক ও চালকরা। প্রতিমাসে বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশকে দিতে হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

বাস, ট্রাক, মাইক্রো, মিনি ট্রাক, সিএনজির ফিটনেস ফেল, ট্র্যাক্স টোকেন ফেল, রুট পারমিট ফেল, ইন্সুরেন্স ও ড্রাইভারদের লাইসেন্স না থাকায় তাদের কাছ থেকে মাসিক হারে উপরোক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে বিকাশে ও খামে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় বারবাজার হাইওয়ে পুলিশের ওসি নজরুল ইসলামের কাছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি নজরুল ইসলাম।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যেসব বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসের কাগজপত্র নেই সেসব গাড়ী থেকে মাসিক চুক্তি করে নেয়া হয়। এসব গাড়ীর গাঁয়ে আলিফ মটরস্ সাতক্ষীরা, মাসুদ মটরস্ কানাইপুর ফরিদপুর, মুক্তার মটরস্ ঝিনাইদহ, বাদশা মটরস্ ঝিনাইদহ ও মুন্সি মটরস্ ঝিনাইদহ এর স্টিকার ও মোবাইল নাম্বার লেখা আছে। হাইওয়ে পুলিশ যেসব বাস-ট্রাকে এসব স্টিকার দেখে সে গাড়ি গুলি চেক না করে ছেড়ে দেয় বলে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরো জানায়, বারবাজার হাইওয়ে থানার আওতাধীনে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর জেলা রয়েছে। এর মধ্যে যশোরের নাভারনে ১টি, মাগুরার রামনগরে ১টি ও কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে ১টিসহ মোট তিনটি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি আছে। এসব জেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী বাস-ট্রাক, মাইক্রো, সিএনজি থেকে প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা গোপনে নেয়া হয়।

এর মধ্যে বাস থেকে ৬০ হাজার টাকা, কালীগঞ্জের মাইক্রো থেকে ৬ হাজার, ঝিনাইহের মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, যশোর জেলা মাইক্রো থেকে ১০ হাজার, চুয়াডাঙ্গা জেলার মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, কোটচাঁদপুরের মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, জুয়ার মাইক্রো থেকে ২০ হাজার, সাত মাইল থেকে ৪ হাজার, রাস্তার পাশের ২২ টি তেলের দোকানীদের কাছ থেকে দুই হাজার করে ৪৪ হাজার, মজুমদার নওয়াপাড়া থেকে ৩ হাজার, বারবাজার-যশোর রুটে চলাচলকারী সিএনজি থেকে ১৫ হাজার, মাসুদ মটরস্ কানাইপুর ফরিদপুর থেকে ৪ হাজার, বাদশা মটরস্ ঝিনাইদহ থেকে ৭ হাজার সহ ২৭টি বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা মাসিক চুক্তি আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বারবাজার-থেকে কালীগঞ্জগামী একাধিক সিএনজি ড্রাইভার বলেন, সিএনজি থেকে প্রতিমাসে বারবাজার হাইওয়ে থাকাকে মোটা অংকের দিয়ে চলাচল করতে হয়। মাসিক টাকা না দিলে আমাদের বিভিন্ন কারন দেখিয়ে মামলা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি নজরুল ইসলাম মাসিক টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, কেউ টাকা নিলে আমি জানতাম। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন বানোয়াট রিপোর্ট করবেন না। যদি নির্দিষ্ট কোথাও থেকে টাকা নিয়ে থাকি তাহলে বলেন? নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত থেকে টাকা নেওয়ার কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদকের কথায় বিরক্ত প্রকাশ করেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৬:১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

ঝিনাইদহ, : রোড ডাকাতি ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মূলত হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হলেও বাস্তবে এর কোন সুফল পাচ্ছে না জনগন। বরং হাইওয়ে থানা পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাস-ট্রাক মালিক ও চালকরা। প্রতিমাসে বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশকে দিতে হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

বাস, ট্রাক, মাইক্রো, মিনি ট্রাক, সিএনজির ফিটনেস ফেল, ট্র্যাক্স টোকেন ফেল, রুট পারমিট ফেল, ইন্সুরেন্স ও ড্রাইভারদের লাইসেন্স না থাকায় তাদের কাছ থেকে মাসিক হারে উপরোক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে বিকাশে ও খামে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় বারবাজার হাইওয়ে পুলিশের ওসি নজরুল ইসলামের কাছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি নজরুল ইসলাম।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যেসব বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসের কাগজপত্র নেই সেসব গাড়ী থেকে মাসিক চুক্তি করে নেয়া হয়। এসব গাড়ীর গাঁয়ে আলিফ মটরস্ সাতক্ষীরা, মাসুদ মটরস্ কানাইপুর ফরিদপুর, মুক্তার মটরস্ ঝিনাইদহ, বাদশা মটরস্ ঝিনাইদহ ও মুন্সি মটরস্ ঝিনাইদহ এর স্টিকার ও মোবাইল নাম্বার লেখা আছে। হাইওয়ে পুলিশ যেসব বাস-ট্রাকে এসব স্টিকার দেখে সে গাড়ি গুলি চেক না করে ছেড়ে দেয় বলে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরো জানায়, বারবাজার হাইওয়ে থানার আওতাধীনে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর জেলা রয়েছে। এর মধ্যে যশোরের নাভারনে ১টি, মাগুরার রামনগরে ১টি ও কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে ১টিসহ মোট তিনটি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি আছে। এসব জেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী বাস-ট্রাক, মাইক্রো, সিএনজি থেকে প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা গোপনে নেয়া হয়।

এর মধ্যে বাস থেকে ৬০ হাজার টাকা, কালীগঞ্জের মাইক্রো থেকে ৬ হাজার, ঝিনাইহের মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, যশোর জেলা মাইক্রো থেকে ১০ হাজার, চুয়াডাঙ্গা জেলার মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, কোটচাঁদপুরের মাইক্রো থেকে ৫ হাজার, জুয়ার মাইক্রো থেকে ২০ হাজার, সাত মাইল থেকে ৪ হাজার, রাস্তার পাশের ২২ টি তেলের দোকানীদের কাছ থেকে দুই হাজার করে ৪৪ হাজার, মজুমদার নওয়াপাড়া থেকে ৩ হাজার, বারবাজার-যশোর রুটে চলাচলকারী সিএনজি থেকে ১৫ হাজার, মাসুদ মটরস্ কানাইপুর ফরিদপুর থেকে ৪ হাজার, বাদশা মটরস্ ঝিনাইদহ থেকে ৭ হাজার সহ ২৭টি বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা মাসিক চুক্তি আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বারবাজার-থেকে কালীগঞ্জগামী একাধিক সিএনজি ড্রাইভার বলেন, সিএনজি থেকে প্রতিমাসে বারবাজার হাইওয়ে থাকাকে মোটা অংকের দিয়ে চলাচল করতে হয়। মাসিক টাকা না দিলে আমাদের বিভিন্ন কারন দেখিয়ে মামলা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি নজরুল ইসলাম মাসিক টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, কেউ টাকা নিলে আমি জানতাম। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন বানোয়াট রিপোর্ট করবেন না। যদি নির্দিষ্ট কোথাও থেকে টাকা নিয়ে থাকি তাহলে বলেন? নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত থেকে টাকা নেওয়ার কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদকের কথায় বিরক্ত প্রকাশ করেন।