অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র সেমিনার অনুষ্ঠিত।

বাংলার খবরঃ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। এ দেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াত করছে। পণ্য পরিবহনে ৮০ শতাংশ সড়ক পথে পরিবহন করা হয়ে থাকে। দেশে ৩২ লাখ বৈধকারী থাকলেও মাত্র ১৭ লাখ চালকের লাইসেন্স আছে। আরো অসংখ্য যানবাহন বিভিন্নস্থানে অবৈধভাবে চলাচল করছে। ওভারটেকসহ অদক্ষ চালক-হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, চোখে ঘুম নিয়ে বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিয়মিত যাচাই না করা, সড়কে গাড়ি চলাচলের উপযুক্ততা আছে কিনা তা না দেখা, ফুটওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার না করে চরম ঝুঁকির মধ্যে জনসাধারণের চলাচল এবং অসচেতনতাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। ওভারটেক, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ওভারলোডের কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। মিশুক মুনির, তারেক মাসুদ ও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনায় রাজিবের মৃত্যু দেশে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সকল সদস্যসহ প্রতিনিয়ত অসংখ্য লোকের প্রাণহানি ঘটছে। কিছু সময় বাঁচানোর জন্য ওভারটেক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে প্রাণহানি ঘটবেই। ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যয়ান করা হয়। কিন্তু প্রতিদিন যেসব সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে তাদের হিসাব শুধুমাত্র পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ। এ বিষয়গুলো আমাদেরকে ভাবতে হবে। মৃত্যু সকলের জন্য সমান। কোন গাড়ি চালক ইচ্ছে করে মানুষ বা কোন প্রাণিকে হত্যা করতে চায় না। সেও নিরাপদে গাড়ি চালাতে চায়। নিজে বাঁচতে চাইলে অন্যের মৃত্যু হবে না। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। অনেক চালক মনে করেন- নিজে বাঁচবো, কাউকে মারবো না। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই নিজে, পরিবার, সাধারণ মানুষ ও দেশের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ির চালক-হেলপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সকলের জন্য নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর মুরাদপুরস্থ এলজিইডি মিলনায়তনে বিআরটিএ চট্টমেট্রো ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল কর্তৃক আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়ছারের সভাপতিত্বে আবৃত্তিকার ফারুক তাহের ও দিল উম্মে সালমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বিপিএম, পিপিএম, সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন-অর রশিদ হাযারী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান আলী ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম আবু তৈয়ব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) তৌহিদুল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. শফিকুল ইসলাম। বিআরটিএ চট্টমেট্রো ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল আয়োজিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, জেলা ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান এন্ড মিনি ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি ও বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আলহাজ¦ মো. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহম্মদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, চট্টগ্রাম মহানগরী অটোরিক্সা-বেবী টেক্সি সিএনজি মালিক-চালক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হায়দার আজম চৌধুরী, পরিবহন নেতা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মুছা প্রমুখ। আলোচনা সভায় বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয়, মেট্রো ও জেলা সার্কেলের কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন পরিবহন মালিক-চালক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র সেমিনার অনুষ্ঠিত।

আপডেট টাইম : ০৪:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

বাংলার খবরঃ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। এ দেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াত করছে। পণ্য পরিবহনে ৮০ শতাংশ সড়ক পথে পরিবহন করা হয়ে থাকে। দেশে ৩২ লাখ বৈধকারী থাকলেও মাত্র ১৭ লাখ চালকের লাইসেন্স আছে। আরো অসংখ্য যানবাহন বিভিন্নস্থানে অবৈধভাবে চলাচল করছে। ওভারটেকসহ অদক্ষ চালক-হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, চোখে ঘুম নিয়ে বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিয়মিত যাচাই না করা, সড়কে গাড়ি চলাচলের উপযুক্ততা আছে কিনা তা না দেখা, ফুটওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার না করে চরম ঝুঁকির মধ্যে জনসাধারণের চলাচল এবং অসচেতনতাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। ওভারটেক, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ওভারলোডের কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। মিশুক মুনির, তারেক মাসুদ ও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনায় রাজিবের মৃত্যু দেশে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সকল সদস্যসহ প্রতিনিয়ত অসংখ্য লোকের প্রাণহানি ঘটছে। কিছু সময় বাঁচানোর জন্য ওভারটেক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে প্রাণহানি ঘটবেই। ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যয়ান করা হয়। কিন্তু প্রতিদিন যেসব সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে তাদের হিসাব শুধুমাত্র পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ। এ বিষয়গুলো আমাদেরকে ভাবতে হবে। মৃত্যু সকলের জন্য সমান। কোন গাড়ি চালক ইচ্ছে করে মানুষ বা কোন প্রাণিকে হত্যা করতে চায় না। সেও নিরাপদে গাড়ি চালাতে চায়। নিজে বাঁচতে চাইলে অন্যের মৃত্যু হবে না। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। অনেক চালক মনে করেন- নিজে বাঁচবো, কাউকে মারবো না। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই নিজে, পরিবার, সাধারণ মানুষ ও দেশের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ির চালক-হেলপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সকলের জন্য নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর মুরাদপুরস্থ এলজিইডি মিলনায়তনে বিআরটিএ চট্টমেট্রো ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল কর্তৃক আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়ছারের সভাপতিত্বে আবৃত্তিকার ফারুক তাহের ও দিল উম্মে সালমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বিপিএম, পিপিএম, সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন-অর রশিদ হাযারী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান আলী ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম আবু তৈয়ব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) তৌহিদুল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. শফিকুল ইসলাম। বিআরটিএ চট্টমেট্রো ও চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল আয়োজিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, জেলা ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান এন্ড মিনি ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি ও বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আলহাজ¦ মো. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহম্মদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, চট্টগ্রাম মহানগরী অটোরিক্সা-বেবী টেক্সি সিএনজি মালিক-চালক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হায়দার আজম চৌধুরী, পরিবহন নেতা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মুছা প্রমুখ। আলোচনা সভায় বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয়, মেট্রো ও জেলা সার্কেলের কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন পরিবহন মালিক-চালক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।