পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

কুলখানির খিচুড়ি খেয়ে পাবনায় কিশোরীর মৃত্যু, অসুস্থ ৪০

ডেস্ক: পাবনায় মৃত্যু বার্ষিকীর তবারক (খিচুড়ি) খেয়ে সুখি খাতুন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত: ৪০ নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়েছেন। তাদেরকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সর্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের জনৈক শহীদ সর্দারের বাড়িতে তার বাবা মৃত ঈমান আলী সর্দারের কুলখানি অনুষ্ঠানের তবারক (খিচুড়ি) খেয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত সুখী খাতুন সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সেলিম শেখের মেয়ে। সে শহরের আহমেদ রফিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বিকালে বলরামপুর গ্রামে ঈমান আলী নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। এ উপলক্ষে কুলখানির আয়োজন করা হয়। কুলখানিতে তবারক হিসেবে খিচুড়ি রান্না করে তা পরিবেশন করা হয়।

ওই খিচুড়ি খেয়ে বলরামপুর গ্রামের নারী-পুরুষ অনেকেই সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্ত শনিবার রাত থেকে আক্রান্তরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে একে একে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে হাসপাতালে আনার পথে সুখি খাতুনের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আকসাদ আল মাসুর আনন একজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এমনিতেই প্রতিদিনের রোগীর সংখ্যাই হাসপাতালের শয্যার দ্বিগুণ। তারপর হঠাৎ করে এই রোগীদের নিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা অসুস্থদের সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি সবাই সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
অসুস্থ রিপন শেখ জানান, শুক্রবার বিকালে বলরামপুর গ্রামে তার বড় চাচা ঈমান আলীর মৃত্যু বার্ষিকীর মিলাদের তবারক খাওয়ার পর পরই তিনিসহ অন্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একই গ্রামের মাহিমের বাবা সাকের জানান, ছেলে খিচুড়ি খেয়ে বাড়িতে এসেই বমি শুরু করে। প্রথমে তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা চলে। কিন্ত পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। অন্য অসুস্থরাও এমনই কথা বলেছেন।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুল্লাহ জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এরা অসুস্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের হাসাপাতালে ভর্তির খবর শুনে দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস তাদের দেখতে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

কুলখানির খিচুড়ি খেয়ে পাবনায় কিশোরীর মৃত্যু, অসুস্থ ৪০

আপডেট টাইম : ০২:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০১৯

ডেস্ক: পাবনায় মৃত্যু বার্ষিকীর তবারক (খিচুড়ি) খেয়ে সুখি খাতুন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত: ৪০ নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়েছেন। তাদেরকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সর্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের জনৈক শহীদ সর্দারের বাড়িতে তার বাবা মৃত ঈমান আলী সর্দারের কুলখানি অনুষ্ঠানের তবারক (খিচুড়ি) খেয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত সুখী খাতুন সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সেলিম শেখের মেয়ে। সে শহরের আহমেদ রফিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বিকালে বলরামপুর গ্রামে ঈমান আলী নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। এ উপলক্ষে কুলখানির আয়োজন করা হয়। কুলখানিতে তবারক হিসেবে খিচুড়ি রান্না করে তা পরিবেশন করা হয়।

ওই খিচুড়ি খেয়ে বলরামপুর গ্রামের নারী-পুরুষ অনেকেই সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্ত শনিবার রাত থেকে আক্রান্তরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে একে একে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে হাসপাতালে আনার পথে সুখি খাতুনের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আকসাদ আল মাসুর আনন একজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এমনিতেই প্রতিদিনের রোগীর সংখ্যাই হাসপাতালের শয্যার দ্বিগুণ। তারপর হঠাৎ করে এই রোগীদের নিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা অসুস্থদের সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি সবাই সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
অসুস্থ রিপন শেখ জানান, শুক্রবার বিকালে বলরামপুর গ্রামে তার বড় চাচা ঈমান আলীর মৃত্যু বার্ষিকীর মিলাদের তবারক খাওয়ার পর পরই তিনিসহ অন্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একই গ্রামের মাহিমের বাবা সাকের জানান, ছেলে খিচুড়ি খেয়ে বাড়িতে এসেই বমি শুরু করে। প্রথমে তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা চলে। কিন্ত পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। অন্য অসুস্থরাও এমনই কথা বলেছেন।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুল্লাহ জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এরা অসুস্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের হাসাপাতালে ভর্তির খবর শুনে দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস তাদের দেখতে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।