অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

১৯৭ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে কেরুজ চিনি কল

মোঃ তহিরুল ইসলাম/ আরশাফুল হক মুক্ত:::-১৯৭ কোটি টাকা কৃষিঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু চিনিকল। দর্শনা জনতা ব্যাংক শাখা থেকে এ ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর এ ঋণ এখন প্রতিষ্ঠানটির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন কেরুজ চিনিকলের নামে নেওয়া এই ঋণের টাকা চিনিকলটি কোন খাতে ব্যবহার না হলেও ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষের। এ যেন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো অবস্থা।
তথ্যা অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবছরই দর্শনা কেরুজ চিনিকলটি কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনে থাকে। চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান হলেও ডিস্টিলারি বিভাগ তা পুষিয়ে দেয়। লাভ-লোকসানের এ দোলাচলে কেরুজ চিনিকলের সম্পদ মডগেজ রেখে চিনি ও খাদ্য শিল্পের আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকলের আখচাষিদের কৃষি ঋণ দেওয়া হয়। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দর্শনা জনতা ব্যাংক শাখা থেকে ১৯৭ কোটি টাকা কৃষি ঋণ নেওয়া হয়। যে ঋণের একটি টাকাও দর্শনা কেরুজ চিনিকলের কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারী কিংবা দিনহাজিরার শ্রমিকরা পর্যন্ত ভোগ করেনি। অথচ এ ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৭ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করে থাকে।
এমনিতেই প্রতিষ্ঠানটির ওপর লোকসানের ভারী বোঝা। তার ওপর অন্যের ঋণের মূলধনসহ সুদের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর এ ঋণ এখন কেরুজ কর্তৃপক্ষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঋণ করা হয়েছিল সাবেক খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেনের আমলে। কিভাবে এই ঋণ বিতরণ করা হলো আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের চাষিরা ঋণ পেলো তার কোনো হিসাব নেই কেরুজ কর্তৃপক্ষের নিকট। অথচ সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করে চলেছে কেরুজ কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরুজ চিনিকলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আলী আনছারী বলেন, ঋণের কোনো সুবিধা কেরুজ চিনিকলের কেউ ভোগ করল না অথচ বছর বছর ১৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। তারপরও রয়েছে ঋণের মূলধনের টাকা। উল্লেখ্য বাংলাদেশ শিল্প স্থাপনাগুলোর মধ্যে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কম্পানি (বাংলাদেশ) লিঃ এর একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এর বয়স ৮১ বছর। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী দর্শনায় চিনিশিল্প ডিস্টিলারি ও বৃহৎ শিল্প কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১ হাজার টন আখ মাড়াই করার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ করা হয়। আর তখন থেকে আজ পর্যন্ত এটি কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) নামে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখানে চিনি, রেকটিফাইড স্পিরিট, দেশি মদ, জিন, হুইস্কি, রাম, ভটকা ও ভিনেগার এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মূল পণ্য। অপরদিকে, চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রসমাটি রস দিয়ে অন্যতম উপজাতদ্রব্য। এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিনি উৎপাদন ও মদ তৈরি করেই থাকে না, পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। সব মিলিয়ে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসাবে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। মাঝে মধ্যে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

১৯৭ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে কেরুজ চিনি কল

আপডেট টাইম : ০১:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোঃ তহিরুল ইসলাম/ আরশাফুল হক মুক্ত:::-১৯৭ কোটি টাকা কৃষিঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু চিনিকল। দর্শনা জনতা ব্যাংক শাখা থেকে এ ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর এ ঋণ এখন প্রতিষ্ঠানটির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন কেরুজ চিনিকলের নামে নেওয়া এই ঋণের টাকা চিনিকলটি কোন খাতে ব্যবহার না হলেও ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষের। এ যেন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো অবস্থা।
তথ্যা অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবছরই দর্শনা কেরুজ চিনিকলটি কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনে থাকে। চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান হলেও ডিস্টিলারি বিভাগ তা পুষিয়ে দেয়। লাভ-লোকসানের এ দোলাচলে কেরুজ চিনিকলের সম্পদ মডগেজ রেখে চিনি ও খাদ্য শিল্পের আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকলের আখচাষিদের কৃষি ঋণ দেওয়া হয়। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দর্শনা জনতা ব্যাংক শাখা থেকে ১৯৭ কোটি টাকা কৃষি ঋণ নেওয়া হয়। যে ঋণের একটি টাকাও দর্শনা কেরুজ চিনিকলের কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারী কিংবা দিনহাজিরার শ্রমিকরা পর্যন্ত ভোগ করেনি। অথচ এ ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৭ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করে থাকে।
এমনিতেই প্রতিষ্ঠানটির ওপর লোকসানের ভারী বোঝা। তার ওপর অন্যের ঋণের মূলধনসহ সুদের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর এ ঋণ এখন কেরুজ কর্তৃপক্ষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঋণ করা হয়েছিল সাবেক খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেনের আমলে। কিভাবে এই ঋণ বিতরণ করা হলো আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের চাষিরা ঋণ পেলো তার কোনো হিসাব নেই কেরুজ কর্তৃপক্ষের নিকট। অথচ সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করে চলেছে কেরুজ কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরুজ চিনিকলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আলী আনছারী বলেন, ঋণের কোনো সুবিধা কেরুজ চিনিকলের কেউ ভোগ করল না অথচ বছর বছর ১৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। তারপরও রয়েছে ঋণের মূলধনের টাকা। উল্লেখ্য বাংলাদেশ শিল্প স্থাপনাগুলোর মধ্যে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কম্পানি (বাংলাদেশ) লিঃ এর একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এর বয়স ৮১ বছর। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী দর্শনায় চিনিশিল্প ডিস্টিলারি ও বৃহৎ শিল্প কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১ হাজার টন আখ মাড়াই করার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ করা হয়। আর তখন থেকে আজ পর্যন্ত এটি কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) নামে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখানে চিনি, রেকটিফাইড স্পিরিট, দেশি মদ, জিন, হুইস্কি, রাম, ভটকা ও ভিনেগার এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মূল পণ্য। অপরদিকে, চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রসমাটি রস দিয়ে অন্যতম উপজাতদ্রব্য। এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিনি উৎপাদন ও মদ তৈরি করেই থাকে না, পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। সব মিলিয়ে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসাবে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। মাঝে মধ্যে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।