পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

মিশুর বাসায় প্রতিরাতে বসত নাচ-গানের আসর

বাংলার খবর২৪.কম : image_1_70নওগাঁয় এক স্ত্রী রয়েছে। সেখানে আছে দুই সন্তান। পরিবারের লোকজন জানতেন সেটিই সুখের সংসার। কিন্তু মৃত্যুর পর বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য। মিশু নামের এক মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল তার। গত জুন মাসে গোপনে বিয়ে হয় তাদের। এরপর থেকে আলাদা বাসা নিয়ে প্রথম স্ত্রীর অগোচরে থাকতেন তিনি। আর এ নিয়ে অশান্তি শুরু। সেখান থেকেই হত্যা। চট্টগ্রামে কাজী আবদুল হাসিব মোহাম্মদ সাঈদ (৪৭) নামের এই বিচারকের মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হালিশহর থানার মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিচারক আবু সাঈদকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে তার মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এ কাজটি খুবই কৌশলে করার চেষ্টা করেন স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশু ও শাশুড়ি লাকী আক্তার। সাঈদের মাথার খুলিতে গর্ত দেখা যায়। মাথার খুলি থেকে মৃত্যুর সময় তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। নিহতের গলায় কালো দাগ দেখা যায়। হাত-পা ছিল স্বাভাবিক। এ ঘটনায় হালিশহর থানার এসআই মকবুল মিয়া বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিচারকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী সনজিদা আক্তার মিশু, শাশুড়ি লাকি আক্তার, শ্যালক ইমরান হোসেন, শ্বশুর নাছির আহমদ এবং গৃহপরিচারিকা রীমা আক্তারকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বিচারকের শ্বশুর নাছির আহমদ ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, আদালতে বড় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। এ সময় একদিন মায়ের সঙ্গে সেখানে যান মিশু। তারপর নজরে পড়ে যান বিচারক সাঈদের। আদালতপাড়ায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের ডাক দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুসম্পর্ক তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে। সেখান থেকেই সাঈদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয় কথিত স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশুর। তবে বিচারক সাঈদকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করলেও কোন ধরনের কাগজপত্র কিংবা কাবিননামার কপি উপস্থাপন করতে পারেন নি। এ ঘটনায় একজন কাজীর কথা বললেও তার কোন হদিস মিলছে না। খুনের ব্যাপারেও কোন ধরনের তথ্য দিতে চাইছে না মা-মেয়ে। গত দু’দিন ধরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিচারকের মারা যাওয়ার ব্যাপারে নীরব রয়েছে তারা। জানতে চাইলে মিশুর আচরণ সন্দেহজনক বলে জানান নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, আবু সাঈদের কথিত স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিশুর বাসায় প্রতিরাতে বসত নাচ-গান আর মাদকের আসর। সন্ধ্যা হলেই এ আসরে যোগ দিতে হাজির হতো বিত্তবান পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানরা। আসরে এক সঙ্গে নাচ করতেন মিশুর মা লাকি আকতার ও বাবা নাসির আহমেদ। মিশু ও তার বাবা নাসিরও এক সঙ্গে নৃত্য করতো। মোবাইল মেমোরিতে থাকা এমন একটি ভিডিও ক্লিপ এখন পুলিশের হাতে রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, বেপরোয়া এবং উশৃংখল জীবনযাপন করতো মিশু ও তার মা লাকি আকতার। গত কয়েকদিন ধরে মিশুর হালিশহরের বাসায় কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

মিশুর বাসায় প্রতিরাতে বসত নাচ-গানের আসর

আপডেট টাইম : ০৬:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : image_1_70নওগাঁয় এক স্ত্রী রয়েছে। সেখানে আছে দুই সন্তান। পরিবারের লোকজন জানতেন সেটিই সুখের সংসার। কিন্তু মৃত্যুর পর বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য। মিশু নামের এক মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল তার। গত জুন মাসে গোপনে বিয়ে হয় তাদের। এরপর থেকে আলাদা বাসা নিয়ে প্রথম স্ত্রীর অগোচরে থাকতেন তিনি। আর এ নিয়ে অশান্তি শুরু। সেখান থেকেই হত্যা। চট্টগ্রামে কাজী আবদুল হাসিব মোহাম্মদ সাঈদ (৪৭) নামের এই বিচারকের মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হালিশহর থানার মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিচারক আবু সাঈদকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে তার মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এ কাজটি খুবই কৌশলে করার চেষ্টা করেন স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশু ও শাশুড়ি লাকী আক্তার। সাঈদের মাথার খুলিতে গর্ত দেখা যায়। মাথার খুলি থেকে মৃত্যুর সময় তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। নিহতের গলায় কালো দাগ দেখা যায়। হাত-পা ছিল স্বাভাবিক। এ ঘটনায় হালিশহর থানার এসআই মকবুল মিয়া বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিচারকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী সনজিদা আক্তার মিশু, শাশুড়ি লাকি আক্তার, শ্যালক ইমরান হোসেন, শ্বশুর নাছির আহমদ এবং গৃহপরিচারিকা রীমা আক্তারকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বিচারকের শ্বশুর নাছির আহমদ ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, আদালতে বড় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। এ সময় একদিন মায়ের সঙ্গে সেখানে যান মিশু। তারপর নজরে পড়ে যান বিচারক সাঈদের। আদালতপাড়ায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের ডাক দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুসম্পর্ক তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে। সেখান থেকেই সাঈদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয় কথিত স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশুর। তবে বিচারক সাঈদকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করলেও কোন ধরনের কাগজপত্র কিংবা কাবিননামার কপি উপস্থাপন করতে পারেন নি। এ ঘটনায় একজন কাজীর কথা বললেও তার কোন হদিস মিলছে না। খুনের ব্যাপারেও কোন ধরনের তথ্য দিতে চাইছে না মা-মেয়ে। গত দু’দিন ধরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিচারকের মারা যাওয়ার ব্যাপারে নীরব রয়েছে তারা। জানতে চাইলে মিশুর আচরণ সন্দেহজনক বলে জানান নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, আবু সাঈদের কথিত স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিশুর বাসায় প্রতিরাতে বসত নাচ-গান আর মাদকের আসর। সন্ধ্যা হলেই এ আসরে যোগ দিতে হাজির হতো বিত্তবান পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানরা। আসরে এক সঙ্গে নাচ করতেন মিশুর মা লাকি আকতার ও বাবা নাসির আহমেদ। মিশু ও তার বাবা নাসিরও এক সঙ্গে নৃত্য করতো। মোবাইল মেমোরিতে থাকা এমন একটি ভিডিও ক্লিপ এখন পুলিশের হাতে রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, বেপরোয়া এবং উশৃংখল জীবনযাপন করতো মিশু ও তার মা লাকি আকতার। গত কয়েকদিন ধরে মিশুর হালিশহরের বাসায় কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।