পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

তিন বছরের সন্তান করোনায় আক্রান্ত জেনেও কোলে নিলেন মা

ডেস্কঃ ‘একসঙ্গে থাকলাম। আমার কিছুই হলো না। কিন্তু বাবুটার কীভাবে কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। কোনোভাবেই কান্না থামে না তার। বাবুর কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না আমি। তার কান্না দেখে আমিও কাঁদছি। ওদিকে তার বাবার অবস্থাও ভালো না। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

কেঁদে কেঁদে এভাবেই কথাগুলো বললেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত তিন বছরের এক শিশুর মা। উপজেলার বাজিতপুর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত বাবার তিন বছরের শিশুরও করোনা পজেটিভ এসেছে।
এর আগে আক্রান্ত বাবাকে শনিবার রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। পরে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, তিন বছরের শিশুর করোনা পজেটিভ। তার মায়ের করোনা নেগেটিভ।

বর্তমানে তারা সবাই রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তবে আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা বলা হলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন। এতে করোনার ঝুঁকি রয়েছে শিশুটির মায়ের।

জানতে চাইলে শিশুটির মা বলেন, জন্মের পর থেকে বাবুর ঠান্ডাজনিত অনেক সমস্যা। দুই মাস আগে বাবুরে নিয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। একটু ঠান্ডা লাগলেই নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে ডাক্তার বললেন বাবুর করোনা।

তিনি বলেন, বাবুর বাবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনা হয়। আমাদের একসঙ্গে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি রুমে থাকছি আমরা। বাইর থেকে আমাদের রুমের দরজা লাগানো। বদ্ধঘরে সারাক্ষণ কাঁদে বাবু। কোনোভাবেই কান্না থামে না তার। করোনা জেনেও মাঝে মধ্যে কোলে নিই। তবুও কান্না থামে না। পাশের রুমে তার বাবা। সেখানেও নেয়া যাচ্ছে না। এভাবে পাঁচদিন ধরে বাবুরে নিয়ে বসে আছি। ফেলেও যেতে পারছি না, ও তো আমার বুকের ধন। কোথায় ফেলব।

কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন শিশুটির বাবা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুর বাবা ঢাকার কদমতলীর ফলের দোকানের কর্মচারী। ঢাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হন। সেখান থেকে রাজৈরে নিজ গ্রামে আসেন। এলাকার লোকজনের বাধার কারণে অন্যের বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে একদিন গোপনে বাড়ি আসে। কারণ ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার সম্পর্কে এলাকায় খবর আসে করোনায় আক্রান্ত। পরে পরীক্ষা করালে তার করোনা ধরা পড়ে। এরই মধ্যে শিশুটির শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। ৯ এপ্রিল হাসপাতালে পরীক্ষা করতে নিয়ে আসি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে শিশুরও করোনা। ১১ এপ্রিল হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয় আমাদের।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আগে শিশুটির বাবার করোনা পজেটিভ আসে। ১২ এপ্রিল শিশু ও তার মায়ের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে মায়ের করোনা নেগেটিভ এলেও শিশুটির পজেটিভ আসে। বর্তমানে তারা সবাই রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তবে আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা বলা হলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন। এতে করোনার ঝুঁকি রয়েছে শিশুটির মায়ের।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিঠুন বিশ্বাস বলেন, রাজৈরের প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। শিশুটির রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তার মায়ের নেগেটিভ এসেছে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা থাকলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

তিন বছরের সন্তান করোনায় আক্রান্ত জেনেও কোলে নিলেন মা

আপডেট টাইম : ০১:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০

ডেস্কঃ ‘একসঙ্গে থাকলাম। আমার কিছুই হলো না। কিন্তু বাবুটার কীভাবে কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। কোনোভাবেই কান্না থামে না তার। বাবুর কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না আমি। তার কান্না দেখে আমিও কাঁদছি। ওদিকে তার বাবার অবস্থাও ভালো না। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

কেঁদে কেঁদে এভাবেই কথাগুলো বললেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত তিন বছরের এক শিশুর মা। উপজেলার বাজিতপুর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত বাবার তিন বছরের শিশুরও করোনা পজেটিভ এসেছে।
এর আগে আক্রান্ত বাবাকে শনিবার রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। পরে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, তিন বছরের শিশুর করোনা পজেটিভ। তার মায়ের করোনা নেগেটিভ।

বর্তমানে তারা সবাই রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তবে আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা বলা হলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন। এতে করোনার ঝুঁকি রয়েছে শিশুটির মায়ের।

জানতে চাইলে শিশুটির মা বলেন, জন্মের পর থেকে বাবুর ঠান্ডাজনিত অনেক সমস্যা। দুই মাস আগে বাবুরে নিয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। একটু ঠান্ডা লাগলেই নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে ডাক্তার বললেন বাবুর করোনা।

তিনি বলেন, বাবুর বাবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনা হয়। আমাদের একসঙ্গে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি রুমে থাকছি আমরা। বাইর থেকে আমাদের রুমের দরজা লাগানো। বদ্ধঘরে সারাক্ষণ কাঁদে বাবু। কোনোভাবেই কান্না থামে না তার। করোনা জেনেও মাঝে মধ্যে কোলে নিই। তবুও কান্না থামে না। পাশের রুমে তার বাবা। সেখানেও নেয়া যাচ্ছে না। এভাবে পাঁচদিন ধরে বাবুরে নিয়ে বসে আছি। ফেলেও যেতে পারছি না, ও তো আমার বুকের ধন। কোথায় ফেলব।

কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন শিশুটির বাবা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুর বাবা ঢাকার কদমতলীর ফলের দোকানের কর্মচারী। ঢাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হন। সেখান থেকে রাজৈরে নিজ গ্রামে আসেন। এলাকার লোকজনের বাধার কারণে অন্যের বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে একদিন গোপনে বাড়ি আসে। কারণ ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার সম্পর্কে এলাকায় খবর আসে করোনায় আক্রান্ত। পরে পরীক্ষা করালে তার করোনা ধরা পড়ে। এরই মধ্যে শিশুটির শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। ৯ এপ্রিল হাসপাতালে পরীক্ষা করতে নিয়ে আসি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে শিশুরও করোনা। ১১ এপ্রিল হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয় আমাদের।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আগে শিশুটির বাবার করোনা পজেটিভ আসে। ১২ এপ্রিল শিশু ও তার মায়ের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে মায়ের করোনা নেগেটিভ এলেও শিশুটির পজেটিভ আসে। বর্তমানে তারা সবাই রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তবে আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা বলা হলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন। এতে করোনার ঝুঁকি রয়েছে শিশুটির মায়ের।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিঠুন বিশ্বাস বলেন, রাজৈরের প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। শিশুটির রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তার মায়ের নেগেটিভ এসেছে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা। করোনা আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার কথা থাকলেও শিশুটিকে রাখা যাচ্ছে না। শিশুটির পাশে তার মা রয়েছেন।