পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ঘরে সাড়ে ৭ মাসের শিশু, দিনরাত মানুষের সেবায় কসবার এসিল্যান্ড হাসিবা

ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খানের মেয়ে আনাবিয়া-নূরের বয়স সাড়ে সাত মাস। মা ঘরে এলেই ছুটে এসে কোলে উঠতে চায় ছোট্ট ওই দুধের শিশু।

কিন্তু নিজেকে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত না করে কোলে না নিতে পারার যন্ত্রণা হয়তো তাড়া করে বেড়ায় দুজনকেই। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিদিন হাসিবা খানকে।

পরিবারের সদস্যদের মায়া ত্যাগ করে কসবা উপজেলায় হাসিবা খান রাত-দিন কাজ করছেন দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে জনগণকে সেবা দিতে ভয় নয়, সাড়ে সাত মাস বয়সী একমাত্র দুধের শিশু সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে ছিলেন হাসিবা খান। তবে সব বাঁধা পেরিয়ে হাসিবা খান নিজেকে পুরোপুরি জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত করেছেন।

করোনাযুদ্ধে কসবার স্থানীয় বাজার গুলোতে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন প্রতিদিন তিনি। জনসাধারণের জরুরি সেবার জন্য তিনি সরকারি নাম্বারের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নাম্বারটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখেছেন। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও মানুষজনকে সচেতন করতে কসবা উপজেলা জুড়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করছেন তিনি।

জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলারও অনুরোধ করছেন। শিশু সন্তান রেখে কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের জন্য তার এই যুদ্ধকে প্রশংসনীয় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদ উল আলমের নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন হাসিবা খান। তিনি এই সময়ে স্বামীর সাপোর্টটাও পাচ্ছেন না। পুলিশে কর্মরত বিধায় তিনি আছেন নিজ দায়িত্বে।

এই ব্যাপারে কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খান জানান, এখন ব্যক্তিগত সমস্যার চেয়ে জনস্বার্থ অনেক জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সাড়ে সাত মাস বয়সী মেয়ে আনাবিয়া-নূরকে সামলাতে ভার্সিটি পড়ুয়া আমার ছোট বোন ইসরাত জাহানকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এমনও হয়েছে যে কাজের মধ্যেই খবর পেলাম মেয়েটা কাঁদছে তখন ছুটে আসতে হয়। আবার কখনো তাৎক্ষণিক ছুটে আসাও সম্ভব হয় না। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নের কথা মাথায় রেখে এভাবেই মানিয়ে চলছি। এতে তিনি নিজেও আনন্দিত বলে জানান।

–++++++++++
যুগান্তর

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ঘরে সাড়ে ৭ মাসের শিশু, দিনরাত মানুষের সেবায় কসবার এসিল্যান্ড হাসিবা

আপডেট টাইম : ১০:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২০

ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খানের মেয়ে আনাবিয়া-নূরের বয়স সাড়ে সাত মাস। মা ঘরে এলেই ছুটে এসে কোলে উঠতে চায় ছোট্ট ওই দুধের শিশু।

কিন্তু নিজেকে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত না করে কোলে না নিতে পারার যন্ত্রণা হয়তো তাড়া করে বেড়ায় দুজনকেই। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিদিন হাসিবা খানকে।

পরিবারের সদস্যদের মায়া ত্যাগ করে কসবা উপজেলায় হাসিবা খান রাত-দিন কাজ করছেন দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে জনগণকে সেবা দিতে ভয় নয়, সাড়ে সাত মাস বয়সী একমাত্র দুধের শিশু সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে ছিলেন হাসিবা খান। তবে সব বাঁধা পেরিয়ে হাসিবা খান নিজেকে পুরোপুরি জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত করেছেন।

করোনাযুদ্ধে কসবার স্থানীয় বাজার গুলোতে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন প্রতিদিন তিনি। জনসাধারণের জরুরি সেবার জন্য তিনি সরকারি নাম্বারের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নাম্বারটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখেছেন। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও মানুষজনকে সচেতন করতে কসবা উপজেলা জুড়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করছেন তিনি।

জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলারও অনুরোধ করছেন। শিশু সন্তান রেখে কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের জন্য তার এই যুদ্ধকে প্রশংসনীয় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদ উল আলমের নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন হাসিবা খান। তিনি এই সময়ে স্বামীর সাপোর্টটাও পাচ্ছেন না। পুলিশে কর্মরত বিধায় তিনি আছেন নিজ দায়িত্বে।

এই ব্যাপারে কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খান জানান, এখন ব্যক্তিগত সমস্যার চেয়ে জনস্বার্থ অনেক জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সাড়ে সাত মাস বয়সী মেয়ে আনাবিয়া-নূরকে সামলাতে ভার্সিটি পড়ুয়া আমার ছোট বোন ইসরাত জাহানকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এমনও হয়েছে যে কাজের মধ্যেই খবর পেলাম মেয়েটা কাঁদছে তখন ছুটে আসতে হয়। আবার কখনো তাৎক্ষণিক ছুটে আসাও সম্ভব হয় না। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নের কথা মাথায় রেখে এভাবেই মানিয়ে চলছি। এতে তিনি নিজেও আনন্দিত বলে জানান।

–++++++++++
যুগান্তর