পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ভর্তি নেয়নি কোনো হাসপাতাল, ছেলের সামনে মায়ের মৃত্যু

ডেস্কঃ শরীরে জ্বর থাকায় সালমা খাতুন (৬৭) নামে এক বৃদ্ধাকে ভর্তি নেয়নি ফেনীর কোনো হাসপাতাল। পরে স্বজনদের সামনে রাস্তায় মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার।

বুধবার (২৪ জুন) মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে। মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের বাদশা মিয়াজী বাড়ির সফিউল্লাহর স্ত্রী। একই দিন বাদ আসর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
ওই বৃদ্ধার ছেলে কামাল উদ্দিন জানান, তার মা গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত সোমবার সকালে ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে ভর্তি করান। কিন্তু সেদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসা না দেয়ায় বিকেলে সেখান থেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে একে একে শহরের আলকেমি হাসপাতাল, আল-বারাকা হাসপাতাল, কার্ডিয়াক হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল, ইবনে হাসমান হাসপাতালে নিলেও ভর্তি করাতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিরূপায় হয়ে সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি নিয়ে যান। বুধবার আবার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে তাকে সিএনজিযোগে শহরে নিয়ে আসেন ছেলে কামাল উদ্দিন ও জামাতা নজরুল ইসলাম। তারা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভর্তি করাতে পুনরায় ফেনী কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যান। এবারও ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে সিএনজিতে তাকে রেখে ছেলে ও জামাতা মিলে পরামর্শ করছিলেন। এ সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই বৃদ্ধা। সালমা খাতুনের জামাতা নজরুল ইসলাম জানান, কোনো হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন তার শাশুড়ি। মৃত্যুর আগে তার ১০২ ডিগ্রি জ্বর ছিল। পপুলারে পরীক্ষার রিপোর্টে তার টাইফয়েড ধরা পড়েছিল।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেছে এমন তথ্য আমাকে জানায়নি কেউ। তাই নমুনাও সংগ্রহ করা হয়নি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ভর্তি নেয়নি কোনো হাসপাতাল, ছেলের সামনে মায়ের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৬:০০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

ডেস্কঃ শরীরে জ্বর থাকায় সালমা খাতুন (৬৭) নামে এক বৃদ্ধাকে ভর্তি নেয়নি ফেনীর কোনো হাসপাতাল। পরে স্বজনদের সামনে রাস্তায় মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার।

বুধবার (২৪ জুন) মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে। মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের বাদশা মিয়াজী বাড়ির সফিউল্লাহর স্ত্রী। একই দিন বাদ আসর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
ওই বৃদ্ধার ছেলে কামাল উদ্দিন জানান, তার মা গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত সোমবার সকালে ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে ভর্তি করান। কিন্তু সেদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসা না দেয়ায় বিকেলে সেখান থেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে একে একে শহরের আলকেমি হাসপাতাল, আল-বারাকা হাসপাতাল, কার্ডিয়াক হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল, ইবনে হাসমান হাসপাতালে নিলেও ভর্তি করাতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিরূপায় হয়ে সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি নিয়ে যান। বুধবার আবার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে তাকে সিএনজিযোগে শহরে নিয়ে আসেন ছেলে কামাল উদ্দিন ও জামাতা নজরুল ইসলাম। তারা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভর্তি করাতে পুনরায় ফেনী কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যান। এবারও ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে সিএনজিতে তাকে রেখে ছেলে ও জামাতা মিলে পরামর্শ করছিলেন। এ সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই বৃদ্ধা। সালমা খাতুনের জামাতা নজরুল ইসলাম জানান, কোনো হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন তার শাশুড়ি। মৃত্যুর আগে তার ১০২ ডিগ্রি জ্বর ছিল। পপুলারে পরীক্ষার রিপোর্টে তার টাইফয়েড ধরা পড়েছিল।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেছে এমন তথ্য আমাকে জানায়নি কেউ। তাই নমুনাও সংগ্রহ করা হয়নি।