অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

কন্যা সন্তান জন্ম হলেই উপহার হাতে ছুটে যান পুলিশ পরিদর্শক মোশারফ

টাঙ্গাইল: সাইফুর রহমান ফারুক। টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে বাসায় তার সদ্যজাত কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রসূতি স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সাথীর সঙ্গে গল্প করছিলেন।
হঠাৎ বিকেল ৪টার দিকে তাদের বাসায় হাজির হন টাঙ্গাইলের কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোশারফ হোসেন।

হাজির হয়েই কন্যা সন্তানের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী।
এভাবেই কাগমারিতে সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তান হওয়ার খবর পেলেই তার বাবা-মায়ের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ডায়াপার, লোশন এবং ক্রেস্ট।
এর আগে মোশারফ হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, কন্যা সন্তান বোঝা নয় আশির্বাদ, কন্যা সন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

কন্যা সন্তান জন্ম হলে ফোন করুন, উপহার পৌঁছে যাবে সঙ্গে সঙ্গেই।
বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ মোশারফ হোসেনের রুমে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলে অনেকগুলো ক্রেস্ট এবং প্যাকেট রাখা।

এসব কী জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন জানান, এগুলো কন্যা সন্তানদের উপহার সামগ্রী।

এমন উপহার পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত সুমাইয়া আক্তার সাথী এবং স্বামী সাইফুর রহমান ফারুক বাংলানিউজকে জানান, কন্যা সন্তান জন্ম হলেই পাবেন পুরস্কার- ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার এমন স্ট্যাটার্স দেখে তারা ইনচার্জ মোশারফ হোসেনকে নিজেদের মেয়ে জন্মের কথা জানান। পরে বিকেলে হঠাৎ করেই বাসায় এসে উপহার সামগ্রী দিয়ে যান তিনি। এমন উপহার পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।

কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমি গ্রামের সন্তান। গ্রামে দেখেছি, কন্যা সন্তান জন্ম নিলে অনেকে মন খারাপ করেন। এমনটা যাতে কেউ না করেন, সেজন্য মেয়ের বাবা-মাকে উৎসাহ দিতে এবং ছেলে-মেয়ে সবাই সমান-এটা বোঝাতে আমি এমন উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে মেয়েরা শিক্ষায় এবং কর্মজীবনে এখন অনেক এগিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারীরা আছে। তাই মেয়ে কোনো বোঝা নয়। সঠিকভাবে বড় করতে পারলে ছেলে-মেয়ে সবাই মানবসম্পদ হবে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

কন্যা সন্তান জন্ম হলেই উপহার হাতে ছুটে যান পুলিশ পরিদর্শক মোশারফ

আপডেট টাইম : ১১:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

টাঙ্গাইল: সাইফুর রহমান ফারুক। টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে বাসায় তার সদ্যজাত কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রসূতি স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সাথীর সঙ্গে গল্প করছিলেন।
হঠাৎ বিকেল ৪টার দিকে তাদের বাসায় হাজির হন টাঙ্গাইলের কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোশারফ হোসেন।

হাজির হয়েই কন্যা সন্তানের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী।
এভাবেই কাগমারিতে সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তান হওয়ার খবর পেলেই তার বাবা-মায়ের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ডায়াপার, লোশন এবং ক্রেস্ট।
এর আগে মোশারফ হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, কন্যা সন্তান বোঝা নয় আশির্বাদ, কন্যা সন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

কন্যা সন্তান জন্ম হলে ফোন করুন, উপহার পৌঁছে যাবে সঙ্গে সঙ্গেই।
বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ মোশারফ হোসেনের রুমে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলে অনেকগুলো ক্রেস্ট এবং প্যাকেট রাখা।

এসব কী জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন জানান, এগুলো কন্যা সন্তানদের উপহার সামগ্রী।

এমন উপহার পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত সুমাইয়া আক্তার সাথী এবং স্বামী সাইফুর রহমান ফারুক বাংলানিউজকে জানান, কন্যা সন্তান জন্ম হলেই পাবেন পুরস্কার- ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার এমন স্ট্যাটার্স দেখে তারা ইনচার্জ মোশারফ হোসেনকে নিজেদের মেয়ে জন্মের কথা জানান। পরে বিকেলে হঠাৎ করেই বাসায় এসে উপহার সামগ্রী দিয়ে যান তিনি। এমন উপহার পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।

কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমি গ্রামের সন্তান। গ্রামে দেখেছি, কন্যা সন্তান জন্ম নিলে অনেকে মন খারাপ করেন। এমনটা যাতে কেউ না করেন, সেজন্য মেয়ের বাবা-মাকে উৎসাহ দিতে এবং ছেলে-মেয়ে সবাই সমান-এটা বোঝাতে আমি এমন উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে মেয়েরা শিক্ষায় এবং কর্মজীবনে এখন অনেক এগিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারীরা আছে। তাই মেয়ে কোনো বোঝা নয়। সঠিকভাবে বড় করতে পারলে ছেলে-মেয়ে সবাই মানবসম্পদ হবে।