পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

গুলি বর্ষণের নির্দেশ দিলেন ইউএনও, হুকুমের আসামি মেয়র সাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন ইউএনও ও পুলিশ। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউএনও’র মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে।

আজ বৃহস্পতিবার রিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন সদর উপজেলা ইউএনও মুনিবুর রহমান। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একই থানায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। মামলা দুটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, ত্রাণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অলিউল্লাহ অলিসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রয়েছেন।

এ ঘটনায় বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য। তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদেরও দেখা যায়। এ সময় মেয়র বাড়িতে থাকলেও সেখান থেকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বরিশাল নগরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, আবেদনের প্রেক্ষিতে খুলনা থেকে বিজিবি এবং পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আনা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে ইউএনও মুনিবুর রহমানের উপস্থিতিতে আনসার সদস্যরা গুলি চালালে আওয়মী লীগ-ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগের দাবি- ব্যানার অপসারণে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাসভবন থেকে নিজে বের হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজে বাধা দেন। এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন ও তদের গুন্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করে মহানগর আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুকে হাত ধরে টেনে নিজের বাস ভবনে আটকে রাখেন। সেখানে উপস্থিত বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে তার নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ৩০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগ, সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা আটকে দেয় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

গুলি বর্ষণের নির্দেশ দিলেন ইউএনও, হুকুমের আসামি মেয়র সাদিক

আপডেট টাইম : ০৩:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন ইউএনও ও পুলিশ। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউএনও’র মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে।

আজ বৃহস্পতিবার রিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন সদর উপজেলা ইউএনও মুনিবুর রহমান। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একই থানায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। মামলা দুটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, ত্রাণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অলিউল্লাহ অলিসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রয়েছেন।

এ ঘটনায় বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য। তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদেরও দেখা যায়। এ সময় মেয়র বাড়িতে থাকলেও সেখান থেকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বরিশাল নগরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, আবেদনের প্রেক্ষিতে খুলনা থেকে বিজিবি এবং পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আনা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে ইউএনও মুনিবুর রহমানের উপস্থিতিতে আনসার সদস্যরা গুলি চালালে আওয়মী লীগ-ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগের দাবি- ব্যানার অপসারণে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাসভবন থেকে নিজে বের হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজে বাধা দেন। এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন ও তদের গুন্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করে মহানগর আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুকে হাত ধরে টেনে নিজের বাস ভবনে আটকে রাখেন। সেখানে উপস্থিত বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে তার নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ৩০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগ, সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা আটকে দেয় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।