অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

‘আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’

ডেস্ক: ‘আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’- গত রবিবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যানের কাছে হেরে এমন মন্তব্য করেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউপি নির্বাচনে নৌকা মনোনীত প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ।

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- দিন ইসলাম শেখ কয়েকজন কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘আগামীতে মনোনয়ন লাগবে না, ভোটও চাওয়া লাগবে না। এমনিতে পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কার মধ্যে আর নাই। নৌকা মার্কা না আনলে পাশ করবো নিশ্চিত।’

দ্বীন ইসলাম শেখ তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পিছনে কী হইছে সেটা দেখবো না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখবো, এগিয়ে যাবো। আজকে আমরা, চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন? চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই। চাইলে আল্লারে পাওয়া যায়। এটা তো চেয়ারম্যানিওই। কী বলেন? এবারও পারতাম, দুই-চারটা মরতো হয়তো। এই জন্য করি নাই। আগামীতে মনোনয়নও লাগবে না, ভোটও আপনাগো চাওয়া লাগবে না, এমনি আমরা পাস করুম ইনশাল্লাহ।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম, আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি নয়জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিলো, আমার ভাগ্নেকে মারধর করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে তাই বলেছি কথাগুলো।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার বলেন, নির্বাচনে পাস ফেল থাকবে, তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, অনেক নেতাকর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি, উনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

‘আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’

আপডেট টাইম : ০৪:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

ডেস্ক: ‘আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’- গত রবিবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যানের কাছে হেরে এমন মন্তব্য করেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউপি নির্বাচনে নৌকা মনোনীত প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ।

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- দিন ইসলাম শেখ কয়েকজন কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘আগামীতে মনোনয়ন লাগবে না, ভোটও চাওয়া লাগবে না। এমনিতে পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কার মধ্যে আর নাই। নৌকা মার্কা না আনলে পাশ করবো নিশ্চিত।’

দ্বীন ইসলাম শেখ তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পিছনে কী হইছে সেটা দেখবো না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখবো, এগিয়ে যাবো। আজকে আমরা, চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন? চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই। চাইলে আল্লারে পাওয়া যায়। এটা তো চেয়ারম্যানিওই। কী বলেন? এবারও পারতাম, দুই-চারটা মরতো হয়তো। এই জন্য করি নাই। আগামীতে মনোনয়নও লাগবে না, ভোটও আপনাগো চাওয়া লাগবে না, এমনি আমরা পাস করুম ইনশাল্লাহ।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম, আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি নয়জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিলো, আমার ভাগ্নেকে মারধর করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে তাই বলেছি কথাগুলো।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার বলেন, নির্বাচনে পাস ফেল থাকবে, তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, অনেক নেতাকর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি, উনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।