পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬ Logo মাদরাসাশিক্ষক গ্রেফতার: ছাত্রীকে অজ্ঞান করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ, খাওয়াতো হতো জন্মনিয়ন্ত্রক Logo স্পষ্ট হচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের লক্ষণ, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও Logo সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি Logo মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে সুইচ গিয়ারসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo এনসিপির শীর্ষ পদ পেয়েছেন ছাগল চোর, নারী ও অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতরা: রাশেদ খান Logo বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ !

“এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণের দাবি”

ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর আয়োজনে দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ।

শনিবার (১৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী সাহেবজাদা ফুলতলী। এছাড়া অতিথি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ।

মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার প্রাইমারি স্কুল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে। এ ছাড়াও এনজিও পরিচালিত হাজার হাজার স্কুল উপজেলা প্রশাসন থেকে কোড নাম্বার নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। অথচ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ৬৮৮২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বাস্তবতার আলোকে বলা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের আওতায় নেওয়া জরুরি।

দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ বলেন, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো অর্ধশতাধিক পিটিআই রয়েছে। অথচ সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ১৫ হাজারের অধিক মাদ্রাসার জন্য বিগত ৪৮ বছরেও একজন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রাইমারি শিক্ষার উন্নয়নকল্পে প্রাক-প্রাথমিক স্তর রয়েছে। সেখানে শিক্ষক বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৩৭ হাজার ৬৭২ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু মাদ্রসার জন্য এ স্তর খোলার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, একই দেশে ডিগ্রি ও মাস্টার ডিগ্রি পান প্রাইমারি হেড মাস্টার ও শিক্ষকরা যে কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুসরণ করে পাঠদান করেছেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধানগণ ফাজিল (ডিগ্রি) ও কামিল (মাস্টার ডিগ্রি) সনদ নিয়ে একই কারিকুলাম ও সিলেবাসে পাঠদান করে যাচ্ছেন। উপরন্ত মাদ্রাসার স্বকীয় ৪টি অতিরিক্ত বিষয় পাঠদান করে যাচ্ছেন। অথচ এবতেদায়ী প্রধান একজন অফিস সহকারীর সমান বেতন পাচ্ছেন। একই দেশে এ বৈষম্য আর কতদিন চলবে বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি৷

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• মাদ্রাসার এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণের আওতায় নেওয়া।
• মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এবতেদায়ী নীতিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন কর।
• দেশের ৯১% ভাগ মুসলিম ও ৭% ভাগ বিভিন্নধর্মে বিশ্বাসী তথা শতভাগ মানুষের ঈমান, আকীদা, দেশপ্রেমের মানষিকতা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাক্রমকে সংশোধন করা, যাতে শিক্ষার্থীগণ ইমান- আকীদা ও বিশ্বাস নিয়ে গড়ে উঠে।
• স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহকে প্রাইমারীর মত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা।
• নতুন এবতেদায়ী মাদ্রাসা মঞ্জুরীর স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া।
• এবতেদায়ী স্তরের শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণের জন্য পিটিআইয়ের আদলে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা।
• এবতেদায়ী শিক্ষকগণকে প্রাইমারি স্কুলের মতো বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।

ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর সভাপতি ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ওসমান গণি সালেহী, মাওলানা শাহ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম মারুফ আল মাদানী, ড. মো শহিদুল হক, প্রফেসর ড. এম আব্দুল আজিজ, প্রফেসর ড. মোঃ রুহুল আমীন, প্রফেসর ড. মোঃ হানিফ খান, মাওলানা মিজানুর রহমান, প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা

“এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণের দাবি”

আপডেট টাইম : ১২:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩

ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর আয়োজনে দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ।

শনিবার (১৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী সাহেবজাদা ফুলতলী। এছাড়া অতিথি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ।

মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার প্রাইমারি স্কুল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে। এ ছাড়াও এনজিও পরিচালিত হাজার হাজার স্কুল উপজেলা প্রশাসন থেকে কোড নাম্বার নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। অথচ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ৬৮৮২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বাস্তবতার আলোকে বলা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের আওতায় নেওয়া জরুরি।

দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ বলেন, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো অর্ধশতাধিক পিটিআই রয়েছে। অথচ সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ১৫ হাজারের অধিক মাদ্রাসার জন্য বিগত ৪৮ বছরেও একজন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রাইমারি শিক্ষার উন্নয়নকল্পে প্রাক-প্রাথমিক স্তর রয়েছে। সেখানে শিক্ষক বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৩৭ হাজার ৬৭২ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু মাদ্রসার জন্য এ স্তর খোলার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, একই দেশে ডিগ্রি ও মাস্টার ডিগ্রি পান প্রাইমারি হেড মাস্টার ও শিক্ষকরা যে কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুসরণ করে পাঠদান করেছেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধানগণ ফাজিল (ডিগ্রি) ও কামিল (মাস্টার ডিগ্রি) সনদ নিয়ে একই কারিকুলাম ও সিলেবাসে পাঠদান করে যাচ্ছেন। উপরন্ত মাদ্রাসার স্বকীয় ৪টি অতিরিক্ত বিষয় পাঠদান করে যাচ্ছেন। অথচ এবতেদায়ী প্রধান একজন অফিস সহকারীর সমান বেতন পাচ্ছেন। একই দেশে এ বৈষম্য আর কতদিন চলবে বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি৷

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• মাদ্রাসার এবতেদায়ী স্তরকে জাতীয়করণের আওতায় নেওয়া।
• মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এবতেদায়ী নীতিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন কর।
• দেশের ৯১% ভাগ মুসলিম ও ৭% ভাগ বিভিন্নধর্মে বিশ্বাসী তথা শতভাগ মানুষের ঈমান, আকীদা, দেশপ্রেমের মানষিকতা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাক্রমকে সংশোধন করা, যাতে শিক্ষার্থীগণ ইমান- আকীদা ও বিশ্বাস নিয়ে গড়ে উঠে।
• স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহকে প্রাইমারীর মত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা।
• নতুন এবতেদায়ী মাদ্রাসা মঞ্জুরীর স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া।
• এবতেদায়ী স্তরের শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণের জন্য পিটিআইয়ের আদলে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা।
• এবতেদায়ী শিক্ষকগণকে প্রাইমারি স্কুলের মতো বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।

ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর সভাপতি ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ওসমান গণি সালেহী, মাওলানা শাহ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম মারুফ আল মাদানী, ড. মো শহিদুল হক, প্রফেসর ড. এম আব্দুল আজিজ, প্রফেসর ড. মোঃ রুহুল আমীন, প্রফেসর ড. মোঃ হানিফ খান, মাওলানা মিজানুর রহমান, প্রমুখ।