পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বালুময় চরাঞ্চলে কৃষক স্বপ্ন বুনছে।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের প্রান্তিক চাষিরা। দেখা গেছে, তিস্তা, ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটের প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চল রয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব বালুচরে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা ।
ভোরের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সব সদস্য একযোগে কৃষি কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন। পুরুষদের সাথে পরিবারের নারী সদস্যরাও কৃষিকাজে যোগ দিচ্ছেন। চর অঞ্চলের বালুময় জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোই এক মাত্র উদ্দেশ্য চরাঞ্চলের চাষীরা এতেই তাদের জীবন জীবিকা নিহত রয়েছে। তাই ফসলের ভালো ফলন পেতে দিনভর মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন তারা।
গতবারের বন্যায় আমন ধানের ক্ষেত বন্যা আর ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। অনেক কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে পড়েছে। খাদ্যের যোগান ও সংসারের খরচ মেটাতে বালুময় জমিতে ফসল ফলানোর সংগ্রামে নেমে পড়েছেন চরবাসী। চরা লের এসব বালু জমিতে প্রচুর সেচ দিয়ে আলু, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, তামাক, মরিচ, রসুন ও পেঁয়াজসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করেন চরবাসী।
তবে সেচ ব্যবস্থা চাষাবাদে সবথেকে বড় সমস্যা এ অঞ্চলের চাষীদের। বালু জমি হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে হয় চাষিদের। তার ওপর প্রত্যেক চাষির সেচ পাম্প নেই। ফলে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি পলিথিনের বিশেষ পাইপ দিয়ে প্রতি ঘণ্টা ১০০ টাকারও বেশী দামে কিনতে হয় তাদের সেটা ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমের। এভাবেই কঠোর শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে স্বপ্ন বোনেন চরা লের চাষিরা গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান ছিল অনেক চাষির। বর্তমানে অনেকেরে কিছুই নেই। যা আছে সবই ধু ধু বালুর চর। সংসার চালাতে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই এই বালু চরে পানি সেচ দিয়ে ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর চাষাবাদ করছি। একই চরের কৃষকরা বলেন, একসময় জমি-জিরাত সবই ছিল। তিস্তা তা কেড়ে নিয়েছে। শীত মৌসমে পানি কমে যাওয়ায় সেই বসত-ভিটার জায়গা আবার জেগে উঠেছে। আর সেই বসত-ভিটায় এখন তাংকু (তামাক) আবাদ করছি। তাংকু বিক্রি করে সারা বছর সংসারের খরচ চালাতে হবে। লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এ বছর কৃষিপণ্যের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা কোনো জমি পতিত রাখছে না। তারা নানা কৌশলে তিস্তার চরগুলোতেও চাষাবাদ করেছেন। তবে কৃষকরা বলছেন শীতের কারণে ফসল টিকিয়ে রাখতে ব্যয় বাড়ছে।

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বালুময় চরাঞ্চলে কৃষক স্বপ্ন বুনছে।

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের প্রান্তিক চাষিরা। দেখা গেছে, তিস্তা, ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটের প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চল রয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব বালুচরে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা ।
ভোরের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সব সদস্য একযোগে কৃষি কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন। পুরুষদের সাথে পরিবারের নারী সদস্যরাও কৃষিকাজে যোগ দিচ্ছেন। চর অঞ্চলের বালুময় জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোই এক মাত্র উদ্দেশ্য চরাঞ্চলের চাষীরা এতেই তাদের জীবন জীবিকা নিহত রয়েছে। তাই ফসলের ভালো ফলন পেতে দিনভর মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন তারা।
গতবারের বন্যায় আমন ধানের ক্ষেত বন্যা আর ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। অনেক কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে পড়েছে। খাদ্যের যোগান ও সংসারের খরচ মেটাতে বালুময় জমিতে ফসল ফলানোর সংগ্রামে নেমে পড়েছেন চরবাসী। চরা লের এসব বালু জমিতে প্রচুর সেচ দিয়ে আলু, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, তামাক, মরিচ, রসুন ও পেঁয়াজসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করেন চরবাসী।
তবে সেচ ব্যবস্থা চাষাবাদে সবথেকে বড় সমস্যা এ অঞ্চলের চাষীদের। বালু জমি হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে হয় চাষিদের। তার ওপর প্রত্যেক চাষির সেচ পাম্প নেই। ফলে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি পলিথিনের বিশেষ পাইপ দিয়ে প্রতি ঘণ্টা ১০০ টাকারও বেশী দামে কিনতে হয় তাদের সেটা ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমের। এভাবেই কঠোর শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে স্বপ্ন বোনেন চরা লের চাষিরা গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান ছিল অনেক চাষির। বর্তমানে অনেকেরে কিছুই নেই। যা আছে সবই ধু ধু বালুর চর। সংসার চালাতে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই এই বালু চরে পানি সেচ দিয়ে ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর চাষাবাদ করছি। একই চরের কৃষকরা বলেন, একসময় জমি-জিরাত সবই ছিল। তিস্তা তা কেড়ে নিয়েছে। শীত মৌসমে পানি কমে যাওয়ায় সেই বসত-ভিটার জায়গা আবার জেগে উঠেছে। আর সেই বসত-ভিটায় এখন তাংকু (তামাক) আবাদ করছি। তাংকু বিক্রি করে সারা বছর সংসারের খরচ চালাতে হবে। লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এ বছর কৃষিপণ্যের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা কোনো জমি পতিত রাখছে না। তারা নানা কৌশলে তিস্তার চরগুলোতেও চাষাবাদ করেছেন। তবে কৃষকরা বলছেন শীতের কারণে ফসল টিকিয়ে রাখতে ব্যয় বাড়ছে।